নিজস্ব প্রতিবেদক :
বাংলাদেশ জাতীয়বাদী দল টাঙ্গাইল জেলা শাখার সভাপতি হাসানুজ্জামিল শাহীনের আনীত অভিযোগে সংবাদ প্রকাশ করায় প্রেসক্লাবের সদস্য, সাংবাদিক অলক কুমার দাসের ওপর হামলাচেষ্টা ও তাকে স্বপরিবারে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে “দৈনিক আমার দেশ” পত্রিকার জেলা প্রতিনিধি মহব্বত হোসেনের বিরুদ্ধে। এই ঘটনায় জীবনের নিরাপত্তা চেয়ে এবং অভিযুক্তের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবিতে টাঙ্গাইল প্রেসক্লাবের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন ভূক্তভোগী সাংবাদিক। এছাড়াও তিনি নিরাপত্তার জন্য টাঙ্গাইল সদর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ করেছেন।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত ৮ আগস্ট টাঙ্গাইল প্রেসক্লাবে আয়োজিত “সাপ্তাহিক সময় তরঙ্গ” পত্রিকার প্রকাশনা উৎসবে টাঙ্গাইল জেলা বিএনপির সভাপতি হাসানুজ্জামিল শাহীন দৈনিক আমার দেশ পত্রিকায় প্রকাশিত একটি সংবাদের ভিত্তিতে বিএনপিতে দ্বন্দ্ব বাঁধানোর চেষ্টা করছে মর্মে অভিযোগ করেন। ওই বক্তব্যের সূত্র ধরে সাংবাদিক অলক কুমার স্থানীয় ও জাতীয় পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশ করেন। সেই সংবাদ অন্যান্য জাতীয় স্থানেও পত্রিকা প্রকাশিত হয়। এই সংবাদ প্রকাশের জের ধরে ক্ষিপ্ত হয়ে গত ২৪ আগস্ট বিকেল ৩টার দিকে দৈনিক আমার দেশ পত্রিকার টাঙ্গাইল জেলা প্রতিনিধি মহব্বত হোসেন টাঙ্গাইল প্রেসক্লাবের আইটি রুমে প্রবেশ করেন। সেখানে অলক কুমার দাসকে না পেয়ে তিনি চরম অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন। এক পর্যায়ে তিনি অলক কুমার দাসকে বাড়ি থেকে টেনেহিঁচড়ে বের করে পিটিয়ে মারার হুমকি দেন।
ঘটনার সময় সাপ্তাহিক সময় তরঙ্গ পত্রিকার প্রকাশক ও সম্পাদক রওশন আলী এবং সাংবাদিক আবু সাঈদ উপস্থিত ছিলেন। তারা মহব্বত হোসেনকে শান্ত করার চেষ্টা করলেও তিনি অত্যন্ত অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন। এর আগে প্রেসক্লাবের নিচে টাঙ্গাইল থেকে প্রকাশিত “টাঙ্গাইল সমাচার” পত্রিকার প্রকাশক ও সম্পাদক মাসুদুল হকের কাছেও অলক কুমারকে নিয়ে বিভিন্ন প্রকার অশোভন মন্তব্য ও অশ্রাব্য গালিগালাজ করেন মহব্বত হোসেন।
লিখিত আবেদনে ভূক্তভোগী সাংবাদিক অলক কুমার দাস আরো উল্লেখ করেন, মহব্বত হোসেন একজন সন্ত্রাসী ও চাঁদাবাজ প্রকৃতির লোক। তিনি বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে দলটির নেতাকর্মীদের দালালি করতেন বলেও সংবাদকর্মীসহ সর্বমহলে সমালোচনা রয়েছে। এই বিষয়ে টাঙ্গাইল প্রেসক্লাবের কার্যনির্বাহী কমিটির পক্ষ থেকে যথাযথ তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ও দৃষ্টান্তমূলক বিচার দাবি করেন।
প্রতিক্রিয়া ও বক্তব্য –
এদিকে প্রেসক্লাবের একজন সদস্য হয়ে অপর সদস্যকে প্রাণনাশের হুমকির ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ ও নিন্দা বিরাজ করছে স্থানীয় সাংবাদিকদের মধ্যে।
টাঙ্গাইল প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক আবেদনটি কার্যনির্বাহী কমিটির সভায় উত্থাপনের জন্য সুপারিশ করেছেন।
এবিষয়ে টাঙ্গাইল সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গোলাম মুক্তার আশরাফ উদ্দিন বলেন, থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন সাংবাদিক অলক কুমার দাস। তদন্তের জন্য একজন অফিসারকে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। তদন্ত সাপেক্ষে পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।











