গোপালপুর সংবাদ দাতা
টাঙ্গাইলের গোপালপুর উপজেলার ধোপাকান্দি ইউনিয়নের পঞ্চাশ গ্রামের বাসিন্দা আলমগীর হোসাইন জীবিকার আশায় ইরাকে গিয়ে দালালচক্রের নির্যাতনের শিকার হয়ে নিহত হয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। বুধবার রাতে তার মরদেহ দেশে পৌঁছানোর পর পারিবারিক কবরস্থানে দাফন সম্পন্ন করা হয়।
পরিবার সূত্রে জানা যায়, ২০২৫ সালের ২০ আগস্ট আলমগীর হোসাইন ও একই এলাকার রিফাত আকন্দ কাজের উদ্দেশ্যে ইরাকে যান। সেখানে পৌঁছানোর পর একটি দালালচক্র তাদের “গেমঘড়” নামক স্থানে নিয়ে গিয়ে অমানবিক পরিবেশে আটকে রাখে। পরে বিভিন্ন মালিকের কাছে তাদের বিক্রি করে দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ পরিবারের।
ভুক্তভোগীদের সঙ্গে থাকা ব্যক্তিদের বরাতে জানা গেছে, দিনে ১৬ থেকে ১৮ ঘণ্টা কাজ করানো হতো এবং বেতনও পুরোপুরি দেওয়া হতো না। নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে আলমগীর ও তার সঙ্গীরা গ্রীসে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। এ সময় আরেক দালালচক্র গ্রীসে পাঠানোর কথা বলে পরিবারের কাছ থেকে মোট ১২ লাখ টাকা নেয়।
পরিবারের অভিযোগ, পরে কুর্দিস্তান-ইরাক সীমান্ত এলাকায় নিয়ে গিয়ে তাদের বরফশীতল নদীতে নামতে বাধ্য করা হয়। নদী পার হওয়ার পর আলমগীরকে মারধর করে হত্যা করা হয়। তার সফরসঙ্গী রিফাত আকন্দ এখনো নিখোঁজ রয়েছেন।
পরিবার আরও জানায়, ঘটনার পর দীর্ঘদিন দালালচক্র আলমগীরের মৃত্যুর বিষয়টি গোপন রাখে। পরে কৃষি ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকুর সহযোগিতায় বাংলাদেশ দূতাবাসের মাধ্যমে মরদেহ দেশে আনা হয়।
শোকাহত পরিবার “মামুন”, “সম্রাট” ও “আমি” নামের কয়েকজনকে এই দালালচক্রের সঙ্গে জড়িত দাবি করে দ্রুত তদন্ত ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছে।











