বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান রপ্তানি বাজার যুক্তরাষ্ট্র। রপ্তানি পণ্যে বড় অংশই তৈরি পোশাক। নতুন শুল্কবৃদ্ধির ফলে বাংলাদেশি পোশাক রপ্তানি ব্যাহত হতে পারে, যা অর্থনীতির জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াবে। দেশের ৪০ বিলিয়ন ডলারের পোশাক রপ্তানি শিল্প সুরক্ষিত রাখতে বাংলাদেশ ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনা করতে চাইছে। এমন তথ্য জানিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে ব্লুমবার্গ। বিভিন্ন দেশের পণ্যের ওপর নতুন করে শুল্ক আরোপ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। এ তালিকায় রয়েছে বাংলাদেশের নামও। ট্রাম্পের নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, বাংলাদেশি পণ্যের ওপর শুল্ক ১৫ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৩৭ শতাংশ করা হয়েছে। ওয়াশিংটনের স্থানীয় সময় বুধবার (২ এপ্রিল) বিকেলে হোয়াইট হাউসের রোজ গার্ডেনে সংবাদ সম্মেলন করে নতুন করে শুল্কারোপের ঘোষণা দেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এরপর বিশ্ব বাণিজ্য বড় ধাক্কা সামলাতে ব্যস্ত।
এ পরিস্থিতিতে বাংলাদেশও বসে নেই। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য উদ্বৃত্ত কমানোর উপায় খুঁজছে বাংলাদেশ। যাতে আমেরিকায় রপ্তানির ওপর শুল্ক কমাতে সাহায্য করে। বাংলাদেশের ওপর আরোপিত শুল্কহার ট্রাম্প কর্তৃক অন্যান্য দেশের ওপর আরোপিত সর্বোচ্চ হারের মধ্যে একটি। এটি বিশ্বের দরিদ্রতম দেশগুলোর জন্য একটি ধাক্কা হতে পারে। বিশেষ করে অর্থনীতির চালিকাশক্তি হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রে টেক্সটাইল রপ্তানির ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল দেশ বড় বিপদে পড়তে পারে। বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশির উদ্দিন বৃহস্পতিবার (৩ এপ্রিল) এক টেলিফোন সাক্ষাৎকারে বলেন, আমরা এই ব্যবধান কমানোর জন্য সক্রিয়ভাবে সুযোগগুলো অন্বেষন করছি।
বাণিজ্য ঘাটতি দূর এবং সম্পর্ক উন্নয়ন নিয়ে বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতির প্রশাসক আনোয়ার হোসেন বলেন, আমরা মার্কিন বাজার থেকে তুলার আমদানি বাড়াতে পারি। তবে আমেরিকান তুলার জন্য আমাদের একটি নির্ভরযোগ্য সরবরাহ শৃঙ্খল প্রতিষ্ঠা করতে হবে। ওয়ালমার্ট ইনকর্পোরেটেড এবং গ্যাপ ইনকর্পোরেটেডের মতো প্রধান মার্কিন খুচরা বিক্রেতারা প্রতি বছর বাংলাদেশ থেকে কোটি কোটি ডলার মূল্যের পোশাক আমদানি করে। হোসেনের মতে, শুল্ক বৃদ্ধির ফলে তাদের পণ্য সংগ্রহের কৌশল পুনর্বিবেচনা করতে হতে পারে।
কর্মকর্তারা বলছেন, পারস্পরিক বাণিজ্য আলোচনার অংশ হিসেবে শুল্ক সমন্বয়ের সুযোগ আছে। তবুও নোবেল পুরস্কার বিজয়ী মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের বাণিজ্য উপদেষ্টা বশির উদ্দিনের মতে, মার্কিন সিদ্ধান্তকে ঘিরে ‘মেঘ’ রয়েছে। তিনি বলেন, এটি আর দ্বিপাক্ষিক বিষয় নয় – এটি বিশ্বব্যাপী অর্থনৈতিক সুনামি হয়ে উঠেছে। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য ঘাটতি সমন্বয়ে বাংলাদেশ সরকার মনোযোগী বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলমও। বৃহস্পতিবার (৩ এপিল) শফিকুল আলম তার ফেসবুক আইডিতে একটি স্ট্যাটাস দেন। তাতে তিনি লিখেন, বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্র থেকে আমদানি করা পণ্যের ওপর শুল্ক পুনর্বিবেচনা করছে।
জাতীয় রাজস্ব বোর্ড দ্রুত শুল্ক যুক্তিসঙ্গত করার বিকল্পগুলো চিহ্নিত করছে, যা বিষয়টি সমাধানের জন্য প্রয়োজনীয়। তিনি আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের ঘনিষ্ঠ বন্ধু এবং আমাদের বৃহত্তম রপ্তানি গন্তব্য। ট্রাম্প প্রশাসন দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে আমাদের দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সহযোগিতা বৃদ্ধির জন্য আমরা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কাজ করে আসছি। মার্কিন সরকারের সাথে আমাদের চলমান কাজ শুল্ক সমস্যা সমাধানে সহায়তা করবে বলে আশা করা হচ্ছে।