মো: জিসান রহমান
,
মাভাবিপ্রবি প্রতিনিধি:
টাঙ্গাইলে মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (মাভাবিপ্রবি) রসায়ন বিভাগের শিক্ষার্থী ও শাখা ছাত্রদলের সহ-সভাপতি মো. আখিল আহমেদ আবারও বিতর্কের মুখে পড়েছেন। এবার তিনি নিজেকে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগের শিক্ষার্থী পরিচয় দিয়ে এইচএসসি শিক্ষার্থীদের টিউশন করানোর প্রচারণা চালিয়ে সমালোচনার জন্ম দিয়েছেন।
শনিবার (৬ জুন) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের একটি বগুড়াভিত্তিক গৃহশিক্ষক গ্রুপে প্রকাশিত একটি পোস্টে দেখা যায়, সেখানে দাবি করা হয়েছে যে পোস্টদাতা আখিল বর্তমানে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে রসায়ন বিষয়ে মাস্টার্স সম্পন্ন করে বগুড়ায় অবস্থান করছেন এবং এইচএসসি ২০২৭ ও ২০২৮ ব্যাচের শিক্ষার্থীদের পদার্থবিজ্ঞান ও গণিত পড়াতে আগ্রহী। আরেকটি পোস্টে তিনি নিজেকে বুয়েট শিক্ষার্থী রনি হিসাবে দাবি করেন।
তবে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, মো. আখিল আহমেদ প্রকৃতপক্ষে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী নন। তিনি মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগের শিক্ষার্থী। ফলে শিক্ষার্থীদের কাছে নিজেকে অন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী হিসেবে পরিচয় দেওয়ার বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। সংশ্লিষ্টরা এটিকে বিভ্রান্তিকর ও প্রতারণামূলক আচরণ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন।
এবিষয়ে অভিযুক্ত আখিল আহমেদের সাথে যোগাযোগ করা হলে প্রথমে তিনি পোস্টটির সঙ্গে নিজের সম্পৃক্ততার বিষয়টি অস্বীকার করেন। অতঃপর তিনি পোস্টটি নিজের বলে স্বীকার করেন। ভুয়া পরিচয়ে টিউশনির পোস্টের বিষয়ে আখিল আহমেদ বলেন, আমি জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সামনে মাস্টার্স করবো এইজন্য পোস্টটি দিয়েছিলাম।
পরবর্তীতে শিক্ষার্থীদের সমালোচনার মুখে তিনি দাবি করেন তার ফেইসবুক আইডি হ্যাক হয়েছিল।
আখিল আহমেদকে নিয়ে বিতর্ক নতুন নয়। এর আগেও চলতি বছরের জানুয়ারিতে এক ক্যাম্পাস সাংবাদিকের হারিয়ে যাওয়া মানিব্যাগের ঘটনায়ও আলোচনায় আসেন আখিল আহমেদ।
জানা যায়, দৈনিক দ্য ডেইলি ক্যাম্পাস-এর মাভাবিপ্রবি প্রতিনিধি সুজন চন্দ্র দাশ গত ২৫ জানুয়ারি জননেতা আব্দুল মান্নান হলের ডাইনিংয়ে খাবার খাওয়ার সময় অসাবধানতাবশত তার মানিব্যাগ হারিয়ে ফেলেন। পরে তিনি বিভিন্ন শিক্ষার্থীর কাছে খোঁজ নিলেও মানিব্যাগটির সন্ধান পাননি।
প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, ঘটনাস্থলে উপস্থিত আখিল আহমেদের কাছে মানিব্যাগের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি সেটি পাওয়ার কথা অস্বীকার করেন। পরবর্তীতে ২৭ জানুয়ারি হল কর্তৃপক্ষ সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, তিনি মেঝে থেকে মানিব্যাগটি তুলে নিচ্ছেন। পরে বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার পর মানিব্যাগটি ফেরত দেওয়া হয় বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
এবিষয়ে মাভাবিপ্রবি ছাত্রদলের সভাপতি সাগর আহমেদ বলেন, আমি এ ঘটনাটি সম্পর্কে এখনও সম্পূর্ণ অবগত নই। অভিযোগ যার বিরুদ্ধে উত্থাপিত হয়েছে, তার সঙ্গে কথা বলে বিষয়টির সত্যতা যাচাই করা প্রয়োজন। কোনো ব্যক্তির কর্মকাণ্ডের দায় অবশ্যই সেই ব্যক্তিরই। বিষয়টি সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ ও যাচাই-বাছাই শেষে পরবর্তীতে আরও স্পষ্টভাবে জানাতে পারব।
মাভাবিপ্রবি ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক সাজিদুল ইসলাম দিপু বলেন, মানিব্যাগ চুরির ঘটনাটি কেন্দ্র জানে। তিনি আরও বলেন, ব্যক্তির দায় অবশ্যই সংগঠন নিবে না। সংগঠন যদি অভিযোগের সত্যতা খুঁজে পায় অবশ্যই দেখবে। যেহেতু তিনি বলেছেন আইডি হ্যাক হয়েছে । আমরা সত্য মিথ্যা যাচাই করে দেখবো তার সাথে কথা বলবো। পরবর্তীতে সংগঠন এর সবার সাথে পরমার্শ করে ব্যবস্থা নিবো
একাধিক বিতর্কিত ঘটনার পর বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে আখিল আহমেদের কর্মকাণ্ড নিয়ে নতুন করে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে। শিক্ষার্থীরা পরিচয় গোপন বা ভুয়া পরিচয় ব্যবহার করে টিউশনির প্রচারণার বিষয়টি তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।











