মধুপুর সংবাদ দাতা
টাঙ্গাইলের মধুপুর মানেই শালবন, লাল মাটির গড় আর সুস্বাদু আনারসের জনপদ। অনুকূল আবহাওয়া ও বিশেষ ভূ-প্রকৃতির কারণে দেশের অন্যতম আনারস উৎপাদন অঞ্চল হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে মধুপুর। সমতল ও উঁচু ভূমি হওয়ায় এখানে বন্যার পানি জমে না, আবার ‘বাইদ’ বা ছোট নালা দিয়ে দ্রুত পানি নেমে যাওয়ায় জলাবদ্ধতাও হয় না। ফলে আনারস ও কলা চাষের জন্য এ অঞ্চল অত্যন্ত উপযোগী।
মধুপুর উপজেলা কৃষি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, চলতি মৌসুমে প্রায় ৫০০ কোটি টাকার আনারস বাণিজ্যের সম্ভাবনা রয়েছে। তবে সংশ্লিষ্টদের মতে, আধুনিক বিপণন ব্যবস্থা ও প্রক্রিয়াজাতকরণ কেন্দ্রের অভাবে কৃষকেরা এখনো কাঙ্ক্ষিত লাভ থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।
স্থানীয় চাষিদের অভিযোগ, দেশজুড়ে মধুপুরের আনারসের চাহিদা থাকলেও সংরক্ষণ ও প্রক্রিয়াজাতকরণ সুবিধা না থাকায় অনেক সময় ন্যায্যমূল্য পাওয়া যায় না। তারা বলছেন, এলাকায় প্রক্রিয়াজাতকরণ কেন্দ্র স্থাপন করা হলে আনারস থেকে জুস, জেলি ও অন্যান্য পণ্য তৈরি করে বিদেশে রপ্তানির সুযোগ তৈরি হবে। এতে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের পাশাপাশি স্থানীয় মানুষের কর্মসংস্থানও বাড়বে।
ঘাটাইলের কৃষক আনোয়ার হোসেন বলেন, মধুপুরে প্রক্রিয়াজাতকরণ কেন্দ্র স্থাপন হলে আনারস নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা কমবে, পরিবহন ব্যয় হ্রাস পাবে এবং কৃষকেরা ভালো দাম পাবেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মধুপুরে আনারস চাষের ইতিহাস খুব বেশি পুরোনো নয়। ষাটের দশকের শেষ দিকে আউশনারা ইউনিয়নের ইদিলপুর গ্রামের গারো নারী ভেরেনা সাংমা ভারত থেকে ‘জায়ান্ট কিউ’ জাতের আনারসের চারা এনে এ অঞ্চলে চাষ শুরু করেন। তার উদ্যোগেই মধুপুর গড়াঞ্চলে আনারস চাষ জনপ্রিয় হয়ে ওঠে।
বর্তমানে জায়ান্ট কিউয়ের পাশাপাশি ‘জলডুগি’ ও ‘ক্যালেন্ডার’ জাতের আনারস চাষ হচ্ছে। এছাড়া পরীক্ষামূলকভাবে নতুন এমডি-টু জাতের আনারসও চাষ করা হচ্ছে।
কৃষক আরশেদ আলী বলেন, সরকারি উদ্যোগে প্রক্রিয়াজাতকরণ কারখানা ও গ্যাস সংযোগ নিশ্চিত করা গেলে কৃষকেরা বাজার সিন্ডিকেটের প্রভাব থেকে রক্ষা পেতেন এবং স্থানীয় অর্থনীতিতে বড় পরিবর্তন আসত।
মধুপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রকিব আল রানা জানান, চলতি মৌসুমে উপজেলায় ৬ হাজার ৪৭৯ হেক্টর জমিতে আনারস চাষ হয়েছে। এর মধ্যে ৩২৪ হেক্টরে জলডুগি এবং ৬ হাজার ১২৫ হেক্টরে ক্যালেন্ডার জাতের আনারস আবাদ করা হয়েছে।
মধুপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জুবায়ের হোসেন বলেন, মধুপুরে আরও আগেই আনারস প্রক্রিয়াজাতকরণ কেন্দ্র স্থাপন হওয়া উচিত ছিল। এতে জুস, জেলি, বিস্কুটসহ বিভিন্ন পণ্য উৎপাদনের সুযোগ তৈরি হতো এবং বেকারদের কর্মসংস্থানের পাশাপাশি কৃষকেরাও আর্থিকভাবে লাভবান হতেন।











