কালিহাতী সংবাদ দাতা
টাঙ্গাইলের কালিহাতী উপজেলার পৌর এলাকার ঘুনী পূর্ব পাড়ায় পাকা রাস্তার পাশেই দাঁড়িয়ে আছে একটি ভাঙাচোরা টিনের ঘর। জংধরা চালা, ফুটো টিন, সামনে ছেঁড়া কাপড়ের অস্থায়ী পর্দা—এই ছোট্ট ঘরেই বসবাস করেন অসহায় কাজুলী বেগম। পৈতৃক সূত্রে পাওয়া মাত্র ১ শতাংশ জমির ওপর নির্মিত এই ঘরটিই তার সবকিছু।
ঘরে নেই বিদ্যুৎ সংযোগ। সন্ধ্যা নামলেই নেমে আসে অন্ধকার। একটি মোমবাতির ক্ষীণ আলোয় কাটে রাত। বর্ষা এলে টিনের চালা দিয়ে পানি পড়ে, ঝড়-হাওয়ায় আতঙ্কে জেগে থাকতে হয়। শীতে ঘর বরফশীতল, গরমে অসহনীয় তাপ।
কাজুলী বেগমের কোনো সন্তান নেই। তার স্বামী মানসিকভাবে অসুস্থ হওয়ায় নিয়মিত কাজ করতে পারেন না। কখনো মানুষের কাছে ৫–১০ টাকা চেয়ে, কখনো কারও দেওয়া খাবারে চলে সংসার। ঘরে নেই টয়লেট; প্রয়োজন হলে অন্যের বাড়িতে যেতে হয়। পানির জন্য নির্ভর করতে হয় প্রতিবেশীর টিউবওয়েলের ওপর।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, সামান্য সরকারি সহায়তা পেলেই পরিবারটি একটি নিরাপদ ঘর, টয়লেট ও বিদ্যুতের সংযোগ পেতে পারে। এলাকাবাসীর দাবি, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত ব্যবস্থা নিলে পরিবারটি মানবেতর জীবন থেকে মুক্তি পাবে।
কাজুলী বেগম বলেন, বৃষ্টি এলে ঘরে পানি পড়ে, সারা রাত জেগে থাকতে হয়। বিদ্যুৎ না থাকায় মোমবাতির আলোই ভরসা। একটি ভালো ঘর, টয়লেট, টিউবওয়েল ও বিদ্যুৎ সংযোগ পেলে বাকি জীবনটা একটু স্বস্তিতে কাটাতে চান তিনি।
এ বিষয়ে কালিহাতী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা খায়রুল ইসলাম জানিয়েছেন, বিষয়টি তার নজরে এসেছে। দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিয়ে পরিবারটিকে সরকারি সহায়তার আওতায় আনা হবে।











