খবরবাংলা
,
ডেস্ক
অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা পরিষদ ২০২৬ সালের সরকারি ছুটির তালিকা অনুমোদন করেছে। কর্মব্যস্ত জীবনে সাপ্তাহিক ছুটিতে ব্যক্তিগত নানা কাজে সময় কেটে যাওয়ায় অনেকেরই দীর্ঘ অবকাশ কাটানোর সুযোগ হয় না। তবে সাপ্তাহিক ছুটির সঙ্গে সরকারি ছুটি যুক্ত হলে ভ্রমণ কিংবা ব্যক্তিগত পরিকল্পনার জন্য বাড়তি সময় পাওয়া যায়। সে অপেক্ষায় থাকা চাকরিজীবীদের জন্য ২০২৬ সাল নিয়ে এসেছে বেশ কিছু সুখবর।
প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, ২০২৬ সালে মোট সরকারি ছুটি নির্ধারণ করা হয়েছে ২৮ দিন। এর মধ্যে ৯ দিন পড়েছে সাপ্তাহিক ছুটি—শুক্রবার ও শনিবারে। ফলে প্রকৃত কার্যদিবসের সরকারি ছুটি দাঁড়াচ্ছে ১৯ দিন।
এ ছাড়া ধর্মীয় ও নৃগোষ্ঠীভিত্তিক ঐচ্ছিক ছুটিও নির্ধারিত হয়েছে। মুসলিম ধর্মাবলম্বীদের জন্য পাঁচ দিন, হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের জন্য নয় দিন, খ্রিষ্টানদের জন্য আট দিন, বৌদ্ধদের জন্য সাত দিন এবং ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর কর্মচারীদের জন্য দুই দিন ঐচ্ছিক ছুটি থাকবে।
চলুন দেখে নেওয়া যাক—২০২৬ সালে কোন কোন মাসে টানা ছুটি কাটানোর সুযোগ থাকছে।
ফেব্রুয়ারি চাঁদ দেখা সাপেক্ষে ৪ ফেব্রুয়ারি (বুধবার) পবিত্র শবেবরাতের ছুটি নির্ধারিত রয়েছে। এ ক্ষেত্রে ৫ ফেব্রুয়ারি (বৃহস্পতিবার) এক দিন ছুটি নিলেই ৬ ও ৭ ফেব্রুয়ারির সাপ্তাহিক ছুটি যুক্ত হয়ে টানা চার দিনের অবকাশ পাওয়া যাবে।
মার্চ মার্চ মাসে সবচেয়ে বেশি ছুটির সুযোগ থাকছে। মাত্র এক দিন ছুটি ম্যানেজ করেই মিলতে পারে টানা সাত দিনের ছুটি।
চাঁদ দেখা সাপেক্ষে ২১ মার্চ পবিত্র ঈদুল ফিতর উদযাপিত হবে। ঈদের আগে ও পরে নির্বাহী আদেশে ছুটি মিলিয়ে মোট পাঁচ দিনের অবকাশ তৈরি হবে।
এ ছাড়া চাঁদ দেখা সাপেক্ষে ১৭ মার্চ শবেকদরের ছুটি রয়েছে। এ ক্ষেত্রে ১৮ মার্চ এক দিন ছুটি নিলে সাপ্তাহিক ছুটি যুক্ত হয়ে পাওয়া যাবে টানা সাত দিনের বিরতি।
২৬ মার্চ (বৃহস্পতিবার) মহান স্বাধীনতা দিবস হওয়ায় এর আগে বা পরে এক দিন ছুটি নিলেই পাওয়া যাবে চার দিনের অবকাশ। এমনকি কোনো অতিরিক্ত ছুটি না নিলেও মিলবে টানা তিন দিনের বিরতি।
এপ্রিল এপ্রিলে দুই দিন ছুটি ম্যানেজ করতে পারলে টানা পাঁচ দিনের অবকাশ কাটানো সম্ভব। ১০ ও ১১ এপ্রিল সাপ্তাহিক ছুটি এবং ১৪ এপ্রিল পহেলা বৈশাখের ছুটির মাঝে ১২ ও ১৩ এপ্রিল ছুটি নিলেই দীর্ঘ বিরতি পাওয়া যাবে।
মে ২০২৬ সালের মে মাসে সবচেয়ে দীর্ঘ ছুটির সুযোগ থাকছে। মাত্র দুই দিন ছুটি নিলেই মিলবে টানা ১০ দিনের অবকাশ।
চাঁদ দেখা সাপেক্ষে ২৮ মে পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে সাধারণ ছুটি থাকবে। ঈদের আগে ও পরে নির্বাহী আদেশে ছুটি রয়েছে মোট ছয় দিন। এর সঙ্গে ২২ ও ২৩ মে সাপ্তাহিক ছুটি যুক্ত করে ২৪ ও ২৫ মে ছুটি নিলে টানা ১০ দিনের ছুটি পাওয়া যাবে।
আগস্ট আগস্ট মাসে দুই দফায় চার দিনের ছুটির সুযোগ রয়েছে। ৫ আগস্ট (বুধবার) জুলাই গণ-অভ্যুত্থান দিবসের ছুটির পরদিন এক দিন ছুটি নিলে সাপ্তাহিক ছুটি যুক্ত হয়ে টানা চার দিনের অবকাশ মিলবে। এ ছাড়া ২৬ আগস্ট (বুধবার) চাঁদ দেখা সাপেক্ষে ঈদে মিলাদুন্নবি পালিত হলে, পরদিন এক দিন ছুটি নিলেই আবারও চার দিনের ছুটি পাওয়া যাবে।
অক্টোবর অক্টোবর মাসে মাত্র এক দিন ছুটি নিলেই টানা পাঁচ দিনের অবকাশ পাওয়া যাবে। ২০ অক্টোবর দুর্গাপূজার নবমী এবং ২১ অক্টোবর বিজয়া দশমীর ছুটির পর ২২ অক্টোবর ছুটি নিলে সাপ্তাহিক ছুটি যুক্ত হবে।
ডিসেম্বর বছরের শেষ মাস ডিসেম্বরে ১৭ ডিসেম্বর এক দিন ছুটি নিলেই ১৬ ডিসেম্বর মহান বিজয় দিবসের ছুটি ও সাপ্তাহিক ছুটি মিলিয়ে পাওয়া যাবে টানা চার দিনের বিরতি।
তথ্য সূত্র : কালের কণ্ঠ











