মাসুদ রানা
,
বাসাইল প্রতিনিধি
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ১৩৭, টাঙ্গাইল-৮ (বাসাইল-সখিপুর) আসনের মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই শেষে ৪ জন প্রার্থীর মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে। একই সঙ্গে বিভিন্ন ত্রুটির কারণে ৬ জন প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে।
শনিবার (৩ জানুয়ারি) বিকেলে টাঙ্গাইল জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের হলরুমে এ যাচাই-বাছাই কার্যক্রম পরিচালনা করেন জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক জনাব শরীফা হক।
এ আসনে মোট ১০ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছিলেন।
রিটার্নিং কর্মকর্তা কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়ায় প্রার্থীদের শিক্ষাগত যোগ্যতা, আয়কর সংক্রান্ত কাগজপত্র, সম্পদ বিবরণী, নাগরিকত্ব, বিদ্যুৎ, গ্যাস, পানি ও টেলিফোন বিল পরিশোধের প্রমাণসহ নির্বাচন কমিশনের বিধিমালা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় সব তথ্য খুঁটিয়ে পরীক্ষা করা হয়েছে। যাচাই শেষে যেসব প্রার্থী সব শর্ত পূরণ করতে সক্ষম হয়েছেন, তাদের মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করা হয়।
বৈধ ঘোষিত প্রার্থীদের মধ্যে রয়েছে— বিএনপি মনোনীত প্রার্থী অ্যাডভোকেট আহমেদ আযম খান, জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী অধ্যাপক শফিকুল ইসলাম খান, জাতীয় পার্টি মনোনীত প্রার্থী মো. নাজমুল হাসান এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী সালাউদ্দিন আলমগীর।
অন্যদিকে বাতিল হওয়া প্রার্থীদের মধ্যে রয়েছেন— আব্দুল ফজল মাহমুদুল হক (স্বতন্ত্র), এস এম হাবিবুর রহমান (স্বতন্ত্র), হাবিবুর রহমান কামাল (স্বতন্ত্র), আমজনতার দলের মো. আলমগীর হোসেন, খেলাফত মজলিসের মো. শহিদুল ইসলাম ও বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির আওয়াল মাহমুদ।
বিএনপি-প্রার্থী আহমেদ আযম খান বলেন, ”আমি রাজনীতির পুরনো সংজ্ঞাকে বদলে দিতে চাই। ভোট হবে, প্রতিনিধি নির্বাচিত হবে, সরকার হবে—কিন্তু তারা হবে জনগণের সেবক, শাসক নয়। আর যখন একজন জনপ্রতিনিধি প্রকৃত সেবক হয়ে ওঠেন, তখন তার আশ্রয়ে কোনো কিশোর গ্যাং বা মাদক ব্যবসায়ীর ঠাঁই হতে পারে না। সখিপুর-বাসাইলের মাটি ও মানুষের জন্য আমার এই প্রতিজ্ঞা—আমি আপনাদের শাসক হতে আসিনি, আমৃত্যু সেবক হিসেবে আপনাদের পাশে থাকতে চাই।”
জামায়াত প্রার্থী শফিকুল ইসলাম বলেন, “আলহামদুলিল্লাহ, মহান আল্লাহর অশেষ মেহেরবানিতে যাচাই-বাছাই শেষে আমার মনোনয়ন পত্র বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে। বাসাইল-সখিপুরের আপামর জনসাধারণের দোয়া ও ভালোবাসায় আমি অভিভূত। এলাকার সাধারণ ভোটাররা এখন পরিবর্তনের স্বপ্নে বিভোর। একটি সুন্দর ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের পরিবেশ নিশ্চিত হলে এবং প্রশাসন সকল প্রার্থীর জন্য সমান সুযোগ (Level Playing Field) তৈরি করলে, ইনশাআল্লাহ আগামী দিনে এ আসনে নতুন সূর্য উদিত হবে।
জনগণের মার্কা দাঁড়িপাল্লা নিয়ে আমরা বিজয়ের পথে এগিয়ে যাব। বাসাইল-সখিপুরের মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠা ও উন্নয়নের লক্ষে জামায়াতে ইসলামী বদ্ধপরিকর। ইনশাআল্লাহ, বিজয় আমাদের সুনিশ্চিত।
রিটার্নিং কর্মকর্তা শরীফা হক জানান, যেসব প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল হয়েছে, তারা নির্বাচন কমিশনের বিধিমালা অনুযায়ী নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আপিল করতে পারবেন। তিনি আরো বলেন, এখন পর্যন্ত আচরণবিধি মানার ক্ষেত্রে প্রার্থীদের সহযোগিতা সন্তোষজনক। সবাইকে নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনা মেনে চলতে হবে।
মনোনয়ন যাচাই-বাছাই সম্পন্ন হওয়ার মধ্য দিয়ে টাঙ্গাইল-৮ আসনে নির্বাচনী কার্যক্রম নতুন গতি পেয়েছে। বৈধ প্রার্থীরা এখন প্রচারণা ও সাংগঠনিক প্রস্তুতিতে ব্যস্ত সময় পার করবেন বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক নেতারা। মনোনয়ন যাচাই শেষে এই আসনে নির্বাচনী উত্তাপ ও রাজনৈতিক তৎপরতা আরো বাড়বে বলে মনে করছেন স্থানীয় ভোটার ও রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
ভোটের মাঠে বৈধ প্রার্থীদের সরব উপস্থিতি ও প্রচারণায় টাঙ্গাইল-৮ আসনে এবার জমে উঠবে বহুমাত্রিক নির্বাচনী লড়াই— প্রত্যাশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।











