সখিপুর সংবাদ দাতা
টাঙ্গাইলের সখীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে জনবল সংকট, অচল চিকিৎসা যন্ত্রপাতি, ওষুধের ঘাটতি এবং অবকাঠামোগত দুর্বলতার কারণে ব্যাহত হচ্ছে স্বাস্থ্যসেবা। নামমাত্র ৫০ শয্যার এ হাসপাতালটিতে প্রতিদিন রোগীর চাপ বাড়লেও প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধার অভাবে চিকিৎসাসেবা নিয়ে চরম ভোগান্তিতে পড়ছেন সাধারণ মানুষ।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, হাসপাতালটিতে বিদ্যুৎ চলে গেলে জেনারেটর বা আইপিএস না থাকায় পুরো ভবন অন্ধকারে ডুবে যায়। হাসপাতালের তিনটি আলট্রাসনোগ্রাম মেশিনই প্রায় এক বছর ধরে অচল। এছাড়া একমাত্র পুরোনো এনালগ এক্স-রে মেশিনটিও কার্যকরভাবে রোগ নির্ণয়ে সক্ষম নয়। অনেক রোগী প্রয়োজনীয় ওষুধ না পেয়ে বাইরে থেকে কিনতে বাধ্য হচ্ছেন।
হাসপাতালের চিকিৎসক ও কর্মচারীদের জন্য নির্মিত ছয়টি আবাসিক ভবন দীর্ঘদিন ধরে পরিত্যক্ত অবস্থায় রয়েছে। ভবনগুলোর চারপাশে ঝোপঝাড় ও জঙ্গল গড়ে ওঠায় সেখানে সাপ-বিচ্ছুর উপদ্রব বেড়েছে।
জনবল সংকটে ব্যাহত সেবা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানা যায়, ওয়ার্ড বয়, অফিস সহায়ক, আয়া ও বাবুর্চিসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদ প্রায় শূন্য। এছাড়া চিকিৎসকের ৬টি, স্বাস্থ্য সহকারীর ২৫টি, অফিস সহকারীর ৫টি, পরিচ্ছন্নতাকর্মীর ৩টি এবং নিরাপত্তা প্রহরীর একটি পদ দীর্ঘদিন ধরে শূন্য রয়েছে। জনবল সংকটের কারণে চিকিৎসকদেরই অফিস কক্ষের চেয়ার-টেবিল পরিষ্কার করতে হচ্ছে।
দালাল চক্রের দৌরাত্ম্য স্থানীয়দের অভিযোগ, হাসপাতালকেন্দ্রিক একটি দালাল চক্র দীর্ঘদিন ধরে সক্রিয়। তারা বিভিন্ন কৌশলে রোগীদের বেসরকারি ডায়াগনস্টিক সেন্টারে পাঠিয়ে দিচ্ছে। এতে হাসপাতালের কিছু ব্যক্তি এবং আশপাশের ডায়াগনস্টিক সেন্টারের কর্মচারীদের সম্পৃক্ততার অভিযোগও রয়েছে। ফলে দরিদ্র রোগীরা সরকারি সেবা থেকে বঞ্চিত হয়ে অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় করতে বাধ্য হচ্ছেন।
শয্যা সংকট, মেঝেতেই চিকিৎসা বর্তমানে চিকিৎসকের ৩৫টি অনুমোদিত পদের বিপরীতে কর্মরত আছেন ২৯ জন। তবে প্রয়োজনীয় কক্ষের অভাবে একেকটি কক্ষে ৩ থেকে ৪ জন চিকিৎসক একসঙ্গে বসে রোগী দেখছেন। এতে চিকিৎসাসেবার মানও ব্যাহত হচ্ছে।
প্রতিদিন হাসপাতালে গড়ে ২৫ থেকে ৩০ জন রোগী ভর্তি হলেও শয্যা সংকটের কারণে অনেককে মেঝে কিংবা বারান্দায় থেকে চিকিৎসা নিতে হচ্ছে। এ পরিস্থিতিতে হাসপাতালটিকে দ্রুত ১০০ শয্যায় উন্নীত করার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
রোগীদের অভিযোগ চিকিৎসা নিতে আসা অন্তঃসত্ত্বা বিথী আক্তার জানান, টানা তিন দিন হাসপাতালে এসেও গাইনি চিকিৎসক না পেয়ে শেষ পর্যন্ত একটি বেসরকারি ক্লিনিকে চিকিৎসা নিতে হয়েছে।
অন্য রোগী রোকেয়া সুলতানা বলেন, হাসপাতালে চিকিৎসকের প্রেসক্রিপশন পেলেও প্রয়োজনীয় ওষুধ পাননি। বাধ্য হয়ে বাইরে থেকে ওষুধ কিনতে হয়েছে।
১০০ শয্যায় উন্নীত করার দাবি সাবেক উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ও সাবেক সিভিল সার্জন ডা. আনোয়ার হোসেন বলেন, সখীপুর ছাড়াও আশপাশের কয়েকটি উপজেলার মানুষ এই হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসেন। রোগীর চাপ বিবেচনায় অনেক আগেই হাসপাতালটিকে ১০০ শয্যায় উন্নীত করা প্রয়োজন ছিল।
কর্তৃপক্ষের বক্তব্য সখীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. রেহানা পারভীন বলেন, অচল আলট্রাসনোগ্রাম ও এক্স-রে মেশিনের বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে এবং ডিজিটাল যন্ত্রপাতির চাহিদা পাঠানো হয়েছে।
তিনি আরও জানান, হাসপাতালকেন্দ্রিক দালাল চক্রের বিষয়ে ক্লিনিক মালিক সমিতিকে লিখিতভাবে সতর্ক করা হয়েছে। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এছাড়া অনুমতি ছাড়া অনুপস্থিত থাকায় গাইনি চিকিৎসক ও আয়ুর্বেদিক চিকিৎসককে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে এবং তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।











