টাঙ্গাইল সদর সংবাদ দাতা
টাঙ্গাইলে আয়োজিত ‘গ্রামীণ কুটির শিল্প ও উদ্যোক্তা মেলা’কে ঘিরে নানা অনিয়ম ও আর্থিক অসঙ্গতির অভিযোগ উঠেছে। মাত্র ৩০ হাজার টাকা সরকারি রাজস্ব দিয়ে মাসব্যাপী এ মেলা থেকে কোটি টাকার বেশি অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন সংশ্লিষ্টরা। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা চলছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, টাঙ্গাইল জেলা পরিষদ সংলগ্ন কালেক্টরেট মাঠে গত ১৬ মে শুরু হওয়া মাসব্যাপী মেলায় রয়েছে ৮৭টি স্টল, ১১টি বিনোদনমূলক রাইড এবং চারটি প্যাভিলিয়ন। তবে ‘গ্রামীণ কুটির শিল্প ও উদ্যোক্তা মেলা’ নামে আয়োজন করা হলেও মেলায় কুটির শিল্পের উল্লেখযোগ্য কোনো পণ্য চোখে পড়েনি বলে অভিযোগ দর্শনার্থীদের।
জানা গেছে, মেলার আয়োজক কমিটির অন্যতম সদস্য আজাদ হোসেন রানা জেলা প্রশাসনের কাছ থেকে এক মাসের জন্য মেলার অনুমতি নিয়েছেন। অনুমোদনের শর্ত অনুযায়ী প্রতিদিন সোনালী ব্যাংকের মাধ্যমে সরকারি কোষাগারে এক হাজার টাকা করে জমা দেওয়া হচ্ছে। সে হিসেবে এক মাসে মোট ৩০ হাজার টাকা রাজস্ব জমা হবে।
অন্যদিকে, খোঁজ নিয়ে জানা যায়, মেলায় বিভিন্ন আকারের স্টল মাসিক ৮০ হাজার থেকে ৩ লাখ টাকা পর্যন্ত চুক্তিতে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া ১১টি রাইড থেকে দৈনিক আয়ের একটি অংশ নেওয়া হচ্ছে বলেও অভিযোগ রয়েছে। মেলার বাইরেও অতিরিক্ত স্টল বসানোর অনুমতি দিয়ে অর্থ আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। মোটরসাইকেল পার্কিং বাবদও মোটা অঙ্কের অর্থ নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।
কয়েকজন স্টল মালিক অভিযোগ করে বলেন, নির্ধারিত চুক্তি অনুযায়ী টাকা পরিশোধের পাশাপাশি প্রতিদিন বিক্রির ওপর ভিত্তি করে আয়োজকদের অর্থ দিতে হচ্ছে। বিক্রি কম হলেও অর্থ পরিশোধে চাপ দেওয়া হয়। টাকা পরিশোধে বিলম্ব হলে স্টল পরিচালনায় বাধার মুখেও পড়তে হচ্ছে বলে অভিযোগ তাদের।
মেলার কয়েকজন দর্শনার্থী বলেন, মেলার নামের সঙ্গে বাস্তবতার মিল নেই। গ্রামীণ কুটির শিল্পের পণ্য কেনার প্রত্যাশা নিয়ে এলেও অধিকাংশ স্টলে সাধারণ বাণিজ্যিক পণ্য পাওয়া যাচ্ছে। এছাড়া বিভিন্ন রাইডের টিকিটের মূল্যও তুলনামূলক বেশি বলে অভিযোগ করেন তারা।
তবে আয়োজক কমিটির অন্যতম সদস্য আজাদ হোসেন রানা অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, নিয়ম মেনেই মেলার কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। তিনি জানান, প্রতিদিন সরকারি কোষাগারে এক হাজার টাকা জমা দেওয়া হচ্ছে এবং মেলায় প্রায় ৬৫ থেকে ৭০টি স্টল রয়েছে।
এ বিষয়ে টাঙ্গাইলের জেলা প্রশাসক শরীফা হক বলেন, বিনোদনমূলক আয়োজন হিসেবে মেলার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। তবে স্টল বরাদ্দ ও অর্থ আদায়ের বিষয়ে তার কাছে কোনো তথ্য নেই। অভিযোগের বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।











