মধুপুর সংবাদ দাতা
ইতিহাস ও ঐতিহ্যের টাঙ্গাইলের মধুপুর শালবন নানা বৃক্ষ, গুল্ম ও লতাগুল্মে সমৃদ্ধ একটি প্রাকৃতিক সম্পদ। ভৌগোলিক বৈচিত্র্য ও উর্বর মাটির কারণে এই অঞ্চল প্রকৃতির এক অনন্য নান্দনিক রূপে সাজানো। বনাঞ্চল ও তার চারপাশের সবুজ আচ্ছাদন এবং মাঝে বয়ে চলা বাইদ বিল এ সৌন্দর্যকে আরও মনোমুগ্ধকর করে তুলেছে।
বর্ষা ও গ্রীষ্মের এই সময়টিতে শালবনের বিভিন্ন স্থানে হলুদ কনকচূড়া ফুল ফুটে প্রকৃতিকে সোনালি আভায় রাঙিয়ে তুলেছে। লহুরিয়া দোখলার শিশুপার্ক এবং রসুলপুর–দোখলা সড়কের বিভিন্ন অংশে এই সৌখিন প্রজাতির কনকচূড়া গাছ চোখে পড়ছে। হলুদ রঙের থোকা থোকা ফুল দূর থেকে দৃষ্টি কাড়ছে এবং বনের সবুজ পরিবেশে বাড়তি সৌন্দর্য যোগ করছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, কনকচূড়া মূলত দেশি প্রজাতি নয়, এটি দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া ও অস্ট্রেলিয়া অঞ্চলের একটি শোভাময় বৃক্ষ। অনেক সময় একে কৃষ্ণচূড়া বা রাধাচূড়ার সঙ্গে মিলিয়ে ফেলা হলেও এর রঙ ও গঠনে স্পষ্ট পার্থক্য রয়েছে। কৃষ্ণচূড়া সাধারণত লাল রঙের এবং রাধাচূড়া লাল, কমলা ও হলুদের মিশ্র রঙের হয়ে থাকে, কিন্তু কনকচূড়া বিশুদ্ধ সোনালি-হলুদ ফুলের জন্য সহজেই আলাদা করা যায়।
পরিবেশবিদদের মতে, কনকচূড়া শুধু সৌন্দর্যবর্ধনই নয়, পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষাতেও ভূমিকা রাখে। ঘন পাতার কারণে এটি ভালো ছায়া দেয় এবং ভূমিক্ষয় রোধে সহায়তা করে। পাশাপাশি বাতাস থেকে ক্ষতিকর উপাদান শোষণ করে পরিবেশকে কিছুটা নির্মল রাখে।
মধুপুর শালবনকে কেন্দ্র করে স্থানীয় পরিবেশকর্মীরা বলছেন, এই ধরনের সৌখিন বৃক্ষ প্রাকৃতিক সৌন্দর্য বাড়ানোর পাশাপাশি পর্যটন আকর্ষণেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।











