নিজস্ব প্রতিবেদক :
দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ ও আদর্শ পরিপন্থী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে টাঙ্গাইল জেলা যুবদলের সদস্যসচিব তৌহিদুল ইসলাম বাবুকে প্রাথমিক সদস্যপদসহ দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) যুবদলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সহ-দপ্তর সম্পাদক মিনহাজুল ইসলাম ভূঁইয়ার স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়। একই সঙ্গে তার স্থলে জেলা যুবদলের যুগ্ম-আহ্বায়ক জাহিদ হোসেন মালাকে ভারপ্রাপ্ত সদস্যসচিব হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সুস্পষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ ও আদর্শ পরিপন্থী কর্মকা-ে জড়িত থাকায় তৌহিদুল ইসলাম বাবুর বিরুদ্ধে এ সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে শূন্য পদে জাহিদ হোসেন মালাকে ভারপ্রাপ্ত সদস্যসচিব হিসেবে দায়িত্ব প্রদান করা হয়েছে।
এতে আরও উল্লেখ করা হয়, যুবদলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সভাপতি আবদুল মোনায়েম মুন্না ও সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ নূরুল ইসলাম নয়নের অনুমোদনে এ সিদ্ধান্ত ইতোমধ্যে কার্যকর হয়েছে।
যুবদলের কেন্দ্রীয় সূত্র জানায়, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির কেন্দ্রীয় প্রচার সম্পাদক ও টাঙ্গাইল-৫ (সদর) আসনের দলীয় মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী সুলতান সালাউদ্দিন টুকুর পক্ষে কাজ না করায় সদস্যসচিব তৌহিদুল ইসলাম বাবুকে বহিস্কার করা হয়।
নেতৃবৃন্দের বক্তব্য –
এ বিষয়ে জেলা যুবদলের আহবায়ক খন্দকার রাশেদুল আলম বলেন, আমাদের কেন্দ্রীয় দপ্তর থেকে বার বার নোটিশের মাধ্যমে মৌখিকভাবে ডেকে সদরের প্রার্থীর পক্ষে কাজ করার জন্য বলা হয়। একাধিকবার তাকে জানানো বা নির্দেশ দেওয়ার পরেও সদস্যসচিব কোন প্রকার কাজ করেন নাই। এসময় খন্দকার রাশেদুল আলম বলেন, তিনি যেহেতু সদরের ভোটার তাই সদরের প্রার্থীর পক্ষেই কাজ করার নির্দেশনাই দেয় হয়, সেই সাথে অন্যান্য প্রার্থীর খোঁজখবর নিতেও বলেন। কিন্তু সদস্য সচিব তৌহিদুল ইসলাম বাবু সেই নির্দেশনা অমান্য করেছে। এসময় খন্দকার রাশেদুল আলম আরো বলেন, কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটি যে কোন সময় একটা কমিটি যেমন ভাঙতে পারে, তেমনি একটা কমিটি গড়তে পারে। একজন নেতাকে পদ দিতে পারে, আবার একজন নেতার পদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থাও নিতে পারে।
তিনি আরো বলেন, আন্দোলন সংগ্রাম যেমন গুরুত্বপূর্ণ, নির্বাচনটাও আমাদের কাছে অধিক গুরুত্বপূর্ণ। সেই নির্বাচনে দলের প্রার্থী ঘোষণার পরে, দলের গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিরা যদি প্রার্থীর বিরুদ্ধে অবস্থান নেয়, তাহলে তাদের দল থেকে একাধিকবার সতর্ক করার পরেও যদি সেই ধারা অব্যহত থাকে, দল দলের সিন্ধান্ত এভাবেই নিচ্ছে, এটা নতুন কিছু না।
স্তম্ভিত আহমেদ আজম –
তৌহিদুল ইসলাম বাবুর বহিস্কার প্রসঙ্গে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) কেন্দ্রীয় ভাইস চেয়ারম্যান আহমেদ আযম খান বিষ্ময় প্রকাশ করে বলেন, আমি স্তম্ভিত হয়েছি, অবাক হয়েছি, হতাশ হয়েছি; কারণ এখন পর্যন্ত তৌহিদুল ইসলাম বাবু সংগঠন বিরোধী কর্মকা-ে লিপ্ত হয় নাই বা ছিলো না। কি কারণে হয়েছে, আমি জানি না; তবে আমি আঘাতপ্রাপ্ত হয়েছি। আমি অনেক কষ্ট পেয়েছি। তৌহিদুল ইসলাম বাবু দলের অনেক বড় ত্যাগী একজন কর্মী। গত ১৮ বছরে যার ত্যাগ অসামান্য। এই ১৮ বছরে একমূহুর্তের জন্য মাঠ থেকে সরে যায় নাই। এসময় তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, আজকে সে কেন বহিস্কৃত তা জানি না। তার মতো ত্যাগী কর্মী বহিস্কার হতে পারে না বলে অভিব্যক্তি প্রকাশ করেন তিনি। এসময় তিনি আরো বলেন, তৌহিদুল ইসলাম বাবু কোন নির্বাচনী এলাকার নেতা না, সে জেলার নেতা। সে আটটি আসনেই কাজ করবে, কোন নির্দিষ্ট আসনে নয়। তা ছাড়া কাজ তো শুরু হয়নি। প্রচার তো শুরু হবে ২১ তারিখ থেকে।
এবিষয়ে কথা বলতে টাঙ্গাইল সদর আসনের বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) মনোনীত প্রার্থী সুলতান সালাউদ্দিন টুকুর মোবাইল নম্বরে (০১৭১১***৬১৮) নম্বরে একাধিকবার কল করলেও তিনি কল রিসিভ করেননি।
বহিস্কৃত সদস্যসচিবের বক্তব্য –
বহিস্কার হওয়ার পর তৌহিদুল ইসলাম বাবু বলেন, আমি সারা দিনরাত ২৪ ঘণ্টা টাঙ্গাইলে ধানের শীষের পক্ষে কাজ করতেছি। তবে কেন্দ্র থেকেও আমাকে একজন নির্দিষ্ট প্রার্থীর জন্য কাজ করার জন্য নির্দেশনা দেয়া হয়। ওই প্রার্থীর সাথে আমি বসে কয়েকবার কথা বলেছি। কিন্তু তিনি কখনো, কোনদিন এক সেকেন্ডের জন্য উনি বা উনার কোন কর্মী ডাকেন নাই বা তিনি আমাকে কখনোই উনার কোন কোন কর্মসূচীও জানান নাই। উদ্দেশ্য প্রণোদিতভাবে আমাকে বহিস্কার করানো হয়েছে। এসময় তিনি আরো বলেন, আমি দলের সাথে ছিলাম, আছি, থাকবো।











