টাঙ্গাইলে স্ত্রীর দেয়া মামলায় কলেজ শিক্ষক গ্র্রেপ্তার

মোস্তফা কামাল নান্নু : টাঙ্গাইলে স্ত্রীর দায়ের করা নারী নির্যাতন ও যৌতুক মামলায় এলাসিন মাওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানী ডিগ্রী কলেজের পদার্থ বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক ফয়সাল আহমেদ রিপনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

মঙ্গলবার বিকেলে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

বিষয়টি কালিহাতী থানার এসআই মো. হারুনুর রশিদ পিপিএম নিশ্চিত করেছেন।

গ্রেপ্তারকৃত ফয়সাল আহমেদ রিপন টাঙ্গাইলের কালিহাতী উপজেলার হাওড়াপাড়া গ্রামের ইসমাইল হোসেনের ছেলে।

মামলা বিবরণে উল্লেখ –

মামলার সূত্রে জানা যায়, ২০১৭ সালের ৫ মে চার লাখ টাকা দেনমোহর ধার্যে রেজিষ্ট্রি কাবিন মুল্যে ধনবাড়ী উপজেলার দড়িবিয়াড়া গ্রামের মো. আব্দুর রাজ্জাক সরকারের মেয়ে রাফিজা সুলতানার সাথে তার বিয়ে হয়।

বিয়ের সময় তার পিতা ১০ ভরি স্বর্ণালংকার ও ছেলেকে দেড় লাখ টাকা মুল্যেও একটি মোটর সাইকেল যৌতুক হিসেবে দেয়া হয়।

বিয়ের এক বছর পর ডিপিএসের মাধ্যমে টাকা জমানোর কথা বলে ১০ ভরি স্বর্ণ বিক্রি করে বাড়িতে দুটি ঘর নির্মাণ করেন।

পরবর্তীতে ১০ ভরি স্বর্ণালংকার কিনে দেওয়ার আশ্বাস দেয় ফয়সাল। কিন্তু এখনও গৃহবধুকে ১০ ভরি স্বর্ণালংকার কিনে দেয়া হয়নি।

ইদানিং এলেঙ্গাতে বাসা করার জন্য জায়গা ক্রয় করার জন্য যৌতুক হিসেবে আরো পাঁচ লাখ টাকা দাবি করে।

টাকা দিতে না পাড়ায় তাকে শারীরিক নির্যাতন করে ফয়সাল ও তার পরিবার। তাদের শত অত্যাচার সহ্য করতে হয়েছে গৃহবধুকে।

গত ৭ ফেব্রুয়ারি রাফিজাকে পাঁচ লাখ টাকা যৌতুকের জন্য তার বাবার বাড়ি পাঠিয়ে দেওয়া হয়। পরবর্তীতে গত ৭ আগস্ট মীমাংসায় বসলে ফয়সাল আহামেদ পাঁচ লাখ টাকা না দিলে তার স্ত্রীকে বাড়ি নিবে না বলে জানিয়ে দেয়।

আসামীদের বিরুদ্ধে আরো অভিযোগ –

গত ৭ সেপ্টেম্বর সোমবার কৌশলে রাফিজা সুলাতানাকে রিপন ও তার পরিবারের লোকজন এলেঙ্গা ফয়সালের বোনের বাড়িতে নিয়ে বেধরক মারধর করে।

এক পর্যায়ে ফয়সাল আহামেদ রিপন, ফয়সালের বাবা মো. ইসমাইল হোসেন, তার বড় ভাই রঞ্জু মান্নান ও ভাবি মোছা. কুসুমসহ আরো কয়েকজন জোড় পূর্বক রাফিজা সুলতানাকে হেক্সিসল খাওয়ায়ে হত্যার চেষ্টা করে।

তাৎক্ষনিক ৯৯৯ ফোন করলে গৃহবধুর ফোন কেড়ে নেয় অভিযুক্তরা।

পরে রাফিজা সুলতানার অবস্থা অবনতি হলে অভিযুক্তরা তাকে টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালের জরুরী বিভাগে রেখে পালিয়ে যায়।

অন্য রোগীর স্বজনদের মোবাইল ফোন দিয়ে যোগাযোগ করে রাফিজা তার বাবার বাড়িতে বিষয়টি জানায়।

তার বাবার বাড়ির লোকজন হাসপাতালে গিয়ে ডাক্তারদের সহযোগিতায় চিকিৎসা করাতে থাকে।

পরদিন মঙ্গলবার সকালে তার অবস্থা অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় স্থান্তান্তর করা হয়।

পরে রাফিজা সুলতানা বাদি হয়ে ১৬ সেপ্টেম্বর রিপনসহ তার পরিবারের সদস্যদের নামে নারী নির্যাতন ও যৌতুক মামলা দায়ের করে।

এ মামলা ১৩ অক্টোবর গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করে আদালত। তারপর থেকে ফয়সাল আহমেদ রিপনসহ তার পরিবারের সদস্যরা আত্মগোপনে ছিলো।

কালিহাতী থানার এসআই মো. হারুনুর রশিদ পিপিএম বলেন, ‘গোপন সংবাদের ভিত্তিতে এলাসিন মাওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানী কলেজ থেকে ফয়সাল আহমেদ রিপনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

বুধবার আদালতের মাধ্যমে তাকে জেল হাজতে প্রেরণ করা হবে।’ সম্পাদনা – অলক কুমার

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *