খবর বাংলা ডেস্ক :
বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্তে নতুন একটি সশস্ত্র সংগঠন ‘খুমি পিপল ফোর্স’ এর আনাগোনা বেড়েছে বলে জানা গেছে। এটি মিয়ানমারের চীন প্রদেশের পালেতোয়া টাউনশিপ এলাকার খুমি ন্যাশনাল কংগ্রেস পার্টির সশস্ত্র শাখা, যা চলতি বছরেই আত্মপ্রকাশ করেছে।
স্থানীয় সূত্র ও সীমান্ত সংশ্লিষ্টদের তথ্য অনুযায়ী, আরাকান আর্মির সহিংস পরিস্থিতির কারণে গত দুই মাস ধরে সংগঠনটির সদস্যরা বান্দরবানের রুমা ও থানচি সীমান্ত এলাকায় অবস্থান করছে।
গত এপ্রিলের মাঝামাঝি সময় প্রথমবারের মতো তাদের দেখা যায় বান্দরবানের বাংলাদেশ-ভারত-মিয়ানমার সীমান্তের তিনমুখ পিলার সংলগ্ন কেসপাই পাড়া এলাকায়। এরপর তংব্রাই ডুলু চাঁদ, থানদৈ, ক্রামচি পাড়াসহ বিভিন্ন এলাকায় তাদের উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়।
সবশেষ মে মাসের শেষ দিকে থানচি উপজেলার তিন্দু ইউনিয়নের পাউপাড়া এলাকার একটি ঝিরিতে তাদের দেখা যায় বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন। তবে এলাকাবাসী ভয়ের কারণে প্রকাশ্যে কিছু বলতে রাজি হননি।
সূত্র অনুযায়ী, পাউপাড়া থেকে সংগঠনটির সদস্যরা তিন্দু বাজারের বিপরীতে ক্রামচি পাড়ায় অবস্থান নেয় এবং সেখানে স্থানীয় এক ব্যক্তিকে প্রধান করে একটি কমিটি গঠন করা হয় বলেও জানা গেছে।
স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের ভাষ্যমতে, বিষয়টি বিজিবিকে জানানো হলে সীমান্ত এলাকায় অভিযানও পরিচালনা করা হয়। পরে সংগঠনটির পক্ষ থেকে বিজিবির কাছে একটি চিঠি পাঠানো হয়, যেখানে সীমান্ত এলাকায় অবাধ চলাচলের অনুরোধ জানানো হয়।
বিজিবির কক্সবাজার রিজিয়ন কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ আকসার খান জানান, সীমান্তে কোনো সশস্ত্র গোষ্ঠীকে কার্যক্রম চালাতে দেওয়া হবে না। তিনি বলেন, তাদের পাঠানো চিঠি পাওয়া গেছে, তবে তাদের সঙ্গে কোনো ধরনের কার্যক্রমের সুযোগ নেই।
তিনি আরও জানান, সীমান্ত নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে এবং অস্থায়ী ক্যাম্প ও চেকপোস্ট স্থাপনের মাধ্যমে নজরদারি বাড়ানো হচ্ছে।
সীমান্ত পরিস্থিতি নিয়ে গবেষকদের মতে, মিয়ানমারের অভ্যন্তরীণ সংঘাতের প্রভাব সীমান্ত এলাকায় নতুন নতুন সশস্ত্র গোষ্ঠীর উপস্থিতি বাড়াচ্ছে, যা পুরো অঞ্চলজুড়ে নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে জটিল করে তুলছে।
তথ্য সূত্র : যমুনা টিভি











