খবর বাংলা ডেস্ক :
আরেকটি বিশ্বকাপের মঞ্চ প্রস্তুত। আর সেই মঞ্চে নিজেদের ষষ্ঠ শিরোপার স্বপ্ন নিয়ে অভিযান শুরু করতে যাচ্ছে ব্রাজিল। রবিবার ভোর ৪টায় মরক্কোর বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে হেক্সা মিশনের যাত্রা শুরু হবে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের। তবে ম্যাচের আগে আলোচনার কেন্দ্রে রয়েছেন দুই তারকা ফুটবলার ভিনিসিয়ুস জুনিয়র ও রাফিনিয়া।
ক্লাব ফুটবলে দুজনই দুর্দান্ত ছন্দে থাকলেও জাতীয় দলের জার্সিতে এখনো নিজেদের সেরাটা ধারাবাহিকভাবে তুলে ধরতে পারেননি। গত মৌসুমে Real Madrid-এর হয়ে উজ্জ্বল সময় কাটিয়েছেন Vinícius Júnior। অন্যদিকে FC Barcelona-এর আক্রমণভাগে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন Raphinha। কিন্তু জাতীয় দলে এলে সেই ধারাবাহিকতা অনেক সময়ই দেখা যায় না।
২০২৪ সালের কোপা আমেরিকা এবং বিশ্বকাপ বাছাইপর্বে প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেননি এই দুই তারকা। ফলে নতুন বিশ্বকাপের শুরুতে প্রশ্ন উঠেছে, এবার কি জাতীয় দলের জার্সিতে নিজেদের সেরা সংস্করণ দেখা যাবে?
মরক্কোর বিপক্ষে ম্যাচে ব্রাজিলের আক্রমণভাগে ভিনিসিয়ুস ও রাফিনিয়ার পাশাপাশি থাকবেন মাতেয়াস কুনিয়া, ইগোর থিয়াগো এবং এনদ্রিক। ফুটবল বিশ্লেষকদের মতে, এই আক্রমণভাগ টুর্নামেন্টের অন্যতম শক্তিশালী ইউনিট।
এদিকে পায়ের মাংসপেশির চোট থেকে পুরোপুরি সেরে উঠতে না পারায় অনুশীলনের বাইরে রয়েছেন Neymar। ফলে মরক্কোর বিপক্ষে তাকে ছাড়াই দল সাজাতে হচ্ছে কোচ Carlo Ancelotti-কে। নেইমারের অনুপস্থিতিতে ভিনিসিয়ুস ও রাফিনিয়ার ওপরই বাড়তি দায়িত্ব বর্তাবে।
গত মৌসুমে রিয়াল মাদ্রিদের হয়ে সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে ২২ গোল করেছেন ভিনিসিয়ুস। পাশাপাশি করেছেন এক ডজনের বেশি অ্যাসিস্ট। তবে ব্রাজিলের জার্সিতে ৪৯ ম্যাচে তার গোল মাত্র ৯টি। এ কারণেই জাতীয় দলে পারফরম্যান্স নিয়ে সমালোচনার মুখেও পড়তে হয়েছে তাকে।
রাফিনিয়ার অবস্থাও অনেকটা একই। ক্লাব পর্যায়ে ধারাবাহিকভাবে সফল হলেও জাতীয় দলে সেই প্রভাব রাখতে পারেননি। তবে ডান প্রান্ত থেকে ভেতরে ঢুকে বাঁ পায়ের শট এবং সেট-পিসে তার দক্ষতা ব্রাজিলের বড় অস্ত্র হতে পারে।
স্ট্রাইকার হিসেবে ব্রাজিলের প্রথম পছন্দ মাতেয়াস কুনিয়া। সামনে থেকে প্রেসিং, বল ধরে রাখা এবং সতীর্থদের খেলায় যুক্ত করার ক্ষেত্রে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারেন। বিকল্প হিসেবে ইগোর থিয়াগো ও এনদ্রিকও আছেন প্রস্তুত। গত মৌসুমে ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগে ২২ গোল করে আলোচনায় আসেন থিয়াগো। অন্যদিকে ইউরোপীয় ফুটবলে নিজের প্রতিভার ঝলক দেখিয়ে ব্রাজিলের ভবিষ্যৎ তারকা হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করার পথে এগিয়ে যাচ্ছেন এনদ্রিক।
তবে ব্রাজিলের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াবে মরক্কোর রক্ষণভাগ। ২০২২ বিশ্বকাপে সেমিফাইনালে ওঠার পথে শক্তিশালী দলগুলোকেও কঠিন পরীক্ষায় ফেলেছিল আফ্রিকার দেশটি। তাই জয় দিয়ে বিশ্বকাপ শুরু করতে হলে ভিনিসিয়ুস, রাফিনিয়া ও কুনিয়াদের আরও নিখুঁত এবং কার্যকর ফুটবল খেলতে হবে।
ক্লাব ফুটবলের দুর্দান্ত ফর্ম যদি জাতীয় দলের জার্সিতেও ধরে রাখতে পারেন, তাহলে ব্রাজিলের হেক্সা মিশনের পথ দেখাতে পারেন এই তারকারাই।
তথ্য সূত্র : কালের কণ্ঠ











