খবরবাংলা ডেস্ক :
কিশোরগঞ্জের হোসেনপুরে বরযাত্রীর গাড়ি থামিয়ে নববধূ তামান্না আক্তারকে তুলে নেওয়ার অভিযোগের ঘটনায় নতুন মোড় এসেছে। ঘটনার একদিন পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত এক ভিডিও বার্তায় তামান্না দাবি করেছেন, তিনি আর ফিরে যেতে চান না এবং সেখানেই থাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
ভিডিও বার্তায় তামান্না বলেন, ‘জোর করে হোক কিংবা নিজের ইচ্ছায় হোক, যেভাবেই এসে থাকি, এসে তো পড়েছিই। এখন এখানেই থাকব।’
এর আগে রোববার (৩০ আগস্ট) উপজেলার জিনারী ইউনিয়নের হাজিপুর বাজার এলাকায় বিয়ের অনুষ্ঠান শেষে বাড়ি ফেরার পথে বরযাত্রীদের গাড়ির গতিরোধ করে নববধূকে তুলে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ ওঠে আতিকুর রহমান মিয়াদের বিরুদ্ধে। তিনি চর হাজিপুর গ্রামের বাসিন্দা এবং ছাত্রদলের কর্মী বলে স্থানীয়ভাবে জানা গেছে।
ভিডিওতে তামান্নাকে আরও বলতে শোনা যায়, ‘আমি যদি এখন ফিরেও যাই, আমার মান-সম্মান ফেরত আসবে না; আমার বাবা-মায়ের মান-সম্মানও আর ফিরে আসবে না। তাই আমি সিদ্ধান্ত নিয়েছি এখানেই থেকে যাব।’
সোমবার (৩১ আগস্ট) রাতে প্রকাশ্যে আসা ভিডিওতে তামান্নাকে কয়েকজন নারীর সঙ্গে একটি কক্ষে বসে থাকতে দেখা যায়। দরজার পাশে অভিযুক্ত আতিকুর রহমান মিয়াদকেও দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা গেছে। তবে ভিডিওটি কোথায় ধারণ করা হয়েছে, সে বিষয়ে এখনো নিশ্চিত হতে পারেনি পুলিশ।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, হোসেনপুরের সিদলা ইউনিয়নের নয়াপাড়া গ্রামের তামান্না আক্তারের সঙ্গে নান্দাইল উপজেলার রাজাবাড়িয়া গ্রামের আক্তার মিয়ার পারিবারিকভাবে বিয়ে হয়। বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা শেষে নববধূকে নিয়ে বরপক্ষের লোকজন বাড়ি ফিরছিলেন। পথে ২০ থেকে ২৫ জন যুবক মাইক্রোবাসটির গতিরোধ করে এবং মিয়াদের নেতৃত্বে গাড়িতে ভাঙচুর চালিয়ে তামান্নাকে নিয়ে চলে যায় বলে অভিযোগ রয়েছে।
ঘটনার পর তামান্না ও আতিকুর রহমান মিয়াদের মধ্যে দীর্ঘদিনের প্রেমের সম্পর্ক ছিল বলে গুঞ্জন ছড়ায়। তবে এ দাবির স্বাধীন ও নির্ভরযোগ্য কোনো সূত্র এখনো পাওয়া যায়নি।
হোসেনপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মুহাম্মদ রাশেদুল ইসলাম জানান, এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো লিখিত মামলা হয়নি। তবে পুলিশ ওই নারীকে উদ্ধারের চেষ্টা করছে। তাকে উদ্ধারের পর পুরো ঘটনার প্রকৃত ঘটনা স্পষ্ট হবে বলে জানান তিনি।
এদিকে হোসেনপুর উপজেলা ছাত্রদলের সদস্যসচিব দেলোয়ার হোসেন রাজীব বলেন, আতিকুর রহমান মিয়াদ ছাত্রদলের একজন কর্মী। কিশোরগঞ্জ জেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক রাফিউল ইসলাম নওসাদ জানান, ঘটনাটি জানার পর সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।
জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্যসচিব শহীদুল্লাহ কাইসার শহীদ বলেন, আতিকুর দলীয় কর্মী হলেও তার কর্মকাণ্ড গর্হিত ও অন্যায়। মেয়ের পরিবার আইনি পদক্ষেপ নিলে পুলিশ ও প্রশাসনকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
অভিযুক্ত আতিকুর রহমান মিয়াদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার মুঠোফোন বন্ধ পাওয়া যায়। ফলে এ বিষয়ে তার বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি।
তথ্য সূত্র : কালের কণ্ঠ











