সাইফুল ইসলাম সবুজ
,
কালিহাতী প্রতিনিধিঃ
শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের সহযোগিতা ও সাত একরেরও বেশি জমি চিরস্থায়ী বন্দোবস্তের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠিত টাঙ্গাইলের কালিহাতী শাহজাহান সিরাজ কলেজের ৪৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আলোচনা সভা ও মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) সকাল ১১টায় কলেজ হল রুম এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে ভার্চুয়ালি উপস্থিত ছিলেন স্বাধীনতার ইশতেহার পাঠক প্রয়াত শাজাহান সিরাজের স্ত্রী ও কলেজের পরিচালনা পরিষদের দাতা সদস্য রাবেয়া সিরাজ।
প্রধান আলোচক হিসাবে উপস্থিত ছিলেন ছিলেন কলেজের পরিচালনা পরিষদের সভাপতি, মহিলা ক্রীড়া সংস্থার চেয়ারম্যান ও বাংলাদেশ অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশনের ভাইস চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার সারওয়াত সিরাজ শুক্লা।
অনুষ্ঠানের উদ্বোধক ছিলেন কালিহাতী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফারজানা আক্তার।
সভাপতিত্ব করেন শাজাহান সিরাজ কলেজের অধ্যক্ষ মো. মজিবুর রহমান।
এ সময় আরো উপস্থিত ছিলেন কলেজের পরিচালনা পরিষদের অভিভাবক সদস্য মো. আনোয়ার হোসেন সিদ্দিকী (আরিফ) ও অভিভাবক সদস্য মো. জনি।
অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন কলেজের বাংলা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম।
প্রধান আলোচকের বক্তব্যে ব্যারিস্টার সারওয়াত সিরাজ শুক্লা বলেন, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের সহযোগিতা ও অবদান ছাড়া শাহজাহান সিরাজ কলেজ প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব হতো না। তাঁর সহযোগিতায় সাত একরেরও বেশি জমি চিরস্থায়ী বন্দোবস্তের মাধ্যমে কলেজটি প্রতিষ্ঠার সুযোগ তৈরি হয়। বিশাল জায়গা, সুবিশাল খেলার মাঠ এবং ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের পাশে কলেজটি প্রতিষ্ঠার পেছনে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের গুরুত্বপূর্ণ অবদান রয়েছে।
তিনি বলেন, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের এই অবদান আমি শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করছি। তাঁর অবদান ছাড়া এই বিশাল জায়গায় কলেজ প্রতিষ্ঠা সম্ভব হতো না।
কলেজটির সঙ্গে নিজের পারিবারিক আবেগের কথা তুলে ধরে সারওয়াত সিরাজ শুক্লা বলেন, এই কলেজের সঙ্গে আমার সম্পর্ক শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সম্পর্ক নয়, এর সঙ্গে আমার পরিবারের আবেগ জড়িয়ে আছে। আমার মায়ের গহনা বিক্রি করে পাওয়া টাকা দিয়ে কলেজের শুরুর দিকে সহযোগিতা করা হয়েছিল। এ কারণে এই কলেজের প্রতি আমার ভালোবাসা ও দায়বদ্ধতা অনেক বেশি। আমি আমৃত্যু এই প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে থাকতে চাই।
বিগত সরকারের আমলে কলেজটি বৈষম্য ও নানা প্রতিকূলতার শিকার হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। সারওয়াত সিরাজ শুক্লা বলেন, বিগত সরকারের আমলে আমাদের অনেক বৈষম্যের শিকার হতে হয়েছে। নানা প্রতিকূলতার মধ্য দিয়ে সময় কাটাতে হয়েছে। এই সময়ে কলেজের জন্য একটি টাকার উন্নয়নমূলক কাজও করা হয়নি।
কলেজের দায়িত্ব গ্রহণের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আমার বাবার অনুরোধেই আমি এই কলেজের দায়িত্ব গ্রহণ করি। কিন্তু দায়িত্ব নেওয়ার পর আমার কমিটি বারবার ভেঙে দেওয়া হয়েছে। এমনকি আমাকে কলেজে প্রবেশ করতেও দেওয়া হয়নি।
নিজের বাবার নামে কলেজটির নামকরণের জন্য দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ের কথাও তুলে ধরেন তিনি। সারওয়াত সিরাজ শুক্লা বলেন, “আমার বাবার নামে কলেজের নামকরণের জন্য প্রায় ছয় বছর সুপ্রিম কোর্টে সংগ্রাম করতে হয়েছে। দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ের পর বাবার নামে কলেজের নামকরণ করা সম্ভব হলেও সেই নামকরণের ফলকও আমাকে ঠিকমতো কলেজের গেটে লাগাতে দেওয়া হয়নি।
গত সরকারের সময়ে কলেজটির উন্নয়ন ও পরিচালনায় নানা প্রতিবন্ধকতার মুখে পড়তে হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন সারওয়াত সিরাজ শুক্লা। তাঁর দাবি, বিভিন্ন সময়ে উন্নয়নের আশ্বাস দেওয়া হলেও বাস্তবে কলেজটির জন্য কাঙ্ক্ষিত সহযোগিতা পাওয়া যায়নি।
ভবিষ্যতে কলেজটির সার্বিক উন্নয়নের আশাবাদ ব্যক্ত করে সারওয়াত সিরাজ শুক্লা বলেন, “শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের আমলে এই কলেজ প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। আশা করি, বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের হাত ধরে এই কলেজের সার্বিক উন্নয়ন হবে। ইনশাআল্লাহ, আমরা এই প্রতিষ্ঠানকে আরও এগিয়ে নিতে পারব।
অনুষ্ঠানে কলেজের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, অভিভাবক, কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
আলোচনা সভা শেষে কলেজ প্রাঙ্গণে শুরু হয়েছে মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। এতে শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন পরিবেশনায় অংশ নিচ্ছেন।











