খবরবাংলা ডেস্ক :
যুক্তরাষ্ট্রের ডাইভারসিটি ভিসা (ডিভি) লটারি ২০২৭ আবার চালুর উদ্যোগ নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। আদালতের নির্দেশে ট্রাম্প প্রশাসনকে এ লটারির নিবন্ধনপ্রক্রিয়া এগিয়ে নিতে বলা হয়েছে। তবে বাংলাদেশিরা এবার আবেদন করতে পারবেন কি না, তা এখনো নিশ্চিত নয়। আগামী ২৯ অক্টোবর প্রকাশিতব্য সরকারি বিজ্ঞপ্তিতে এ বিষয়ে বিস্তারিত জানা যেতে পারে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, মার্কিন ডিস্ট্রিক্ট বিচারক জিনসুক ওহতা পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওকে ডিভি লটারির নিবন্ধনপ্রক্রিয়া শুরু করার নির্দেশ দিয়েছেন। আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী, ২৯ অক্টোবরের মধ্যে নিবন্ধনের বিস্তারিত প্রকাশ করতে হবে। ১ নভেম্বর থেকে আবেদন গ্রহণ শুরু হয়ে ৩০ দিন চলার কথা রয়েছে। ৩ ডিসেম্বরের মধ্যে লটারির বিজয়ীদের ফল প্রকাশের নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে।
তবে নির্বাচিত আবেদনকারীদের ভিসাপ্রক্রিয়া সম্পন্ন করার জন্য ২০২৭ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
ডিভি লটারিতে বাংলাদেশ থাকবে কি?
২০২৭ সালের ডিভি লটারিতে অংশগ্রহণের যোগ্য দেশগুলোর তালিকায় বাংলাদেশ থাকবে কি না, সে বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে বিস্তারিত জানানো হয়নি। ফলে বাংলাদেশি আবেদনকারীদের অংশগ্রহণের সুযোগ নিশ্চিত করতে সরকারি বিজ্ঞপ্তির জন্য অপেক্ষা করতে হবে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০০৭ থেকে ২০১২ সালের মধ্যে ডিভি লটারির মাধ্যমে ৫০ হাজারের বেশি বাংলাদেশি যুক্তরাষ্ট্রে গেছেন। তবে ২০১২ সাল থেকে বাংলাদেশ এই কর্মসূচির বাইরে রয়েছে।
কীভাবে কাজ করে ডিভি লটারি?
যুক্তরাষ্ট্রের ১৯৯০ সালের ইমিগ্রেশন অ্যাক্টের অধীনে তৎকালীন প্রেসিডেন্ট জর্জ এইচ ডব্লিউ বুশের আমলে ডাইভারসিটি ভিসা কর্মসূচি চালু হয়। ঐতিহাসিকভাবে যেসব দেশ থেকে যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসীর সংখ্যা তুলনামূলক কম, সেসব দেশের নাগরিকদের জন্য অভিবাসনের সুযোগ তৈরি করাই এ কর্মসূচির অন্যতম উদ্দেশ্য।
তবে ডিভি লটারিতে নির্বাচিত হলেই যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার ভিসা নিশ্চিত হয় না। আবেদনকারীদের নির্ধারিত শিক্ষাগত যোগ্যতা অথবা কাজের অভিজ্ঞতার শর্ত পূরণ করতে হয়। পাশাপাশি নিরাপত্তা যাচাই, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও অন্যান্য ভিসার শর্তও পূরণ করতে হয়।
কেন বিলম্বিত হয়েছে ডিভি লটারি ২০২৭?
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৫ সালের নভেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ডিভি লটারির আবেদনপ্রক্রিয়া স্থগিত করে। পরিস্থিতি অনুকূলে এলে নতুন সময়সূচি ঘোষণার কথা বলা হলেও দীর্ঘ বিলম্বের কারণে ২০২৭ সালের কর্মসূচি নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়।
এ পরিস্থিতিতে ‘রেড ইগল ল’ নামের একটি আইনি সংস্থা আদালতের দ্বারস্থ হয়। পরে আদালত নিবন্ধনপ্রক্রিয়া চালুর জন্য ৩০ দিনের সময়সীমা নির্ধারণ করেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
তবে আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করেছে মার্কিন সরকার। একই সঙ্গে আদালতের আদেশ স্থগিত রাখার আবেদনও জানিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। সেই আবেদন মঞ্জুর হলে নিবন্ধন শুরুর সময়সূচি আবারও অনিশ্চয়তার মুখে পড়তে পারে।
তাই বাংলাদেশি আবেদনকারীদের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, ২০২৭ সালের ডিভি লটারির চূড়ান্ত সরকারি বিজ্ঞপ্তিতে বাংলাদেশের নাম থাকে কি না এবং নিবন্ধনের সময়সূচি শেষ পর্যন্ত কার্যকর হয় কি না।
তথ্য সূত্র : কালের কণ্ঠ











