খবরবাংলা ডেস্ক :
টানা বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে রাঙামাটির বিলাইছড়ি উপজেলার সীমান্তবর্তী ফারুয়া ইউনিয়নে ভয়াবহ বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। পানিতে তলিয়ে গেছে ফারুয়া বাজারসহ ইউনিয়নের প্রায় সব গ্রাম। যোগাযোগ ব্যবস্থা ভেঙে পড়ায় দুর্গত এলাকায় ত্রাণ পৌঁছাতে হিমশিম খাচ্ছে প্রশাসন।
স্থানীয় প্রশাসন ও বাসিন্দাদের তথ্য অনুযায়ী, ফারুয়া বাজার ছাড়াও চাইন্দ্যা, উলুছড়ি, তক্তানালা, একগুজ্জাছড়ি, গোইয়ানছড়ি, শুক্কুরছড়ি ও যমুনাছড়িসহ বিস্তীর্ণ এলাকা পানির নিচে চলে গেছে। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ফারুয়া ইউনিয়ন।
বন্যার পানিতে ফারুয়া বাজারের প্রায় ১৫০টি দোকান জলমগ্ন হওয়ায় ব্যবসা-বাণিজ্য সম্পূর্ণ বন্ধ রয়েছে। অনেক বাড়িঘরে পানি ঢুকে পড়ায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো ফারুয়া উচ্চ বিদ্যালয় ও ইউনিয়ন পরিষদ ভবনে আশ্রয় নিয়েছে।
রাইংক্ষ্যং নদীর তীব্র স্রোতের কারণে উপজেলা সদর থেকে ফারুয়া ইউনিয়নে নৌপথে যাতায়াত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। ফলে সরাসরি ত্রাণসামগ্রী পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না।
যমুনাছড়ি বম পাড়ার হেডম্যান পালম বম জানান, যমুনাছড়িতে অন্তত ২০টি পরিবার এবং দুটি গির্জা পানিতে তলিয়ে গেছে। যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন থাকায় ক্ষয়ক্ষতির প্রকৃত চিত্র এখনো নিরূপণ করা সম্ভব হয়নি।
ফারুয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান বিদ্যালাল তঞ্চঙ্গ্যা বলেন, ভোর রাত থেকে টানা বর্ষণে ইউনিয়নের নিম্নাঞ্চলের প্রায় সব গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। ফারুয়া বাজারসহ একাধিক পাড়া এখনো পানির নিচে রয়েছে।
রাঙামাটির অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. রুহুল আমিন জানান, নদীর প্রবল স্রোতের কারণে দুর্গত এলাকায় সরাসরি পৌঁছানো সম্ভব না হলেও বিকল্প ব্যবস্থায় স্থানীয় বাজার থেকে চাল, ডাল ও তেল সংগ্রহ করে ক্ষতিগ্রস্তদের মধ্যে বিতরণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
বিলাইছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. জাকির হোসেন বলেন, রাইংক্ষ্যং নদীর স্রোত কমলেই বড় পরিসরে ত্রাণসামগ্রী নিয়ে দুর্গত এলাকায় পৌঁছানোর চেষ্টা করা হবে।
উপজেলা প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, বন্যাদুর্গত মানুষের জন্য বর্তমানে চারটি আশ্রয়কেন্দ্র চালু রয়েছে। সেখানে এখন পর্যন্ত ১৮৩ জন আশ্রয় নিয়েছেন। তবে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত ফারুয়া ইউনিয়নে মাত্র একটি আশ্রয়কেন্দ্র থাকায় সেখানে অতিরিক্ত মানুষের চাপ সৃষ্টি হয়েছে।
তথ্য সূত্র : কালের কণ্ঠ











