কালিহাতী সংবাদ দাতা
দেশে এখনো পুরোপুরি বানের পানি না এলেও টাঙ্গাইলের কালিহাতী উপজেলায় ধলেশ্বরী নদীর ভয়াবহ ভাঙন শুরু হয়েছে। স্থানীয়দের আশঙ্কা, বর্ষার পানি বাড়লে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ রূপ নেবে। এখনই কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে ভিটেমাটি, ফসলি জমি হারিয়ে পথে বসতে পারেন অন্তত ১৫ গ্রামের হাজারো মানুষ।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার হাতিয়া পশ্চিমপাড়া ও হাতিয়া মোল্লাপাড়া এলাকায় যমুনা নদীর শাখা ধলেশ্বরী নদীতে প্রায় তিন কিলোমিটার এলাকাজুড়ে তীব্র ভাঙন চলছে। বর্ষা মৌসুম শুরু হওয়ার পর নদীর পানি বাড়তে থাকায় প্রতিদিনই নদীগর্ভে বিলীন হচ্ছে ফসলি জমি, আবাদি ক্ষেত ও নদীতীরবর্তী বিস্তীর্ণ এলাকা।
এলাকাবাসী জানান, কয়েক সপ্তাহ আগে নদীতীরে ফাটল দেখা দিলেও ধীরে ধীরে ভাঙনের তীব্রতা বেড়েছে। সবচেয়ে বেশি ক্ষতির মুখে পড়েছেন কৃষকরা। বছরের পর বছর চাষাবাদ করা জমি নদীগর্ভে চলে যাওয়ায় তারা চরম অনিশ্চয়তায় পড়েছেন।
স্থানীয়দের দাবি, ইতোমধ্যে প্রায় আধা কিলোমিটার এলাকা নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। এতে অন্তত অর্ধশত পরিবার বসতভিটা হারিয়ে আশ্রয়হীন হয়ে পড়েছে। পাশাপাশি কৃষি উৎপাদন ও স্থানীয় অর্থনীতিতেও নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
ভাঙনের কারণে নদীতীরবর্তী অনেক বসতবাড়িও ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। পরিস্থিতির আরও অবনতি হলে বহু পরিবারকে নিরাপদ স্থানে সরে যেতে হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।
ক্ষতিগ্রস্তদের অভিযোগ, প্রতি বছর বর্ষা মৌসুমে নদীভাঙন শুরু হলে সাময়িক কিছু উদ্যোগ নেওয়া হলেও স্থায়ী নদীশাসন বা টেকসই বাঁধ নির্মাণের কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয় না। তাই দ্রুত ভাঙনরোধে স্থায়ী প্রকল্প বাস্তবায়নের দাবি জানিয়েছেন তারা।
এ বিষয়ে টাঙ্গাইল পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মাঈন উদ্দিন বলেন, নদীতীর রক্ষা ও ভাঙন নিয়ন্ত্রণে সরকার স্বল্প ও দীর্ঘমেয়াদি বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে। ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলো নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।











