খবর বাংলা ডেস্ক :
অভিবাসন ভিসা স্থগিতের পর বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য ‘ভিসা বন্ড’ বা জামানত প্রথার কার্যকর পদ্ধতি জানিয়েছে ঢাকার মার্কিন দূতাবাস। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, এখন থেকে বাংলাদেশিদের সর্বোচ্চ তিন মাস মেয়াদি এবং একবার প্রবেশযোগ্য সিঙ্গেল-এন্ট্রি ভিসা দেওয়া হবে। একই সঙ্গে বহুল আলোচিত ভিসা বন্ডের বিস্তারিত প্রক্রিয়াও প্রকাশ করা হয়েছে।
সোমবার ঢাকার মার্কিন দূতাবাস তাদের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক বার্তায় এসব তথ্য জানায়। দূতাবাসের পক্ষ থেকে বলা হয়, যেসব দেশের নাগরিকদের যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে নির্ধারিত সময়ের বেশি অবস্থান করার প্রবণতা বেশি, তাদের নিরুৎসাহিত করতেই এই ভিসা বন্ড পাইলট প্রোগ্রাম চালু করা হয়েছে। গত ৭ জানুয়ারি এই কর্মসূচির আওতায় বাংলাদেশের নাম যুক্ত করা হয়।
দূতাবাসের তথ্য অনুযায়ী, কোনো বাংলাদেশি নাগরিক ভিসার জন্য আবেদন করে ইন্টারভিউয়ের পর যোগ্য বিবেচিত হলে কনসুলার কর্মকর্তা তাকে ভিসা বন্ড পরিশোধের নির্দেশনা দেবেন। ভিসা অনুমোদনের পর ৩০ দিনের মধ্যে pay.gov-এর মাধ্যমে এই জামানতের অর্থ পরিশোধ করতে হবে। বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রে ভিসা বন্ডের পরিমাণ সর্বোচ্চ ১৫ হাজার মার্কিন ডলার পর্যন্ত নির্ধারণ করা হতে পারে, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ১৮ লাখ টাকার সমান।
ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার পর নির্ধারিত সময়ের মধ্যে দেশে ফিরে এলে এবং যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানকালে কোনো ধরনের কাজ না করার শর্ত পূরণ হলে এই জামানতের অর্থ স্বয়ংক্রিয়ভাবে ফেরত দেওয়া হবে বলে জানিয়েছে দূতাবাস।
এ ছাড়া ভিসা বন্ড প্রদানকারী যাত্রীদের জন্য যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ ও প্রস্থানের ক্ষেত্রেও নতুন বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। এখন থেকে বাংলাদেশি নাগরিকরা কেবল তিনটি নির্দিষ্ট আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ব্যবহার করে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ ও বের হতে পারবেন। এসব বিমানবন্দর হলো নিউইয়র্কের জন এফ কেনেডি ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্ট, ওয়াশিংটন ডুলস ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্ট এবং বোস্টন লোগান ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্ট।
নির্ধারিত এসব বিমানবন্দর ছাড়া অন্য কোনো পথে যাতায়াত করলে ভিসা বন্ডের শর্ত ভঙ্গ হয়েছে বলে গণ্য হবে। সে ক্ষেত্রে জামানতের অর্থ ফেরত পাওয়া অনিশ্চিত হয়ে পড়তে পারে বলেও সতর্ক করেছে যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাস।
তথ্য সূত্র : কালের কণ্ঠ











