টাঙ্গাইল সদর সংবাদ দাতা
ঈদ মানেই আনন্দ, আর সেই আনন্দকে ঘিরে এখন ব্যস্ত সময় পার করছেন টাঙ্গাইলের দর্জিরা। সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত চলছে একটানা কাজ। নতুন পোশাক তৈরির অর্ডার, ক্রেতাদের ভিড় এবং সময়মতো ডেলিভারির চাপ—সব মিলিয়ে দর্জিদের নিঃশ্বাস ফেলারও সময় নেই। তবে এই ব্যস্ততার মধ্যেই বাড়তি দুশ্চিন্তায় পড়েছেন অনেক ক্রেতা, কারণ ঈদ সামনে রেখে সেলাইয়ের মজুরি প্রায় দ্বিগুণ বেড়েছে।
টাঙ্গাইল শহরের আলি কমপ্লেক্স, সিডিসি বীর মুক্তিযোদ্ধা ফারুক আহমেদ মার্কেট, মুক্তিযোদ্ধা মার্কেটসহ বিভিন্ন এলাকার অলিগলি ও বাজারের ছোট-বড় দর্জি দোকানগুলোতে এখন কাজের ধুম পড়েছে। শবে বরাতের পর থেকেই কাপড় কাটাকুটি ও সেলাই মেশিনে নানা ডিজাইনের কাজ চলছে জোরেশোরে।
দর্জিরা জানান, অনলাইন শপিং ও রেডিমেড পোশাকের জনপ্রিয়তা বাড়ায় আগের মতো টেইলার্সের দোকানে ভিড় না থাকলেও ঈদের আগে অর্ডার কিছুটা বাড়ে। ভালো ফিটিংস ও পছন্দের ডিজাইনের পোশাক বানাতে অনেকেই ক্যাটালগ দেখে দর্জির কাছে আসছেন, আবার কেউ কেউ ফোনেই ডিজাইন ও মাপ জানিয়ে দিচ্ছেন।
শহরের বিভিন্ন মার্কেট ঘুরে দেখা যায়, নারীদের সুতি থ্রি-পিস বানাতে আগে যেখানে ৩০০ থেকে ৪৫০ টাকা নেওয়া হতো, সেখানে এখন ৬০০ টাকা পর্যন্ত চাওয়া হচ্ছে। জর্জেটের থ্রি-পিস আগে ৬০০ থেকে ৬৫০ টাকায় তৈরি হলেও এখন সেই মজুরি বেড়ে ১ হাজার ২০০ থেকে ১ হাজার ৩০০ টাকায় পৌঁছেছে।
দোকান মালিক আবদুস সালাম বলেন, ঈদের আগে কাজের চাপ এমনিতেই থাকে। এবার বিদ্যুৎ বিল, সুতা ও কর্মচারীদের ওভারটাইম খরচ বেড়ে গেছে। তাই বাধ্য হয়েই মজুরি বাড়াতে হয়েছে।
কারিগর রাশেদ মিয়া বলেন, আগে সুতির থ্রি-পিস ১০০ টাকায় বানাতাম। এখন ৬০০ টাকার নিচে করলে খরচ ওঠে না। ঈদের পর আবার আগের দামে কাজ করব।
শহরের কয়েকটি এলাকায় রাতেও খোলা থাকছে দর্জির দোকান। দোকানের ভেতরে ডেলিভারির অপেক্ষায় ঝুলছে তৈরি পোশাক। দর্জি সাইফুল ইসলাম জানান, প্রতিদিন রাত ১টা থেকে ২টা পর্যন্ত কাজ করতে হচ্ছে। এত অর্ডার যে নতুন কাজ নিতে ভয় লাগছে।
অন্যদিকে বাড়তি মজুরিতে অনেক ক্রেতাই পড়েছেন বিপাকে। রেহানা পারভীন বলেন, কাপড়ের দাম এমনিতেই বেশি, এখন সেলাই করতে গেলেও ৬০০ টাকা দিতে হচ্ছে। মধ্যবিত্ত পরিবারের জন্য এটি বড় চাপ।
মুগদা এলাকার কলেজছাত্রী তানিয়া রহমান বলেন, একই ডিজাইনের সুতির থ্রি-পিস আগে ৩৫০ থেকে ৪০০ টাকায় বানানো যেত। এখন প্রায় সব দোকানেই ৬০০ টাকা চাওয়া হচ্ছে, এতে বাজেট মেলাতে কষ্ট হচ্ছে।
এদিকে বাড়তি মজুরির কারণে অনেকেই এখন রেডিমেড পোশাকের দিকে ঝুঁকছেন। আফরোজা খাতুন বলেন, দুটি থ্রি-পিসের কাপড় কিনেছিলাম, কিন্তু সেলাইয়ের খরচ বেশি হওয়ায় বানানো সম্ভব হয়নি। তাই মেয়েদের জন্য রেডিমেড পোশাক কেনার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।
ঈদের আনন্দকে ঘিরে দর্জিদের ব্যস্ততা বাড়লেও বাড়তি মজুরি অনেক পরিবারের বাজেটে নতুন করে চাপ তৈরি করেছে।











