খবরবাংলা
,
ডেস্ক
বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশন (ইউজিসি)-এর বরখাস্ত সচিব ফেরদৌস জামান তুহিনকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। গত রোববার ইউজিসির পূর্ণ কমিশনের এক সভায় এই সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। সভায় অংশ নেওয়া একাধিক কর্মকর্তা বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
তবে কমিশনের কয়েকজন কর্মকর্তা মত দিয়েছেন, বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো হলে গুরুতর অভিযোগের তুলনায় এটি তুলনামূলকভাবে লঘু শাস্তি হবে। কারণ, তদন্তে উঠে এসেছে—ফেরদৌস জামানের নিয়োগ প্রক্রিয়ায় অনিয়ম ও ভুয়া তথ্য ব্যবহারের অভিযোগ রয়েছে। জাল অভিজ্ঞতার সনদের মাধ্যমে তিনি ইউজিসিতে চাকরি লাভ করেন বলে তদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
চলতি বছরের শুরুতে গঠিত একটি ফ্যাক্টস ফাইন্ডিং কমিটির তদন্তে ফেরদৌস জামানের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিনের অনিয়ম, দুর্নীতি ও নৈতিক স্খলনের অভিযোগ প্রমাণিত হয়। প্রতিবেদনে বলা হয়, ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা সনদ ব্যবহার করে তিনি পদোন্নতি পেয়েছেন এবং ক্ষমতার অপব্যবহার করে আত্মীয়স্বজনদের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে চাকরির সুযোগ করে দিয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
ফ্যাক্টস ফাইন্ডিং কমিটি তার বিরুদ্ধে সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮ অনুযায়ী শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করেছিল। তবে অভিযোগ রয়েছে, দীর্ঘদিন ধরে প্রশাসনিক তদবিরের মাধ্যমে তিনি কঠোর ব্যবস্থা এড়াতে সক্ষম হন।
তদন্ত প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, ইউজিসির মতো দেশের সর্বোচ্চ উচ্চশিক্ষা নিয়ন্ত্রক সংস্থায় এমন অনিয়ম প্রশাসনিক শৃঙ্খলার সুস্পষ্ট লঙ্ঘন এবং প্রতিষ্ঠানটির ভাবমূর্তির জন্য ক্ষতিকর। এজন্য পূর্ণ কমিশনের সভায় উপযুক্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
উল্লেখ্য, অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে ২০২৪ সালের ৭ অক্টোবর ইউজিসি একটি ফ্যাক্টস ফাইন্ডিং কমিটি গঠন করে। জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের সাবেক চেয়ারম্যান ড. মোহাম্মদ আবদুল মজিদ কমিটির আহ্বায়ক ছিলেন। ২৩ পৃষ্ঠার তদন্ত প্রতিবেদন চলতি বছরের ২০ জানুয়ারি জমা দেওয়া হয়।
এর আগে, চলতি বছরের ২০ ফেব্রুয়ারি ফেরদৌস জামান তুহিনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। বরখাস্তকালীন সময়ে তিনি ইউজিসির রিসার্চ গ্রান্টস অ্যান্ড অ্যাওয়ার্ডস বিভাগের পরিচালক পদে দায়িত্বে ছিলেন।











