টাঙ্গাইল সদর সংবাদ দাতা
জ্যৈষ্ঠের শেষ থেকে আষাঢ়ের শুরু—এই সময়টিই বাঙালির বহুল প্রতীক্ষিত ‘মধু মাস’। মৌসুমি নানা রসালো ফলে এখন টইটম্বুর টাঙ্গাইলের শহর ও গ্রামাঞ্চলের বাজার। আম, কাঁঠাল, লটকন, জামরুল, জাম, বেলসহ নানা দেশি ফলের সমাহারে জমে উঠেছে জেলার ফলের ব্যবসা। তুলনামূলক কম দামে ফল পাওয়ায় সন্তুষ্ট ক্রেতারাও।
বর্তমানে টাঙ্গাইল শহরের পার্ক বাজার, ছয়আনি বাজার, পুরাতন বাসস্ট্যান্ড, জগলু রোডের ফলপট্টি, বেবিস্ট্যান্ড ও নতুন বাসস্ট্যান্ডসহ বিভিন্ন বাজারে সকাল থেকে রাত পর্যন্ত ক্রেতাদের ভিড় লক্ষ্য করা যাচ্ছে। ঝুড়িভর্তি মৌসুমি ফল নিয়ে দোকান ও ভ্রাম্যমাণ বিক্রেতাদের সরব উপস্থিতিতে উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে।
বাজারে এখন বিভিন্ন জাতের আমের পাশাপাশি কাঁঠাল, লটকন, জামরুল, আতাফল, জাম্বুরা ও বেল পাওয়া যাচ্ছে। বর্তমানে সুরমা ফজলি আম বিক্রি হচ্ছে প্রতি কেজি ৪৫ টাকা, হাঁড়িভাঙ্গা ৭০ টাকা, বারি-৪ ৭০ টাকা, আম্রপালি ৯০ টাকা এবং ব্যানানা ম্যাংগো ১২০ টাকা কেজি দরে। এছাড়া লটকনের দাম ১০০ টাকা, জামরুল ১২০ টাকা কেজি এবং আকারভেদে কাঁঠাল বিক্রি হচ্ছে ৭০ থেকে ৩০০ টাকায়।
ফল ব্যবসায়ীরা জানান, রাজশাহী, নাটোর, চাঁপাইনবাবগঞ্জ ও রংপুরসহ বিভিন্ন জেলা থেকে প্রতিদিন ১৫ থেকে ২০ ট্রাক ফল টাঙ্গাইলে আসছে। গত বছরের তুলনায় এবার ফলন ভালো হওয়ায় দামও তুলনামূলক কম রয়েছে। ফলে বিক্রিও বেড়েছে উল্লেখযোগ্যভাবে।
টাঙ্গাইল শহরের পার্ক বাজারের ব্যবসায়ী মোহাম্মদ আনোয়ার, আলমগীর, মনির, আব্দুল হক ও রফিক মিয়া বলেন, মধু মাস তাদের বছরের সবচেয়ে ব্যস্ত সময়। ফলের চাহিদা বাড়ার পাশাপাশি শহরের অলিগলিতেও ভ্রাম্যমাণ ফলের দোকানের সংখ্যা বেড়েছে।
জগলু রোডের তরুণ উদ্যোক্তা সাদিকুর রহমান জানান, পড়াশোনার পাশাপাশি ফলের ব্যবসা করছেন তিনি। প্রতিদিন ৩০ থেকে ৪০ কেজি আম বিক্রি হচ্ছে। ক্রেতারা এখন সরাসরি বাগান থেকে আনা প্রাকৃতিকভাবে পাকা ফল কিনতেই বেশি আগ্রহী।
ক্রেতারাও বাজারের দাম নিয়ে সন্তুষ্ট। শহরের প্যারাডাইস পাড়ার বাসিন্দা মোহাম্মদ আব্দুল আলীম জানান, পরিবারের জন্য নিয়মিত মৌসুমি ফল কিনছেন। তিনি ৪৫ টাকা কেজি দরে সুরমা ফজলি আম কিনেছেন। আরেক ক্রেতা নাজমুল হাসান বলেন, হাঁড়িভাঙ্গা আমের দামও নাগালের মধ্যে থাকায় প্রায় প্রতিদিনই আম কিনছেন।
পুষ্টিবিদ ডা. ফারহানা সুলতানা বলেন, ফল কেনার পর অন্তত ৩০ মিনিট পরিষ্কার পানিতে ভিজিয়ে ভালোভাবে ধুয়ে খাওয়া উচিত। এতে সম্ভাব্য ক্ষতিকর উপাদানের ঝুঁকি অনেকটাই কমে।
এদিকে ভেজাল প্রতিরোধে টাঙ্গাইল জেলা প্রশাসন ও জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর বাজার তদারকি জোরদার করেছে। জেলা ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক আসাদুজ্জামান রোমেল জানান, বর্তমানে আমের পূর্ণ মৌসুম হওয়ায় ব্যবসায়ীরা কৃত্রিমভাবে পাকানোর পরিবর্তে প্রাকৃতিকভাবেই ফল বাজারজাত করছেন। তাই ভোক্তারা নিশ্চিন্তে মৌসুমি ফল কিনতে পারেন।
মধু মাসকে কেন্দ্র করে শুধু ফলের ব্যবসাই নয়, জেলার গ্রামীণ অর্থনীতিও চাঙা হয়ে ওঠে। বিশেষ করে মির্জাপুর, সখীপুর ও ঘাটাইল এলাকার অনেক কৃষক কাঁঠালসহ বিভিন্ন মৌসুমি ফল বিক্রি করে বাড়তি আয় করছেন। ফলে মধু মাস এখন টাঙ্গাইলের মানুষের কাছে যেমন আনন্দের, তেমনি অর্থনৈতিকভাবেও গুরুত্বপূর্ণ একটি সময়।











