খবরবাংলা ডেস্ক :
কনটেন্ট ক্রিয়েটর সালমান মুক্তাদিরের শ্বশুর শেখ নূর ইসলামের ফু-ওয়াং বোলিং অ্যান্ড সার্ভিসেস লিমিটেডসহ রাজধানীর চারটি বার ও প্রতিষ্ঠানে বিশেষ অভিযান চালিয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থা।
শনিবার (৩ অক্টোবর) কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের (সিআইআইডি) নেতৃত্বে এই অভিযান পরিচালনা করা হয়। অন্য প্রতিষ্ঠানগুলো হলো—র ক্যানভাস রেস্টুরেন্ট, হাবিব হোটেল ইন্টারন্যাশনাল এবং মার্গারিটা লাউঞ্জ।
এনবিআর জানিয়েছে, রাজধানীর বিভিন্ন বার, রেস্টুরেন্ট, ডিপ্লোম্যাটিক বন্ডেড ওয়্যারহাউস ও ডিউটি ফ্রি শপে অবৈধ উৎস থেকে অ্যালকোহল ও অ্যালকোহলজাত পণ্য সংগ্রহ, শুল্ক-মূসক ও আয়কর ফাঁকি এবং অননুমোদিত গ্রাহকের কাছে এসব পণ্য সরবরাহের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে অভিযান চালানো হয়।
অভিযানে এনবিআরের আয়কর গোয়েন্দা ও তদন্ত ইউনিট, সেন্ট্রাল ইন্টেলিজেন্স সেল (সিআইসি), ভ্যাট অডিট, ইন্টেলিজেন্স অ্যান্ড ইনভেস্টিগেশন অধিদপ্তর এবং ঢাকা উত্তর কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কর্মকর্তারা অংশ নেন।
সিআইআইডির অতিরিক্ত মহাপরিচালক রিজভী আহমেদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ফু-ওয়াং বোলিং অ্যান্ড সার্ভিসেস লিমিটেড থেকে বিভিন্ন ব্র্যান্ডের ২৩০ বোতল অনুমোদনহীন মদ জব্দ করা হয়েছে। অভিযানের সময় এসব মদের বৈধ কাগজপত্র দেখাতে পারেনি প্রতিষ্ঠানটি বলে জানায় এনবিআর।
এ ছাড়া ফু-ওয়াং থেকে ড্রাগ অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের অনুমোদন ছাড়া আমদানি করা জিনসেং এবং প্রায় এক কেজি জাফরানও জব্দ করা হয়েছে বলে জানিয়েছে প্রথম আলো।
এর আগে বৃহস্পতিবার গভীর রাতে দক্ষিণ গুলশানের টস বন্ড প্রাইভেট লিমিটেড নামের একটি বন্ডেড ওয়্যারহাউসে যৌথ অভিযান চালায় সিআইআইডি, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর (ডিএনসি) ও স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি)। সেখানে বন্ড সুবিধায় আমদানি করা শুল্কমুক্ত মদ অননুমোদিত গুদামে মজুতের অভিযোগে চারটি গুদাম সিলগালা করা হয়।
শেখ নূর ইসলামকে ওই ওয়্যারহাউসের সঙ্গে সম্পৃক্ত বলে বিভিন্ন সরকারি কর্মকর্তার বক্তব্যের কথা এসেছে। তবে ফু-ওয়াং কর্তৃপক্ষ দাবি করেছে, টস বন্ডের সঙ্গে শেখ নূর ইসলাম বা তাঁর পরিবারের কোনো সম্পর্ক নেই। এ নিয়ে তাদের পক্ষ থেকে প্রতিবাদও জানানো হয়েছে।
এদিকে, শেখ নূর ইসলামের মালিকানাধীন বা সংশ্লিষ্ট ব্যবসা প্রতিষ্ঠান নিয়ে অতীতেও শুল্ক গোয়েন্দার অভিযান ও অনিয়মের অভিযোগের কথা বিভিন্ন প্রতিবেদনে এসেছে। এসব অভিযোগের মধ্যে অবৈধভাবে মদ আমদানি, লাইসেন্সের অপব্যবহার এবং তদন্তে প্রভাব বিস্তারের বিষয়ও রয়েছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট পক্ষের বক্তব্যও রয়েছে এবং অভিযোগগুলো এখনো তদন্তসাপেক্ষ।
সাম্প্রতিক অভিযানে জব্দ করা মদ ও অন্যান্য পণ্যের উৎস, আমদানি ও ক্রয়সংক্রান্ত কাগজপত্র, বৈধতা এবং সংশ্লিষ্ট শুল্ক-মূসক ও আয়কর পরিশোধের তথ্য যাচাই করছে এনবিআরের সংশ্লিষ্ট ইউনিটগুলো। অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া গেলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
তথ্য সূত্র : কালের কণ্ঠ











