মির্জাপুর
,
সংবাদ দাতা
টাঙ্গাইলের মির্জাপুর উপজেলায় পাহাড়ের টিলা কেটে লাল মাটি বিক্রির ঘটনা উদ্বেগজনক আকার ধারণ করেছে। মাসের পর মাস ধরে অবৈধভাবে পাহাড় ধ্বংস করে মাটি বিক্রি চললেও তা ঠেকাতে প্রশাসনের কার্যকর পদক্ষেপ চোখে পড়ছে না বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। এতে একদিকে প্রাকৃতিক পরিবেশ মারাত্মক হুমকির মুখে পড়ছে, অন্যদিকে বনাঞ্চল উজাড় হয়ে ধ্বংস হচ্ছে জীববৈচিত্র্য ও ফলজ বৃক্ষ।
মির্জাপুর উপজেলা ১৪টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভা নিয়ে গঠিত। এর মধ্যে আজগানা, বাঁশতৈল, তরফপুর, লতিফপুর ও গোড়াই ইউনিয়ন পাহাড়বেষ্টিত এলাকা হিসেবে পরিচিত। এক সময় এসব এলাকায় বিস্তৃত বনাঞ্চলের মধ্যে শত শত উঁচু টিলা ছিল। সেই বনাঞ্চলে বাঘসহ নানা জাতের পশু-পাখির আবাস ছিল এবং শাল, গজারি ছাড়াও বিভিন্ন ফলজ ও ওষুধি গাছে ভরপুর ছিল পাহাড়ি এলাকা।
স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রতিবছরই এক শ্রেণির মাটি ব্যবসায়ী অবৈধভাবে পাহাড়ের টিলা কেটে লাল মাটি তুলে ইটভাটা ও বিভিন্ন স্থানে বিক্রি করে বিপুল অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছে। চলতি বছরেও এর ব্যতিক্রম হয়নি। দীর্ঘদিন ধরে টিলা কেটে মাটি বিক্রির ফলে পাহাড়ি এলাকার টিলার সংখ্যা দিন দিন কমে যাচ্ছে।
সরেজমিনে তরফপুর ইউনিয়নে গিয়ে দেখা গেছে, মাত্র এক মাসের ব্যবধানে অন্তত ১০টি বড় টিলা কেটে মাটি বিক্রি করা হয়েছে। রাখেরচালা এলাকায় ভেকু মেশিন দিয়ে কয়েকটি টিলার মাটি কেটে নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি আরও একটি টিলা কাটার প্রস্তুতি চলছে। ওই টিলার ওপর থাকা আকাশমনি, কাঁঠাল ও আমসহ সব ধরনের গাছ কেটে ফেলা হচ্ছে।
তরফপুর গ্রামের হযরত আলী, মাসুম ও শহিদ জানান, বাঁশতৈল এলাকার রোকন নামে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে মাটি কাটার অভিযোগ রয়েছে। একইভাবে টাকিয়া কদমা গ্রামের রাধারচালা এলাকায় দুটি টিলার মাটি কেটে নেওয়া হচ্ছে বলে জানান স্থানীয়রা। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন অভিযোগ করেন, বাঁশতৈল এলাকার শহিদুল নামে এক মাটি ব্যবসায়ী এসব কাজে জড়িত।
পাহাড় থেকে কাটা লাল মাটি বহনকারী বড় ড্রাম্প ট্রাকের অবিরাম চলাচলে এলাকার গ্রামীণ সড়কগুলো খানাখন্দকে ভরে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। প্রভাবশালী মাটি ব্যবসায়ীদের ভয়ে অনেকেই মুখ খুলতে সাহস পাচ্ছেন না বলে জানান স্থানীয়রা। তবে অভিযোগ প্রসঙ্গে রোকন বলেন, তিনি মাটি ব্যবসা ছেড়ে দিয়েছেন, বর্তমানে অন্যরা এসব কাজ করছে।
এ বিষয়ে তরফপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আজিজ রেজা জানান, পাহাড়ের টিলা কাটার বিষয়ে তার জানা নেই। অন্যদিকে মির্জাপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সুরাইয়া ইয়াসমিন বলেন, পাহাড় কেটে মাটি বিক্রি বন্ধে একাধিকবার অভিযান চালিয়ে জরিমানা ও আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। রাতেও অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। নানা কৌশলে কেউ কেউ এ কাজ চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলেও প্রশাসনের অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে তিনি জানান।











