টাঙ্গাইল সদর সংবাদ দাতা
টাঙ্গাইলে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় উৎসব শ্রীশ্রী শ্যামা পূজা ও দীপাবলি উদযাপিত হচ্ছে। রোববার (৮ নভেম্বর) জেলার বিভিন্ন মন্দির, শ্মশান ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে উৎসবটি পালন করছেন সনাতন ধর্মাবলম্বীরা।
প্রতি বছর দুর্গাপূজার বিজয়া দশমীর পরবর্তী অমাবস্যা তিথিতে দেবী শ্যামা বা কালীমাতার আরাধনা করা হয়। একই দিনে উদযাপিত হয় আলোর উৎসব দীপাবলি বা দিওয়ালি।
এ উপলক্ষে টাঙ্গাইল শহরের বড় কালীবাড়ী, ছোট কালীবাড়ী, কাগমারী রানী দীনমনি মহাশ্মশান কালীমন্দির, ছাওয়ালী শ্রীশ্রী শ্মশান কালীমন্দির, প্যারাডাইস পাড়া মন্দির, কলেজপাড়া মন্দির, আদালতপাড়া মন্দির ও থানাপাড়াসহ বিভিন্ন স্থায়ী ও অস্থায়ী মন্দিরে শ্যামা পূজার আয়োজন করা হয়েছে।
সন্ধ্যা থেকে মন্দির, শ্মশান, সনাতন ধর্মাবলম্বীদের বাসাবাড়ি ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে প্রদীপ প্রজ্বালন করা হয়। এ সময় পরলোকগত আত্মীয়-স্বজনদের স্মরণে এবং তাঁদের আত্মার মঙ্গল কামনায় প্রার্থনা করেন ভক্তরা। অশুভ শক্তির অন্ধকার দূর করে শুভ শক্তির বিজয়ের বার্তা নিয়ে পালিত হচ্ছে শ্যামা পূজা ও দীপাবলি।
‘দীপাবলি’ শব্দের অর্থ প্রদীপের সারি। সনাতন ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, দেবী শ্যামা শক্তি, শান্তি ও কল্যাণের প্রতীক। পুরাণ মতে, দেবী শ্যামা দেবী দুর্গারই একটি শক্তিরূপ। সংস্কৃত ‘কাল’ শব্দ থেকে ‘কালী’ নামের উৎপত্তি। শক্তির আরাধনা হিসেবে সাধারণত রাতে শ্যামা পূজার আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করা হয়। তন্ত্র ও পুরাণে দশ মহাবিদ্যার প্রথম মহাবিদ্যা হিসেবে দেবী শ্যামার মাহাত্ম্য বর্ণিত হয়েছে।
ধর্মীয় শাস্ত্র অনুযায়ী, দেবাসুর সংঘর্ষে দেবতাদের আহ্বানে আদ্যাশক্তির দেহকোষ থেকে দেবী কৌষিকীর আবির্ভাবের সঙ্গে শ্যামার উৎপত্তির কাহিনি সম্পর্কিত। বঙ্গীয় তন্ত্রসার ও শ্যামা রহস্যসহ বিভিন্ন ধর্মীয় গ্রন্থে দেবীর দক্ষিণ, সিদ্ধ, ভদ্র, শ্মশান, রক্ষা ও মহাকালীসহ বিভিন্ন রূপের বর্ণনা রয়েছে। কিছু স্থানে পূজার আনুষ্ঠানিকতার অংশ হিসেবে বলিপ্রথাও প্রচলিত রয়েছে।
দীপাবলি উদযাপনের সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে বিভিন্ন পৌরাণিক কাহিনি ও ধর্মীয় বিশ্বাস। প্রচলিত বিশ্বাস অনুযায়ী, ত্রেতাযুগে ১৪ বছরের বনবাস শেষে রাবণকে পরাজিত করে শ্রীরামচন্দ্র অযোধ্যায় ফিরে এলে নগরবাসী ঘরে ঘরে প্রদীপ জ্বালিয়ে তাঁকে স্বাগত জানান। সেই আনন্দ উদযাপনের ধারাবাহিকতা থেকেই দীপাবলি উৎসবের প্রচলন হয়েছে বলে মনে করা হয়।
অন্যদিকে বৈষ্ণব ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, কার্তিক বা দামোদর মাস ভগবান শ্রীকৃষ্ণের অত্যন্ত প্রিয়। এ মাসে ভক্তি ও ধর্মীয় আচার পালনের বিশেষ মাহাত্ম্য রয়েছে বলে মনে করেন অনুসারীরা।
ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য, প্রদীপের আলো ও প্রার্থনার মধ্য দিয়ে টাঙ্গাইলের বিভিন্ন মন্দিরে শ্রীশ্রী শ্যামা পূজা ও দীপাবলি উদযাপন করছেন সনাতন ধর্মাবলম্বীরা।











