মির্জাপুর সংবাদ দাতা
টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে এক লাখ টাকা জরিমানা দেওয়ার পরও বন্ধ হয়নি এক বিএনপি নেতার মাটি কাটা কার্যক্রম। ফসলি জমি ও গ্রামীণ সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত করে অবাধে মাটি কাটার অভিযোগ উঠেছে তার বিরুদ্ধে। স্থানীয়রা প্রশাসন ও রাজনৈতিক নেতাদের কাছে অভিযোগ করেও কোনো প্রতিকার পাচ্ছেন না বলে জানিয়েছেন।
অভিযোগে জানা যায়, অভিযুক্ত ব্যক্তি ভাদগ্রাম ইউনিয়নের চৌহাত্তুর গ্রামের বাসিন্দা ইব্রাহীম মিয়া, যিনি নিজেকে উপজেলা বিএনপির সদস্য ও যুবদলের সাবেক সহসভাপতি হিসেবে পরিচয় দেন।
গ্রামবাসীর অভিযোগের ভিত্তিতে গত সপ্তাহে মির্জাপুর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) তারেক রেজা ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে তার তিনটি ড্রাম ট্রাক আটক করেন এবং এক লাখ টাকা জরিমানা আদায় করেন। কিন্তু এরপরও মাটি কাটা বন্ধ হয়নি।
সরেজমিনে দেখা যায়, চৌহাত্তুর ও আশপাশের এলাকায় বোরো আবাদ করা জমির মাঝেই ভেকু মেশিন দিয়ে গভীর করে মাটি কাটা হচ্ছে। রাতের আঁধারে এসব মাটি ড্রাম ট্রাকে করে অন্যত্র বিক্রি করা হচ্ছে। এতে সদ্য নির্মিত ইটসোলিং রাস্তা ভেঙে চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে।
এছাড়া মাটি বহনকারী ট্রাক চলাচলের কারণে পাশের একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পরিবেশ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। ধুলাবালিতে বিদ্যালয়ের শ্রেণিকক্ষ ঢেকে যাচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন এলাকাবাসী।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান,
এই রাস্তা চৌহাত্তুর ও অষ্টমুশিয়া গ্রামের মানুষের একমাত্র চলাচলের পথ। মাটি বোঝাই ট্রাক চলাচলের কারণে রাস্তাটি দ্রুত নষ্ট হয়ে যাচ্ছে, ফলে সাধারণ মানুষের চলাফেরায় ভোগান্তি বাড়ছে। এ বিষয়ে ভাদগ্রাম ইউনিয়ন যুবদলের সাংগঠনিক সম্পাদক বলেন, ইব্রাহীম নিজেকে দলের সদস্য দাবি করলেও তিনি প্রকৃতপক্ষে সদস্য নন। জনগণের ক্ষতি করে কোনো ব্যবসা করা দলের আদর্শ নয়।
ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আজহারুল ইসলাম জানান, রাস্তায় খুঁটি বসিয়ে ভারী যান চলাচল বন্ধের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। অভিযুক্ত ইব্রাহীম মিয়া দাবি করেন, রাস্তা ইটসোলিং হওয়ার আগেই তিনি জমির মাটি কিনেছেন। তবে রাস্তার ক্ষতি হলে তা সংস্কার করে দেবেন বলেও জানান।
এ বিষয়ে মির্জাপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মাহমুদা খাতুন বলেন, বিষয়টি তার জানা নেই, খোঁজ নিয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অন্যদিকে উপজেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি অ্যাডভোকেট আব্দুর রউফ জানান, ইব্রাহীম নামে ওই ব্যক্তি দলের কোনো সদস্য নন।
উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) তারেক আজিজ বলেন, মাটি কাটা বন্ধ না হলে আবারও অভিযান চালানো হবে।











