খবরবাংলা ডেস্ক :
এশিয়া কাপ ওয়ার্ল্ড র্যাংকিং টুর্নামেন্টের দ্বিতীয় লেগে ঐতিহাসিক স্বর্ণপদকসহ একাধিক পদক জিতে দেশে ফিরেছে বাংলাদেশ আর্চারি দল। ইরাকের সুলাইমানিয়ায় অনুষ্ঠিত প্রতিযোগিতায় রিকার্ভ পুরুষ দলীয় ইভেন্টে কাজাখস্তানকে হারিয়ে প্রথমবারের মতো এশিয়া কাপের স্বর্ণপদক জয়ের গৌরব অর্জন করেছেন বাংলাদেশের আর্চাররা।
রোববার (১ নভেম্বর) ভোরে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছায় দলটি। এ সময় তাদের উষ্ণ সংবর্ধনা জানানো হয়। আর্চারদের স্বাগত জানাতে বিমানবন্দরে উপস্থিত ছিলেন যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের ভারপ্রাপ্ত সচিব মো. মাহফুজুল আলম খান, বাংলাদেশ আর্চারি ফেডারেশনের সভাপতি কাজী রাজীব উদ্দিন আহমেদ চপল, সাধারণ সম্পাদক তানভীর আহমেদ এবং যুগ্ম সম্পাদক রুবেল হোসেন।
এবারের প্রতিযোগিতায় ব্যক্তিগত ইভেন্টেও ইতিহাস গড়েছেন বাংলাদেশের বন্যা আক্তার। নারী কম্পাউন্ড ব্যক্তিগত ফাইনালে কাজাখস্তানের মিলানা বুরলেভাকে ১৪৫-১৪৩ স্কোরে হারিয়ে স্বর্ণপদক জেতেন তিনি। এটি এশিয়া কাপে বাংলাদেশের হয়ে নারী কম্পাউন্ড ব্যক্তিগত ইভেন্টে প্রথম আন্তর্জাতিক স্বর্ণজয়ের নজির। এ ছাড়া নারী দলীয় ইভেন্টেও স্বর্ণপদক অর্জন করেছেন বাংলাদেশের আর্চাররা।
পুরুষদের রিকার্ভ দলীয় ইভেন্টে আব্দুর রহমান আলিফ, সাগর ইসলাম ও আবদুল্লাহ আল মোহাম্মদ রাফির সমন্বয়ে গড়া বাংলাদেশ দল কাজাখস্তানকে ৬-২ সেট পয়েন্টে হারিয়ে স্বর্ণ নিশ্চিত করে। পাশাপাশি ব্যক্তিগত ইভেন্টে ব্রোঞ্জপদক জিতেছেন কুলসুম আক্তার মনি।
দেশে ফিরে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে বন্যা আক্তার বলেন, এটি তার প্রথম ব্যক্তিগত এশিয়া কাপের স্বর্ণপদক। এ সাফল্য ভবিষ্যতে বিশ্বকাপ, বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপ ও অলিম্পিকের মতো বড় আসরে ভালো করার অনুপ্রেরণা জোগাবে। এবারের প্রতিযোগিতা থেকে পাওয়া অভিজ্ঞতা পরবর্তী আসরগুলোতে কাজে লাগাতে চান তিনি।
রিকার্ভ পুরুষ দলের স্বর্ণজয়কে দীর্ঘদিনের কঠোর পরিশ্রম ও সাধনার ফল হিসেবে দেখছেন দলের অন্যতম সদস্য সাগর ইসলাম। সামনে সংযুক্ত আরব আমিরাতে অনুষ্ঠেয় এশিয়ান ইয়ুথ চ্যাম্পিয়নশিপেও এ অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে সাফল্যের ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে চান তারা। বিশ্বকাপ ও অলিম্পিকেও বাংলাদেশের হয়ে পদক জয়ের স্বপ্নের কথা জানান সাগর। তবে এবারের প্রতিযোগিতায় প্রস্তুতির কিছু সীমাবদ্ধতা এবং ব্যক্তিগত ইভেন্টে প্রত্যাশা অনুযায়ী শতভাগ ফল না পাওয়ার আক্ষেপও রয়েছে তাদের।
দলের প্রধান কোচ ফ্রেডেরিক মার্টিনের মতে, এবারের টুর্নামেন্টের বড় অর্জন তরুণ আর্চারদের আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা অর্জন। তার ভাষ্য, দলের প্রায় ৮০ শতাংশ সদস্যই ছিলেন তরুণ ও নতুন মুখ। অনূর্ধ্ব-২১ ও অনূর্ধ্ব-১৮ পর্যায়ের খেলোয়াড়দের ভবিষ্যতের কথা বিবেচনায় রেখে এবং বড় মঞ্চের চাপ সামলানোর অভিজ্ঞতা দিতে তাদের এ প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়েছিল।
কোচের বিশ্বাস, বড় দর্শকগ্যালারি, উচ্চশব্দের ঘোষণা এবং বড় ভিডিও স্ক্রিনের সামনে আন্তর্জাতিক ফাইনালে অংশ নেওয়ার অভিজ্ঞতা আগামী ডিসেম্বরে অনুষ্ঠেয় যুব এশিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপে দলকে মানসিকভাবে এগিয়ে রাখবে।
এদিকে দেশের ক্রীড়াবিদদের মানোন্নয়নে সরকারের দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেছেন যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের ভারপ্রাপ্ত সচিব মো. মাহফুজুল আলম খান। তিনি জানান, বিভিন্ন খেলায় প্রতিভাবান প্রায় ৩০০ জন নিবন্ধিত খেলোয়াড়কে বর্তমানে মাসিক এক লাখ টাকা করে ক্রীড়া ভাতা দেওয়া হচ্ছে।
এ ছাড়া তৃণমূল পর্যায় থেকে প্রতিভাবান তরুণ খেলোয়াড় বাছাই করে তাদের বিকেএসপিতে পড়াশোনা ও আধুনিক প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করছে সরকার। প্রতিটি ক্রীড়া ফেডারেশনের আন্তর্জাতিক ক্যালেন্ডার ও প্রতিযোগিতার সূচি অনুযায়ী বছরব্যাপী প্রশিক্ষণ পরিকল্পনা তৈরির উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে। সরকারের লক্ষ্য শুধু আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ নয়, বরং বিশ্বমঞ্চ থেকে পদক অর্জন করা।











