টাঙ্গাইল সদর সংবাদ দাতা
কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে টাঙ্গাইলে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজারে অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি দেখা দিয়েছে। ঈদের এখনও প্রায় দুই সপ্তাহ বাকি থাকলেও এরই মধ্যে মসলা, শুকনো ফল ও রান্নার বিভিন্ন উপকরণের দাম বেড়ে গেছে। ব্যবসায়ীদের একাংশের অতিমুনাফা ও কারসাজির অভিযোগে ক্ষোভ প্রকাশ করছেন সাধারণ ক্রেতারা।
শুক্রবার (১৫ মে) সকালে টাঙ্গাইল শহরের বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা যায়, খুচরা বাজারে কেজিপ্রতি এলাচের দাম এক সপ্তাহের ব্যবধানে ৩০০ টাকা বেড়ে ৪ হাজার ৬০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। একইভাবে লবঙ্গের দাম কেজিতে প্রায় ২০০ টাকা বেড়ে ১ হাজার ৪০০ থেকে ১ হাজার ৪৫০ টাকায় উঠেছে।
সবচেয়ে বেশি বেড়েছে আলুবোখারার দাম। বর্তমানে প্রতি কেজি ১ হাজার ৫০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যা আগে ছিল প্রায় ৯০০ টাকা। এছাড়া কিশমিশ প্রতি কেজি ৮৩০ থেকে ৮৫০ টাকা, কাজুবাদাম ১ হাজার ৪০০ টাকা এবং পেস্তা বাদাম ৪ হাজার ১০০ থেকে ৪ হাজার ২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। কয়েক ধাপে পেস্তার দাম প্রায় ৮০০ টাকা বেড়েছে বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা।
মসলাজাতীয় পণ্যের মধ্যে জিরা, দারুচিনি, ধনিয়া গুঁড়া ও তেজপাতার দামও বেড়েছে। বর্তমানে জিরা প্রতি কেজি ৬৫০ টাকা, দারুচিনি ৫০০ থেকে ৬০০ টাকা, ধনিয়া গুঁড়া ২০০ থেকে ২৮০ টাকা এবং তেজপাতা ১৮০ থেকে ২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া দেশি পেঁয়াজের দাম কেজিতে ৫ টাকা বেড়ে ৪০ থেকে ৪৫ টাকায় পৌঁছেছে।
বাজার সংশ্লিষ্টদের মতে, কয়েক বছর ধরেই ঈদের অন্তত দেড় থেকে দুই মাস আগে পণ্যের দাম বাড়ানোর প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। এতে ঈদের সময় মূল্যবৃদ্ধির অভিযোগ এড়ানো সহজ হয়। তবে বাজার তদারকির ঘাটতির কারণেই ব্যবসায়ীদের এমন সুযোগ তৈরি হচ্ছে বলে অভিযোগ ভোক্তাদের।
মসলা কিনতে আসা ক্রেতা শরিফুল ইসলাম বলেন, “ঈদের বাকি এখনও প্রায় দুই সপ্তাহ। কিন্তু এরই মধ্যে সব ধরনের মসলার দাম বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। প্রতি বছরই এমনটা হয়, অথচ বাজার তদারকিতে তেমন কার্যকর উদ্যোগ দেখা যায় না।”
অন্যদিকে মুদি ব্যবসায়ী তুহিন বলেন, বাজারে পণ্যের সরবরাহে কোনো সংকট নেই। তবে পাইকারি পর্যায়ে দাম বেড়ে যাওয়ায় খুচরা বাজারেও বেশি দামে বিক্রি করতে হচ্ছে। আমদানি ব্যয় ও পরিবহন খরচ বাড়ার প্রভাবও বাজারে পড়েছে বলে দাবি করেন তিনি।











