সখিপুর সংবাদ দাতা
টাঙ্গাইলের সখীপুরে অসুস্থ স্বামীকে গভীর রাতে গ্রামের রাস্তায় ফেলে যাওয়ার অভিযোগে আলোচনায় আসা জামাল উদ্দিন (৫৫) মারা গেছেন। সোমবার (১৮ আগস্ট) বেলা সাড়ে ৩টার দিকে উপজেলার কালমেঘা গ্রামে ভাতিজি ইসমত আরার বাড়িতে তাঁর মৃত্যু হয়।
এর আগে গত ৪ আগস্ট স্থানীয় বাসিন্দারা চাঁদা তুলে জামাল উদ্দিনকে সখীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেছিলেন। সেখানে চিকিৎসাধীন থাকার পর শারীরিক অবস্থার উন্নতি না হওয়ায় গত শুক্রবার তাঁকে আবার ভাতিজির বাড়িতে নিয়ে আসা হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ১ আগস্ট গভীর রাতে কালমেঘা এলাকায় তাঁর পৈতৃক ভিটার পাশের একটি গ্রামের রাস্তায় জামাল উদ্দিনকে রেখে যাওয়ার অভিযোগ ওঠে তাঁর স্ত্রী ও পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে। পরদিন সকালে স্থানীয়রা তাঁকে রাস্তার পাশে পড়ে থাকতে দেখেন। পরে বৃষ্টি শুরু হলে ভাতিজি ইসমত আরা তাঁকে নিজের বাড়িতে নিয়ে যান।
ঘটনাটি গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা হয়।
ইসমত আরার স্বামী শাহ আলম জানান, জামাল উদ্দিনের দুটি কিডনি বিকল হয়ে গিয়েছিল। তাঁদের বাড়িতে জায়গা সংকট থাকলেও বারান্দায় তাঁর থাকার ব্যবস্থা করা হয়েছিল। পরে এলাকাবাসীর সহায়তায় চাঁদা তুলে তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
পারিবারিক সূত্র জানায়, প্রায় ২২ বছর আগে জামাল উদ্দিন কালমেঘা গ্রামের পৈতৃক ভিটাসহ সম্পত্তি বিক্রি করে স্ত্রী রিনা আক্তারকে নিয়ে গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার বাঁশবাড়ি এলাকায় শ্বশুরবাড়িতে বসবাস শুরু করেন। পরে তিনি সৌদি আরবে যান এবং সেখানে প্রায় ১২ বছর কাজ করেন। প্রায় তিন মাস আগে অসুস্থ অবস্থায় দেশে ফেরার পর থেকে তিনি স্বাভাবিকভাবে চলাফেরা করতে পারছিলেন না।
জামাল উদ্দিনের ভাই আবদুল জলিলের দাবি, বিদেশে থাকাকালে জামাল তাঁর উপার্জনের টাকা স্ত্রীর নামে পাঠিয়েছেন। দেশে অসুস্থ হয়ে ফেরার পর স্ত্রী-সন্তানেরা তাঁর চিকিৎসার দায়িত্ব নিতে আগ্রহ দেখাননি বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
তবে জামাল উদ্দিনের স্ত্রী রিনা আক্তার এর আগে জানিয়েছিলেন, প্রায় আড়াই মাস আগে তিনি জামাল উদ্দিনকে তালাক দিয়েছেন। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, জামাল আর তাঁর স্বামী নন এবং এ কারণেই তাঁকে গাড়িতে করে তাঁদের গ্রামে রেখে আসা হয়েছিল।
এদিকে জামাল উদ্দিনের মৃত্যুর পর স্থানীয় বাসিন্দারা চাঁদা তুলে তাঁর দাফনের ব্যবস্থা করছেন বলে জানিয়েছেন সখীপুর উপজেলার বহুরিয়া ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান নূরে আলম।











