খবরবাংলা ডেস্ক :
ডেঙ্গুর সংক্রমণ কমাতে তিন মাসব্যাপী বিশেষ পরিচ্ছন্নতা ও জনসচেতনতামূলক কর্মসূচিসহ একগুচ্ছ পদক্ষেপ নিয়েছে সরকার। আগামী শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এ কর্মসূচির উদ্বোধন করবেন।
সরকার ক্ষমতায় আসার পর চলতি বছরের মার্চ থেকেই ডেঙ্গু প্রতিরোধে বিভিন্ন কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে। এর অংশ হিসেবে প্রতি শনিবার বিশেষ পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। পাশাপাশি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও বাড়িতে এডিস মশার লার্ভা শনাক্ত করতে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
ডেঙ্গু রোগীদের চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে উপজেলা হাসপাতালগুলোতে ডেঙ্গু কর্নার স্থাপন করা হয়েছে। রোগীর চাপ বেড়ে গেলে পরিস্থিতি সামাল দিতে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মাঠে একটি অস্থায়ী হাসপাতালও প্রস্তুত রাখা হয়েছে।
এ ছাড়া সারা দেশে প্রায় ৩০০ চিকিৎসককে ডেঙ্গু রোগীদের চিকিৎসার বিষয়ে বিশেষ প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। সরকারি হাসপাতালে ডেঙ্গু পরীক্ষা বিনা মূল্যে করার নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে।
বেসরকারি হাসপাতালগুলোকে মোট শয্যার ১০ শতাংশে বিনামূল্যে ডেঙ্গু রোগীদের চিকিৎসা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে রোগ নির্ণয় কেন্দ্রগুলোকে ডেঙ্গু ও ডেঙ্গু-সংক্রান্ত পরীক্ষায় ৮০ শতাংশ ছাড় দিতে বলা হয়েছে।
বাংলাদেশ মেডিসিন সোসাইটির সহযোগিতায় ডেঙ্গু চিকিৎসার সমন্বিত নির্দেশিকাও হালনাগাদ করা হয়েছে।
সরকারের বিশেষ পরিচ্ছন্নতা ও সচেতনতামূলক কর্মসূচিতে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের স্বেচ্ছাসেবকদের পাশাপাশি স্কাউট, বাংলাদেশ ন্যাশনাল ক্যাডেট কোর, গার্ল গাইডস, বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির স্বেচ্ছাসেবক এবং স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীদের যুক্ত করা হবে।
ডেঙ্গুতে মৃত্যু ও হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যা বাড়তে থাকায় সব সিভিল সার্জনকে হাসপাতালের প্রস্তুতি জোরদার এবং জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম বাড়ানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিতের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত অনলাইন বৈঠকে এ নির্দেশনা দেওয়া হয়।
সিভিল সার্জনদের হাসপাতালগুলোতে ডেঙ্গু রোগীদের অগ্রাধিকার ভিত্তিতে ভর্তি এবং সক্ষমতা অনুযায়ী ডেঙ্গু রোগীদের জন্য নির্ধারিত শয্যা বাড়ানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়া ঠেকাতে ডেঙ্গু রোগী ও আশপাশের ওয়ার্ডের রোগীদের জন্য মশারির ব্যবস্থা নিশ্চিত করতেও বলা হয়েছে।
হাসপাতালে স্যালাইন, ওষুধ ও ডেঙ্গু শনাক্তকরণ কিটের ঘাটতি দেখা দিলে নিজস্ব তহবিল থেকে প্রয়োজনীয় সামগ্রী কেনার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে সারা দেশের সিভিল সার্জনদের সঙ্গে বৈঠক করা হয়েছে। ডেঙ্গু রোগীদের অগ্রাধিকার ভিত্তিতে ভর্তি এবং হাসপাতালের সক্ষমতা অনুযায়ী শয্যা বাড়ানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
তিনি জানান, বর্তমানে হাসপাতালগুলোতে পর্যাপ্ত ডেঙ্গু পরীক্ষার কিট ও স্যালাইন মজুদ রয়েছে। কোথাও ঘাটতি দেখা দিলে দ্রুত নিজস্ব বাজেট থেকে তা সংগ্রহ করতে বলা হয়েছে।
ঢাকার সিভিল সার্জন ডা. জাকারিয়া মাহমুদ জানান, হাসপাতালগুলোতে ইতিমধ্যে স্যালাইন ও ডেঙ্গু পরীক্ষার কিট বিতরণ করা হয়েছে। এসব উপকরণের বর্তমানে কোনো ঘাটতি নেই।
ডেঙ্গুর সম্ভাব্য মহামারি ঠেকাতে সবাইকে নিজ নিজ কর্মস্থল ও বাসাবাড়ি পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার পাশাপাশি দেশজুড়ে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক জানান, সচেতনতা বাড়াতে সমাজের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষকে সম্পৃক্ত করা হবে। মসজিদের ইমামদের মাধ্যমে এবং স্কুল স্বাস্থ্য কর্মসূচির আওতায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতেও সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে।
চলতি বছরের ২৩ জুন ডেঙ্গুসহ মশাবাহিত রোগ প্রতিরোধে জাতীয় কমিটির প্রথম সভায় স্থানীয় সরকার বিভাগের উদ্যোগে একটি উচ্চপর্যায়ের টাস্কফোর্স গঠন করা হয়। স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমকে এই টাস্কফোর্সের সভাপতি করা হয়েছে।
টাস্কফোর্সের দায়িত্বের মধ্যে রয়েছে জাতীয় কমিটির সিদ্ধান্ত মাঠপর্যায়ে বাস্তবায়ন, প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেওয়া, বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও সংস্থার মধ্যে সমন্বয় করা এবং মাঠপর্যায়ের অগ্রগতি নিয়মিতভাবে জাতীয় কমিটিকে জানানো।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের শুরু থেকে ৮ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত দেশে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছেন ৪৫ হাজার ৪৭৫ জন। এ সময়ে ডেঙ্গুতে মৃত্যু হয়েছে ১৩০ জনের।
এদিকে ডেঙ্গু পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ এবং প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ দ্রুত নিতে রোগনিয়ন্ত্রণ শাখা, রোগতত্ত্ব, রোগনিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান, ব্যবস্থাপনা তথ্য ব্যবস্থা এবং হাসপাতাল শাখার পরিচালকদের সমন্বয়ে একটি বিশেষ সেল গঠন করা হয়েছে।











