খবর বাংলা ডেস্ক :
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের যাত্রা শুরু হচ্ছে আগামীকাল বৃহস্পতিবার। এদিন সকাল ১১টায় জাতীয় সংসদ ভবনে নতুন সরকারের প্রথম অধিবেশন বসবে। বছরের প্রথম অধিবেশনে ভাষণ দেবেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। অধিবেশনকে কেন্দ্র করে ইতিমধ্যে সার্বিক প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে সংসদ সচিবালয়।
অধিবেশনের প্রথম দিনেই স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার নিয়োগ দেওয়া হবে। সংসদের সরকারি দল বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) ডেপুটি স্পিকারের পদটি বিরোধী দল বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীকে দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছে। তবে এ বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানায়নি জামায়াত। দলটি ‘জুলাই জাতীয় সনদ’ বাস্তবায়নের বিষয়টিকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে। ফলে সংসদের প্রথম অধিবেশনেই জুলাই সনদ ও গণভোট ইস্যুতে রাজনৈতিক উত্তাপ ছড়ানোর আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
জুলাই জাতীয় সনদের বিধান অনুযায়ী সংবিধান সংস্কার পরিষদ বাস্তবায়ন এবং রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনকে সংসদে ভাষণ দেওয়া থেকে বিরত রাখার দাবিতে আন্দোলনের ঘোষণা দিয়েছে বিরোধী দল। যদিও সংসদকে কার্যকর করতে বিরোধী দল দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করবে বলে আশা প্রকাশ করেছে সরকারি দল।
জামায়াতে ইসলামীসহ অন্য বিরোধী দলের ৭৭ জন বিজয়ী প্রার্থী সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নেওয়ার পাশাপাশি সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবেও শপথ নিয়েছেন। তবে এ বিষয়টি নিয়ে সরকারি দল তাদের সমালোচনা করছে।
সংস্কার পরিষদ বাস্তবায়ন না হলে ডেপুটি স্পিকারের পদ গ্রহণে অনীহা প্রকাশ করেছেন বিরোধী নেতারা। এছাড়া আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে নির্বাচিত রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনকে সংসদ অধিবেশনে ভাষণ প্রদান থেকে বিরত রাখার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রীকে আইনি নোটিশ পাঠিয়েছে জামায়াতে ইসলামী। এ নিয়ে সভা-সমাবেশের পাশাপাশি সংসদে জোরালো বক্তব্য তুলে ধরার ঘোষণা দিয়েছে দলটি।
এরই মধ্যে গত ৯ মার্চ খুলনায় এক সমাবেশে সংবিধান সংস্কার পরিষদ বাস্তবায়নের উদ্যোগ না নিলে ১২ মার্চ মিছিল নিয়ে সংসদ ভবনের সামনে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)।
অতীতের ধারাবাহিকতায় অধিবেশনের প্রথম দিন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ভাষণ দেবেন। সেই ভাষণের ওপর সরকার ও বিরোধীদলীয় সদস্যরা আলোচনা করবেন। গত ৫ মার্চ মন্ত্রিপরিষদে রাষ্ট্রপতির ভাষণ অনুমোদন করা হয়েছে।
এ বিষয়ে বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেন, জনগণের অধিকার আদায়ে সংসদে ও রাজপথে আন্দোলন চলবে। দেশের মানুষ সংস্কারের পক্ষে ভোট দিয়েছেন। সেই জনরায়কে উপেক্ষা করা মানে জুলাই আন্দোলনকে অস্বীকার করা। তবে সরকার জনগণের অনুভূতি ধারণ করে দেশ পরিচালনা করলে জামায়াতে ইসলামী সহযোগিতা করবে।
জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ মো. নূরুল ইসলাম বলেন, সরকারি ও বিরোধী দলকে একমঞ্চে এনে সংসদকে কার্যকর করার চেষ্টা চলছে। প্রধানমন্ত্রী যে রাজনৈতিক সংস্কৃতি শুরু করেছেন, তা সব পক্ষকে সমন্বয়ের মাধ্যমে এগিয়ে নেওয়ার উদ্যোগ। এ কারণেই বিরোধী দল থেকে একজনকে ডেপুটি স্পিকার করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।
সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন)-এর সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদার মনে করেন, গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করতে সংসদে একটি কার্যকর বিরোধী দল থাকা জরুরি। তিনি বলেন, বিগত কয়েকটি সংসদে অনুগত বা গৃহপালিত বিরোধী দল দেখা গেছে, যা গণতান্ত্রিক চর্চার জন্য ইতিবাচক ছিল না। তবে এবারের নির্বাচনের মাধ্যমে সেই পরিস্থিতির পরিবর্তন হয়েছে।
তথ্য সূত্র : কালের কণ্ঠ











