খবরবাংলা ডেস্ক :
নবম জাতীয় পে স্কেলের দ্রুত প্রজ্ঞাপন জারির দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী কল্যাণ সমিতি। বাজারমূল্যের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে পে কমিশনের সুপারিশ অনুযায়ী সরকারি কর্মচারীদের সর্বনিম্ন বেতন আরও বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন সংগঠনটির নেতারা। একই সঙ্গে এ বিষয়ে সরকারের প্রধানমন্ত্রী ও নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতির সদয় দৃষ্টি কামনা করেছেন তারা।
শনিবার (২২ আগস্ট) সকালে সাভারে আয়োজিত এক মতবিনিময়সভায় এসব দাবি জানানো হয়। সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী কল্যাণ সমিতির সভাপতি আবদুল মালেক। প্রধান আলোচক ছিলেন সংগঠনের মহাসচিব আশিকুল ইসলাম। সভায় সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশন, সাভারের সাবেক মহাসচিব ও অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মাহমুদুল হক।
সভায় সংগঠনের কার্যকরী সভাপতি শাহাবুদ্দিন মুন্সী, সহসভাপতি মনিরুজ্জামান, মোহাম্মদ এবাদুল ইসলাম, আজিজুর রহমান ও নুরুজ্জামান লিটন, সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব আব্দুল কাদের খান, যুগ্ম মহাসচিব রুহুল আমিন, সহসাংগঠনিক সম্পাদক ওমর ফারুক এবং প্রচার সম্পাদক এবি বেগমসহ অন্যান্য নেতারা বক্তব্য দেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে আবদুল মালেক বলেন, সংবাদপত্রে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, সচিব কমিটি নিম্ন গ্রেডে ১০০ শতাংশ বেতন বৃদ্ধির সুপারিশ করেছে। এতে বিদ্যমান ৮ হাজার ২৫০ টাকা থেকে সর্বনিম্ন বেতন বেড়ে ১৬ হাজার ৫০০ টাকা হবে।
তিনি বলেন, এ ধরনের সুপারিশে কর্মচারীদের মধ্যে ক্ষোভ ও হতাশা তৈরি হচ্ছে। অতীতের বিভিন্ন পে স্কেলে ১০ থেকে ২০তম গ্রেডের কর্মীদের জন্য ১৪০ শতাংশ বা তারও বেশি বেতন বৃদ্ধির সুপারিশ বাস্তবায়ন হয়েছে।
আবদুল মালেক আরও বলেন, দীর্ঘ ১১ বছর পর আন্দোলন-সংগ্রাম ও কর্মচারীদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে নবম পে স্কেল হতে যাচ্ছে। এরই মধ্যে দ্রব্যমূল্য ব্যাপক বেড়েছে। নিত্যপণ্যের ঊর্ধ্বগতির কারণে নিম্ন গ্রেডের কর্মচারীরা জীবনযাত্রার ব্যয়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে পারছেন না।
তিনি জানান, ২০২০ ও ২০২৫ সালে দুটি পে স্কেল পাওয়ার কথা থাকলেও এখন পর্যন্ত কোনোটি বাস্তবায়ন হয়নি। জাতীয় বেতন কমিশন-২০২৫-এর মতবিনিময়সভায় কর্মচারীদের বর্তমান অবস্থা ও দ্রব্যমূল্যের বিষয় বিবেচনায় নিয়ে দুটি পে স্কেলের সমন্বয়ে সর্বনিম্ন বেতন ৩৫ হাজার টাকা করার দাবি জানানো হয়েছিল। তবে তা কমিয়ে সর্বনিম্ন ২০ হাজার টাকা সুপারিশ করা হয়েছে।
মহাসচিব আশিকুল ইসলাম বলেন, ১:৪ অনুপাতে সর্বোচ্চ বেতন ১ লাখ ৪০ হাজার টাকা করার কথা বলা হলেও তা বাড়িয়ে ১ লাখ ৬০ হাজার টাকার সুপারিশ করা হয়েছে। এতে বেতন কাঠামোয় বৈষম্য আরও বাড়ছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, সচিব পর্যায়ের সুপারিশ প্রণয়ন কমিটি যদি সর্বনিম্ন ২০ হাজার টাকার সুপারিশও কমিয়ে দেয় এবং এর সঙ্গে থাকা ১৫ শতাংশ বিশেষ সুবিধা বাদ দেওয়া হয়, তাহলে নবম পে স্কেলে বেতন বৃদ্ধি ও দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির মধ্যে কোনো সামঞ্জস্য থাকবে না। এতে সরকারি কর্মচারীদের মধ্যে হতাশা ও অস্থিরতা আরও বাড়বে।
কর্মচারীদের পক্ষ থেকে তিনি সর্বনিম্ন ২০ হাজার টাকা বহাল রাখার পাশাপাশি বাজারমূল্যের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে বেতন আরও বাড়ানো এবং দ্রুত নবম পে স্কেলের প্রজ্ঞাপন জারির দাবি জানান।
সভায় নেতারা বলেন, দ্রব্যমূল্যের ক্রমবর্ধমান চাপ থেকে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের স্বস্তি দিতে দ্রুত নবম পে স্কেলের প্রজ্ঞাপন জারি করা প্রয়োজন। এ বিষয়ে সরকারের প্রধানমন্ত্রী ও নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতির সদয় হস্তক্ষেপ কামনা করেন তারা।
তথ্য সূত্র : কালের কণ্ঠ











