টাঙ্গাইল সদর
,
সংবাদ দাতা
গত তিন সপ্তাহ ধরে টাঙ্গাইলে এলপিজি গ্যাস সিলিন্ডারের ভয়াবহ সংকট দেখা দিয়েছে। জেলার মোট চাহিদার তুলনায় বর্তমানে সরবরাহ হচ্ছে মাত্র পাঁচ ভাগের এক ভাগ। ফলে বাজারে সিলিন্ডার পাওয়া যাচ্ছে না, আর যেগুলো মিলছে সেগুলোর দাম সরকার নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে দ্বিগুণ পর্যন্ত গুনতে হচ্ছে।
ভুক্তভোগীরা জানান, সিলিন্ডার পেতে এক সপ্তাহ আগেই দোকানিকে অর্ডার দিতে হচ্ছে। তবুও অনেক সময় সিলিন্ডার মিলছে না। অনেকের রান্নাঘরের গ্যাস শেষ হয়ে গেলেও দোকানে ঘুরে সিলিন্ডার পাচ্ছেন না তারা। বিকল্প হিসেবে খড়ি-কাঠ দিয়ে রান্না করাও সম্ভব নয় বলে জানান সাধারণ মানুষ।
শনিবার (১৭ জানুয়ারি) শহরের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, অধিকাংশ খুচখুচরা বিক্রেতা, ডিলার ও ভোক্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ডিসেম্বরের মাঝামাঝি থেকেই টাঙ্গাইলে এলপিজি সিলিন্ডারের সংকট শুরু হয়। গ্যাসের দাম বাড়তে পারে—এমন অজুহাতে বিভিন্ন কোম্পানি ডিলার ও এজেন্টদের কাছে সরবরাহ অর্ধেকে নামিয়ে আনে। জানুয়ারির শুরুতে ১২ কেজির সিলিন্ডারের দাম ৫৩ টাকা বাড়িয়ে ১ হাজার ৩০৬ টাকা নির্ধারণ করা হলেও এর পর থেকেই সরবরাহ আরও কমে যায়।রা দোকানে সিলিন্ডারের মজুত নেই। কোথাও কোথাও পাওয়া গেলেও সেগুলোর দাম নেওয়া হচ্ছে ২ হাজার থেকে ২ হাজার ৫০০ টাকা পর্যন্ত।
কলেজপাড়া এলাকার বাসিন্দা সোহেল খান জানান, ৫ জানুয়ারি তার গ্যাস শেষ হয়। কয়েকটি দোকান ঘুরেও সিলিন্ডার পাননি। পরে ১৫ জানুয়ারি ২ হাজার ৩৫০ টাকায় একটি সিলিন্ডার কিনতে বাধ্য হন। থানাপাড়া এলাকার সুলতানা শারমিন জানান, বেশি দাম না দিলে সিলিন্ডার পাওয়া যাচ্ছে না। বাধ্য হয়ে তিনি ২ হাজার ৫০০ টাকা দিয়ে সিলিন্ডার কিনেছেন।
এলপিজি সংকটের প্রভাব পড়েছে হোটেল-রেস্তোরাঁতেও। হোটেল মালিকরা জানান, বড় সিলিন্ডার না পাওয়ায় ছোট সিলিন্ডার দিয়ে রান্না চালাতে হচ্ছে। জ্বালানি সংকটের কারণে অনেক খাবার রান্না বন্ধ করে দিয়েছেন তারা। কেউ কেউ হোটেল বন্ধ করে দেওয়ার কথাও ভাবছেন।
খুচরা বিক্রেতারা বলছেন, সরবরাহ অনিয়মিত হওয়ায় তারা গ্রাহকদের চাহিদা মেটাতে পারছেন না। আগে যেখানে প্রতিদিন গ্যাস সরবরাহ আসত, এখন সেখানে সপ্তাহে এক-দুই দিন সীমিত পরিমাণে চালান আসছে।
এলপিজি সিলিন্ডার ব্যবসায়ী সমিতির এক নেতা জানান, টাঙ্গাইলে দৈনিক প্রায় ২০ থেকে ৩০ হাজার সিলিন্ডারের চাহিদা থাকলেও বর্তমানে সরবরাহ মিলছে মাত্র পাঁচ ভাগের এক ভাগ। জেলার ১৮টি কোম্পানির মধ্যে এখন মাত্র চারটি কোম্পানি সীমিত আকারে গ্যাস সরবরাহ করছে। কবে নাগাদ এই সংকট কাটবে—তা কেউ নিশ্চিত করে বলতে পারছেন না।











