টাঙ্গাইল সদর সংবাদ দাতা
টাঙ্গাইলের কালিহাতীর এলেঙ্গা বাসস্ট্যান্ড এলাকায় চার লেন মহাসড়কের নির্মাণকাজ চলমান থাকায় আসন্ন ঈদে ঢাকা-টাঙ্গাইল-যমুনা সেতু মহাসড়কের এই অংশে যানজট ও ভোগান্তির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, ঈদের সময় যানবাহনের চাপ বেড়ে যাওয়ায় পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে।
সড়ক সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, এই মহাসড়কে প্রতিদিন প্রায় ২০ থেকে ২২ হাজার যানবাহন চলাচল করে। তবে ঈদের সময় যমুনা সেতু পারাপার হওয়া যানবাহনের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় ৬০ থেকে ৭০ হাজারেরও বেশি। চার লেনের সড়ক দিয়ে আসা বিপুল সংখ্যক যানবাহন এলেঙ্গা হয়ে যমুনা সেতু এলাকায় দুই লেনে প্রবেশ করায় গতি কমে যায় এবং সৃষ্টি হয় তীব্র যানজট। এর সঙ্গে ঢাকাগামী পুরোনো বা লক্কড়ঝক্কড় লোকাল বাস বিকল হলে দুর্ভোগ আরও কয়েকগুণ বেড়ে যায়।
টাঙ্গাইল সড়ক বিভাগ সূত্র জানায়, মহাসড়কের টাঙ্গাইল অংশের মির্জাপুর উপজেলার গোড়াই থেকে কালিহাতীর এলেঙ্গা পর্যন্ত ছয় লেন চালু রয়েছে। এলেঙ্গা থেকে যমুনা সেতু পর্যন্ত প্রায় সাড়ে ১৩ কিলোমিটার অংশে চার লেনের কাজ চলমান। গোড়াই থেকে যমুনা সেতু পর্যন্ত প্রায় ৬৫ কিলোমিটার সড়ক টাঙ্গাইল জেলার মধ্যে পড়েছে।
যমুনা সেতু টোল প্লাজা সূত্র জানায়, গত ঈদুল আজহায় একদিনে ৬৪ হাজারের বেশি যানবাহন এই সেতু পারাপার করেছে। টোল আদায়ের বুথ বাড়িয়ে সড়কে শৃঙ্খলা রাখার উদ্যোগ নেওয়া হলেও বিকল যানবাহনের কারণে ভোগান্তি তৈরি হয়েছিল।
হাইওয়ে পুলিশের এলেঙ্গা ফাঁড়ির ইনচার্জ মোহাম্মদ শরীফ জানান, গত ঈদেও সেতু ও মহাসড়কের বিভিন্ন স্থানে যানবাহন বিকল হওয়ায় দীর্ঘ যানজট সৃষ্টি হয়েছিল। একটি যানবাহন বিকল হলে সেটি মহাসড়ক থেকে সরাতে ১০ থেকে ১৫ মিনিট সময় লাগে, আর এতেই কয়েক কিলোমিটার দীর্ঘ যানজট তৈরি হয়।
যমুনা সেতু কর্তৃপক্ষ জানায়, স্বাভাবিক সময়ে পূর্ব ও পশ্চিম প্রান্তে সাতটি বুথে টোল আদায় করা হয়। তবে ঈদের সময় যানবাহনের চাপ সামাল দিতে প্রতি প্রান্তে ৯টি করে মোট ১৮টি বুথে টোল আদায়ের ব্যবস্থা থাকবে। মোটরসাইকেলের জন্য আলাদা বুথ রাখা হবে। এছাড়া দুর্ঘটনা বা বিকল যানবাহন দ্রুত সরিয়ে নিতে রেকার প্রস্তুত রাখা হবে।
এদিকে টাঙ্গাইল শহর বাইপাস থেকে যমুনা সেতু পর্যন্ত প্রায় ২৪ কিলোমিটার সড়ক পরিদর্শনে দেখা গেছে, মহাসড়কের অবস্থা ভালো থাকলেও এলেঙ্গা এলাকায় চার লেন ও ফ্লাইওভারের কাজ চলমান রয়েছে।
টাঙ্গাইলের পুলিশ সুপার মুহাম্মদ শামসুল আলম সরকার জানান, সম্ভাব্য ঝুঁকিপূর্ণ স্থানগুলো চিহ্নিত করা হয়েছে। ঈদের পাঁচ দিন আগে থেকে এবং ঈদের পর সাত দিন পর্যন্ত মহাসড়কে যানজট নিরসনে প্রায় এক হাজার পুলিশ সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন। মহাসড়কের টাঙ্গাইল অংশ চার ভাগে ভাগ করে তিন শিফটে ২৪ ঘণ্টা পুলিশ মোতায়েন থাকবে।











