খবরবাংলা ডেস্ক :
বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার মধ্যে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) ২০২৭ সালের মধ্যে সম্পন্ন করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। একই সঙ্গে দুই দেশের বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বাড়াতে নতুন ও সম্ভাবনাময় বিভিন্ন খাতে সহযোগিতা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
সোমবার ঢাকায় মালয়েশিয়ার ৬৯তম জাতীয় দিবস ও ৬৩তম মালয়েশিয়া দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে দেশটির হাইকমিশনার মোহাম্মদ শুহাদা উসমান এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খান।
হাইকমিশনার জানান, ২০২৫ সালে বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যের পরিমাণ প্রায় ৮৩ কোটি ডলারে পৌঁছেছে। দক্ষিণ এশিয়ায় বাংলাদেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম বাণিজ্যিক অংশীদার মালয়েশিয়া। বিদ্যমান অর্থনৈতিক সম্পর্ককে আরও বিস্তৃত করার যথেষ্ট সুযোগ রয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
বাংলাদেশ-মালয়েশিয়া মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে আলোচনা চলমান রয়েছে জানিয়ে শুহাদা উসমান বলেন, ২০২৭ সালের মধ্যে চুক্তিটি সম্পন্ন করার লক্ষ্য রয়েছে।
তিনি বলেন, দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্ককে প্রচলিত খাতের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে সেমিকন্ডাক্টর, হালাল শিল্প, ডিজিটাল অর্থনীতি, আধুনিক উৎপাদন, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, অবকাঠামো, নগর ব্যবস্থাপনা, ইসলামী অর্থায়ন ও কৃষির মতো খাতে সহযোগিতা বাড়ানো যেতে পারে।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সাম্প্রতিক মালয়েশিয়া সফরের কথা উল্লেখ করে হাইকমিশনার বলেন, সফরটি দুই দেশের সম্পর্কের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। এর মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার মধ্যে পারস্পরিক আস্থা ও বিশ্বাস আরও দৃঢ় হয়েছে।
অনুষ্ঠানে ড. আবদুল মঈন খান দুই দেশের মধ্যে এরই মধ্যে স্বাক্ষরিত বিভিন্ন চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক দ্রুত বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্ব দেন। তিনি বলেন, এসব চুক্তি যেন শুধু কাগজে-কলমে সীমাবদ্ধ না থাকে, সেদিকে নজর দিতে হবে।
দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য ও বিনিয়োগের পাশাপাশি প্রযুক্তি, সংস্কৃতি ও অন্যান্য নতুন খাতে সহযোগিতা সম্প্রসারণের সুযোগ রয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশি কর্মীদের অবদানের প্রশংসা করে হাইকমিশনার বলেন, দুই দেশের মানুষের মধ্যে দীর্ঘদিনের শক্তিশালী যোগাযোগ রয়েছে। বর্তমানে মালয়েশিয়ায় ১০ হাজারের বেশি বাংলাদেশি শিক্ষার্থী পড়াশোনা করছেন।
‘ভিজিট মালয়েশিয়া ২০২৬–২৭’ কর্মসূচির আওতায় বাংলাদেশিদের মালয়েশিয়া ভ্রমণের আমন্ত্রণও জানান তিনি। পর্যটনের পাশাপাশি চিকিৎসা পর্যটনেও বাংলাদেশিদের জন্য দেশটিতে সুযোগ রয়েছে বলে জানান হাইকমিশনার।
প্রতিরক্ষা সহযোগিতা নিয়েও দুই দেশের সম্পর্ক এগিয়ে যাচ্ছে বলে জানান শুহাদা উসমান। গত বছর প্রতিরক্ষা সহযোগিতা নিয়ে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, সামরিক প্রশিক্ষণ ও প্রতিরক্ষা শিল্পে সহযোগিতার মাধ্যমে এ সম্পর্ক আরও কার্যকর করার বিষয়ে দুই দেশ প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
রোহিঙ্গা সংকট প্রসঙ্গে বাংলাদেশের প্রতি মালয়েশিয়ার সংহতি পুনর্ব্যক্ত করেন হাইকমিশনার। মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের নিরাপদ, মর্যাদাপূর্ণ, স্বেচ্ছামূলক ও টেকসই প্রত্যাবাসনের পক্ষেও মালয়েশিয়ার সমর্থনের কথা জানান তিনি।
বাংলাদেশের আসিয়ানের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক সম্পৃক্ততার আকাঙ্ক্ষাকে স্বাগত জানিয়ে শুহাদা উসমান বলেন, এ প্রক্রিয়ায় মালয়েশিয়া গঠনমূলকভাবে সহযোগিতা করতে প্রস্তুত। পাশাপাশি আঞ্চলিক সমন্বিত অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব জোটে বাংলাদেশের যোগদানের আকাঙ্ক্ষাতেও মালয়েশিয়ার সমর্থন রয়েছে বলে জানান তিনি।
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমানের সভাপতিত্বেরও প্রশংসা করেন মালয়েশিয়ার হাইকমিশনার। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে সংলাপ, সহযোগিতা ও অভিন্ন স্বার্থ এগিয়ে নিতে তার নেতৃত্বে মালয়েশিয়া সহযোগিতা করবে বলেও জানান তিনি।
তথ্য সূত্র : কালের কণ্ঠ











