খবরবাংলা ডেস্ক :
একসময় ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ততার পরিচয়, আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন এবং পরে রাজনৈতিক পরিচয় পরিবর্তনের অভিযোগ—এসব বিষয় নিয়ে রেলওয়ের কর্মকর্তা মোহাম্মদ সফিকুর রহমানকে ঘিরে নানা প্রশ্ন উঠেছে। বর্তমানে তিনি রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের প্রধান পরিচালন কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত একটি পোস্টে তাঁর রাজনৈতিক পরিচয়, পদোন্নতি ও দায়িত্ব পালনের ধরন নিয়ে বিভিন্ন অভিযোগ তোলা হয়। তবে পোস্টে করা এসব অভিযোগের স্বাধীনভাবে সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
পোস্টে দাবি করা হয়েছে, ২০২২ সালের ২৬ জানুয়ারি আওয়ামী লীগ সরকারের তৎকালীন শিল্পমন্ত্রী নুরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ুন সফিকুর রহমানের পক্ষে একটি আধা-সরকারি চিঠি দিয়েছিলেন। সেখানে তাঁকে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রলীগের সক্রিয় কর্মী হিসেবে উল্লেখ করা হয়। তাঁর বাবা নরসিংদী জেলা আওয়ামী লীগের সক্রিয় সদস্য ছিলেন বলেও ওই চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছিল বলে পোস্টে দাবি করা হয়।
পোস্টটির দাবি অনুযায়ী, ওই চিঠি দেওয়ার প্রায় এক মাস পর সফিকুর রহমান ঢাকা রেলওয়ের বিভাগীয় ব্যবস্থাপক পদে দায়িত্ব পান। রাজনৈতিক পরিচয় পরিবর্তনের অভিযোগ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্টে আরও দাবি করা হয়, ২০২৪ সালের রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর সফিকুর রহমানের রাজনৈতিক পরিচয়েও পরিবর্তন আসে এবং তিনি বিএনপিপন্থী হিসেবে পরিচিত হয়ে ওঠেন।
পোস্টে বলা হয়, বিভাগীয় ব্যবস্থাপক পদে তাঁর মেয়াদ পূর্ণ করার জন্য বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা ও নরসিংদীর খায়রুল কবির খোকন তৎকালীন রেলওয়ের মহাপরিচালক সরদার সাহাদাত আলীর কাছে একাধিকবার তদবির করেন।
পরে সফিকুর রহমানকে অতিরিক্ত প্রধান পরিকল্পনা কর্মকর্তার দায়িত্ব দেওয়া হয় বলে পোস্টে দাবি করা হয়েছে। তবে ২০২৫ সালের ১৭ এপ্রিল তাঁকে রেলভবনের জনসংযোগ পরিচালক পদে বদলি করা হয়। এরপর কিছুদিনের মধ্যেই তিনি আবার রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের প্রধান পরিচালন কর্মকর্তার দায়িত্বে ফেরেন বলে পোস্টে উল্লেখ করা হয়েছে।
বর্তমানে ঢাকা ও চট্টগ্রাম রুটের ট্রেন চলাচল নিয়ন্ত্রণের দায়িত্বও তাঁর আওতায় রয়েছে বলে পোস্টে দাবি করা হয়েছে। ঈদের সময় খালি কামরা রাখার অভিযোগ দায়িত্ব পালনে অনিয়ম ও স্বেচ্ছাচারিতার অভিযোগও তোলা হয়েছে সফিকুর রহমানের বিরুদ্ধে। পোস্টে দাবি করা হয়, ২০২২ সালের আগে ঈদের ছুটির সময়ে ঢাকা অঞ্চলের টিকিট ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে থাকা অবস্থায় একটি ট্রেনের পুরো একটি কামরা খালি রেখে ট্রেন ছেড়ে দেওয়া হয়েছিল। তখন ঈদে ঘরমুখী মানুষের টিকিটের জন্য ব্যাপক চাপ ছিল বলেও পোস্টে উল্লেখ করা হয়।
নারী কর্মচারীকে ব্যক্তিগত কাজে ব্যবহারের অভিযোগ সফিকুর রহমানের বিরুদ্ধে রেলের এক নারী কর্মচারীকে দীর্ঘদিন ব্যক্তিগত কাজে ব্যবহারের অভিযোগও করা হয়েছে।
পোস্টে দাবি করা হয়, পাবনার ঈশ্বরদী স্টেশনের বেয়ারা জরিনা বেগমকে প্রায় চার বছর ধরে ঢাকার বাসাবাড়ির কাজে ব্যবহার করা হয়েছে। বিষয়টি দীর্ঘদিন আড়ালে ছিল বলেও পোস্টে উল্লেখ করা হয়েছে।
গুরুত্বপূর্ণ ফাইল অনুমোদনে বিলম্বের অভিযোগ ট্রেন চলাচলের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট গুরুত্বপূর্ণ ফাইল অনুমোদনেও বিলম্বের অভিযোগ রয়েছে।
পোস্টে বলা হয়েছে, গত ২৩ আগস্ট ৫২৫ জন গেটকিপারকে পয়েন্টসম্যান পদে পদোন্নতি দেওয়া হয়। তবে সংশ্লিষ্ট ফাইল সফিকুর রহমান প্রায় দেড় মাস পর অনুমোদন করেন বলে দাবি করা হয়েছে। এরই মধ্যে একই আদেশ পাকশী ও লালমনিরহাটে কার্যকর হয়ে যায় বলেও পোস্টে উল্লেখ করা হয়।
এ ছাড়া স্টেশন মাস্টারদের গ্রেড ৪ থেকে গ্রেড ৩-এ পদোন্নতির ফাইল অনুমোদনেও বিলম্বের অভিযোগ করা হয়েছে। গত ২৩ ফেব্রুয়ারির ওই ফাইল তিনি চার মাস পর ১৮ জুন অনুমোদন করেন বলে পোস্টে দাবি করা হয়।
অভিযোগ নিয়ে যা বলছেন সফিকুর রহমান এসব অভিযোগের বিষয়ে রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের প্রধান পরিচালন কর্মকর্তা মোহাম্মদ সফিকুর রহমান বলেন, আওয়ামী লীগ সরকারের সাবেক শিল্পমন্ত্রীর মাধ্যমে দেওয়া কোনো আধা-সরকারি চিঠি বা ডিও লেটারের তথ্য তাঁর জানা নেই।
কর্মচারীদের অফিসের সামনে দীর্ঘ সময় দাঁড় করিয়ে রাখার অভিযোগের বিষয়ে তিনি বলেন, কোনো কর্মচারীকে ‘বুক অফ’ করার অর্থ হলো নির্দিষ্ট অভিযোগের বিষয়ে তাঁকে অফিসে তলব করা। ওই দিন সংশ্লিষ্ট কর্মচারীর কোনো দায়িত্ব থাকে না। সুবিধাজনক সময়ে তিনি তাঁদের বক্তব্য ও অভিযোগ শুনে থাকেন।
এদিকে, এসব বিষয়ে বক্তব্য জানতে রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের মহাব্যবস্থাপক মামুনুল ইসলামের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি বলে পোস্টে উল্লেখ করা হয়েছে।
তথ্য সূত্র : কালের কণ্ঠ











