খবরবাংলা ডেস্ক :
বাংলাদেশ ও ইতালির মধ্যে বিদ্যমান বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আরও জোরদার করার পাশাপাশি অর্থনীতি, কর্মসংস্থান ও দক্ষ মানবসম্পদ উন্নয়নে দুই দেশের সহযোগিতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খান।
সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে নিজ দপ্তরে বাংলাদেশে নিযুক্ত ইতালির রাষ্ট্রদূত আন্তোনিও আলেসান্দ্রোর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে এসব বিষয়ে আলোচনা হয়। বৈঠকে অবৈধ অভিবাসন প্রতিরোধ, ভাষা শিক্ষা ও নগর ব্যবস্থাপনা নিয়েও আলোচনা করা হয়। এ সময় স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম উপস্থিত ছিলেন।
ড. আবদুল মঈন খান বলেন, বাংলাদেশ ও ইতালির সম্পর্ক দীর্ঘদিনের বন্ধুত্ব ও পারস্পরিক সহযোগিতার ওপর প্রতিষ্ঠিত। এই সম্পর্ককে আরও এগিয়ে নিতে সহযোগিতার নতুন ক্ষেত্র চিহ্নিত করা প্রয়োজন। অর্থনৈতিক সম্পর্ক জোরদারের পাশাপাশি কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও দক্ষ মানবসম্পদ উন্নয়নে দুই দেশ একসঙ্গে কাজ করতে পারে।
বৈঠকে অবৈধ অভিবাসন প্রতিরোধে জনসচেতনতা বাড়ানোর বিষয়টিও গুরুত্ব পায়। মন্ত্রী বলেন, অবৈধ অভিবাসন রোধে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও সংস্থাগুলোর পাশাপাশি জনসচেতনতা বাড়ানো জরুরি। নিরাপদ ও বৈধ পথে বিদেশ যাওয়ার বিষয়ে জনগণকে আরও সচেতন করা প্রয়োজন।
দক্ষ জনশক্তি রপ্তানি বাড়াতে তৃতীয় ভাষা শিক্ষার ওপর গুরুত্বারোপ করেন মন্ত্রী। বিশেষ করে ইতালীয় ভাষা শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনায় ইতালির সহযোগিতা কামনা করেন তিনি। পাশাপাশি বাংলাদেশে প্রশিক্ষক তৈরির এবং ইতালিতে কর্মসংস্থানে আগ্রহী দক্ষ কর্মীদের ভাষাগত প্রশিক্ষণের সুযোগ তৈরির বিষয়েও আলোচনা হয়।
সাক্ষাৎকালে ইতালির রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের ভূমিকার প্রশংসা করেন। একই সঙ্গে বাংলাদেশ ও ইতালির মধ্যে সহযোগিতা আরও সম্প্রসারণে তার দেশের আগ্রহের কথা জানান তিনি।
সাক্ষাৎ শেষে স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম সাংবাদিকদের বলেন, ইতালিতে প্রায় আড়াই লাখ বাংলাদেশি বসবাস করছেন। দক্ষতা উন্নয়ন ও ইতালীয় ভাষা শিক্ষার মাধ্যমে বৈধ জনশক্তি রপ্তানি বাড়াতে ইতালির সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, স্থানীয় প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিদের সম্পৃক্ত করে অবৈধ পথে বিদেশযাত্রা রোধে সচেতনতা বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হবে।
এ ছাড়া মিলান সিটির সঙ্গে খুলনা সিটি করপোরেশনের খাদ্য নিরাপত্তা ও খাদ্য অপচয় রোধে যৌথভাবে কাজ করার বিষয়েও আলোচনা হয়েছে। বাংলাদেশের স্থপতিদের প্রশিক্ষণ ও অভিজ্ঞতা বিনিময়, দুই দেশের বাণিজ্য, প্রবাসী আয় ও কর্মসংস্থান বাড়ানোর বিষয়েও ইতিবাচক আলোচনা হয়েছে।
বৈঠকে বাংলাদেশ-ইতালি অর্থনৈতিক ও উন্নয়ন সহযোগিতা আরও জোরদার এবং দুই দেশের জনগণের পারস্পরিক সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।
তথ্য সূত্র : কালের কণ্ঠ











