ঘাটাইল প্রতিনিধি : সময়ের আবহে আধুনিকতার এই যুগে হাজারো রকমের ভেজালের মধ্যে এখনও ঘাটাইল উপজেলার দাড়িয়াল গ্রামে কাঠের ঘানিতে ভাঙা খাঁটি সরিষার তেল পাওয়া যায়।
তাও আবার চোখের সামনে দেশি সরিষা ভাঙিয়ে তৈরি করা হচ্ছে খাঁটি সরিষার তেল।
ঘাটাইল উপজেলার দাড়িয়াল এলাকার একটি মাত্র পরিবার কাঠের ঘানিভাঙা খাঁটি সরিষা তেল উৎপাদন করছেন।
সকাল পাঁচটা থেকে রাত আটটা পর্যন্ত ঘানিতে সরিষার তেল ভাঙ্গানো হয়; আর এই ঘানি টানতে ব্যবহার করা হচ্ছে গরু।
ক্যাঁচক্যাঁচ শব্দে চোখ বাঁধা অবস্থায় গরু ধীরে ধীরে ঘুরছে, সারা দিন টানছে ঘানি; বের হচ্ছে ফোঁটা ফোঁটা তেল।
মাঝে মাঝে বাড়ির মহিলারা সংসারের অন্য্যান্য কাজের ফাঁকে ফাঁকে ঘানিতে সরিষা দিয়ে যাচ্ছেন।
এতে করে সারা দিন ঘানি ঘুরিয়ে উৎপাদন করছেন খাঁটি সরিষার তেল।
অপরদিকে বাড়ির পুরুষ লোকজন সারা দিন গ্রামে অথবা বাজারে ঘুরে সরিষা সংগ্রহের পাশাপাশি তেল বিক্রি করেন
ঘানিভাঙা তেলের ব্যাপক চাহিদার পরও আধুনিক মেশিন নির্ভর শিল্প ও প্রযুক্তির প্রসারের কারণে হারিয়ে যাচ্ছে ঐতিহ্যবাহী কাঠের ঘানি।
ঘানি কারিগর ও ভোক্তাদের বক্তব্য :
এ বিষয়ে ঘানি ভাঙার কারিগর জহুরা খাতুন বলেন, প্রথমে তারা নিজেরা ঘানি ঘুরিয়ে তেল উৎপাদন করতেন; এখন তারা গরু দিয়ে ঘানি ঘুরাচ্ছেন।
এটা তার স্বামীর বাপ-দাদার পেশা, অনেক কষ্টে তারা টিকিয়ে রেখেছেন।
পেশার সাথে জড়িত মো: আবুল বলেন, প্রতিটি ঘানিকে ‘গাছ’ বলা হয়। গাছে একটি বিশেষ আকৃতির ছিদ্রের ভেতর দিয়ে তেল পড়ে এবং তা একটি ড্রামে সংরক্ষণ করা হয়।
প্রতিটি গাছে একবারে সর্বোচ্চ ২০ কেজি সরিষা ভাঙা সম্ভব হয়। এই পরিমাণ সরিষা থেকে তেল উৎপাদন করা যায় ৫ থেকে ৭ কেজির মতো।
২০ কেজি সরিষা ভাঙতে সময় লাগে প্রায় ৭ থেকে ৮ ঘণ্টা। এভাবে দিনে একটি ঘানি থেকে ২০ থেকে ৩০ কেজি সরিষা ভাঙা সম্ভব হয়।
তিনি আরও বলেন, গরু খাবার খাওয়ানোর খরচসহ নিজের খরচ চালাতে সারা দিন ঘানি ঘুরিয়ে যে তেল উৎপাদন হয়; তা বাজারে বিক্রি করে যে টাকা পাওয়া যায়, তা দিয়ে ছেলেমেয়ের পড়াশোনা খরচসহ সংসার চালাতে তাদের কষ্ট হয়।
তাই তার সরকারের সহযোগিতা কামনা করেছেন পরিবারটি।
ঘানি ভাঙা খাঁটি তেল নিতে ঘাটাইল কোচবাড়ী থেকে আসা মোহাম্মদ রাজু বলেন, এখনতো বাজারে খাঁটি সরিষা তেল পাওয়া যায় না। খাঁটি শব্দটাই খাঁটি নাই।
আমার এক বন্ধু জানিয়েছেন, ঘাটাইল দাড়িয়াল এলাকায় ঘানি ঘুরিয়ে তেল উৎপাদন করছে একটি পরিবার; সেই খবর পেয়ে খাঁটি সরিষা তেল সংগ্রহ করলাম। সম্পাদনা – অলক কুমার