খবর বাংলা ডেস্ক :
পঞ্চগড় সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে জোরপূর্বক পুশইন (অনুপ্রবেশ) করানোর চেষ্টা করা নারী ও শিশুসহ ১০ জনকে অবশেষে দীর্ঘ ৭০ ঘণ্টা পর ফেরত নিয়েছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)। রবিবার (৭ জুন) রাত ২টার পর ফ্ল্যাগ মিটিংয়ের মাধ্যমে তাদের ভারতীয় অংশে ফেরত নিয়ে যাওয়া হয়।
এর আগে গত শুক্রবার (৫ জুন) ভোর ৪টার দিকে পঞ্চগড় সীমান্ত দিয়ে এই ১০ জনকে বাংলাদেশে পুশইন করার চেষ্টা করে বিএসএফ। তবে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)-এর কড়া নজদারির কারণে অনুপ্রবেশের এই চেষ্টা ব্যর্থ হয় এবং বিজিবি তাদের সীমান্তের নোম্যান্সল্যান্ডে আটকে দেয়।
রোদ-বৃষ্টিতে ৩ দিন মানবেতর জীবন বিএসএফ পুশইনের চেষ্টা করার পর থেকে দীর্ঘ তিন দিন ধরে দুটি পরিবারের এই ১০ জন সদস্য সীমান্তের নোম্যান্সল্যান্ডে খোলা আকাশের নিচে আটকে ছিলেন। এই সময়ের মধ্যে ঝড়, বৃষ্টি ও তীব্র রোদের মাঝে নারী ও শিশুরা অত্যন্ত মানবেতর দিন পার করছিলেন। আটকে পড়া এই ১০ জনের মধ্যে পাঁচজন পুরুষ, দুজন নারী এবং তিনজন অবুঝ শিশু ছিল।
বিজিবির কড়া জবাব ও বিএসএফের পিছু হটা সীমান্ত সূত্র জানায়, রবিবার দুপুরেও বিএসএফ নোম্যান্সল্যান্ডে আটকে থাকা অসহায় মানুষগুলোকে আবারও জোরপূর্বক বাংলাদেশের ভেতরে ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা করে। এ সময় বিজিবি সদস্যরা অত্যন্ত কঠোর অবস্থান নিয়ে এর কড়া জবাব দেন।
বিগত তিন দিন ধরে এই ১০ জনকে ভারতের ভেতরে ফেরত নেওয়ার জন্য বিএসএফের ওপর দফায় দফায় তীব্র চাপ প্রয়োগ করে আসছিল বিজিবি। অবশেষে বিজিবির অনড় অবস্থানের মুখে গভীর রাতে তাদের ফিরিয়ে নিতে বাধ্য হয় বিএসএফ।
নীলফামারী ৫৬ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্নেল সিরাজুল ইসলাম এই তথ্য নিশ্চিত করে জানান, ‘সীমান্তে আটকে থাকা ওই ১০ জনকে বিএসএফ ভারতের অভ্যন্তরে ফেরত নিয়েছে। সীমান্তে যেকোনো ধরনের অবৈধ অনুপ্রবেশ বা পুশইন ঠেকাতে বিজিবি সবসময় সর্বোচ্চ সতর্ক ও তৎপর রয়েছে।’
তথ্য সূত্র : কালের কণ্ঠ











