ঘাটাইল সংবাদ দাতা
টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সরকারি ওষুধ পিকআপে করে সরিয়ে নেওয়ার ঘটনায় জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে বিক্ষোভ ও সড়ক অবরোধ করেছেন স্থানীয়রা। শনিবার (২৯ আগস্ট) দুপুরে উপজেলা পরিষদের সামনে থেকে মিছিল নিয়ে হাসপাতাল ও থানার সামনে বিক্ষোভ করেন তারা। পরে টাঙ্গাইল-ময়মনসিংহ মহাসড়কের কলেজ মোড়ে অবস্থান নিয়ে সড়ক অবরোধ করেন বিক্ষোভকারীরা।
প্রায় কিছু সময় সড়ক অবরোধ চলার পর পুলিশের আশ্বাসে কর্মসূচি প্রত্যাহার করা হয়। এতে মহাসড়কের উভয় পাশে যানবাহনের দীর্ঘ সারি তৈরি হয় এবং ভোগান্তিতে পড়েন যাত্রীরা।
বিক্ষোভকারীরা অভিযোগ করেন, সরকারি ওষুধ সরিয়ে নেওয়ার ঘটনায় মূল ব্যক্তিদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তার না করে পিকআপচালক আজমতের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। তাদের দাবি, ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত জড়িতদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে। একই সঙ্গে পিকআপচালকের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলা প্রত্যাহার ও তার মুক্তির দাবি জানান তারা।
এদিকে পিকআপচালকের বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের প্রতিবাদে শ্রমিকরাও বিক্ষোভ করেছেন। শুক্রবার টাঙ্গাইল-ময়মনসিংহ সড়কের ঘাটাইল খাদ্যগুদামের সামনে সড়ক অবরোধ করে প্রায় এক ঘণ্টা বিক্ষোভ করেন তারা। পরে মিছিল নিয়ে হাসপাতালের সামনে এসে একই দাবিতে কর্মসূচিতে যোগ দেন শ্রমিকরা।
প্রসঙ্গত, গত বুধবার মধ্যরাতে ঘাটাইল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের একটি পিকআপে থাকা সরকারি ওষুধ ভূঞাপুরের যমুনা নদীতে ফেলে দেওয়ার সময় স্থানীয়দের হাতে আটক হওয়ার ঘটনা ঘটে। পরে পিকআপচালককে আটক করে গাড়িসহ ওষুধ থানায় নিয়ে যায় পুলিশ।
এ ঘটনায় বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে ঘাটাইল উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আবু নয়িম মোহাম্মদ সোহেল বাদী হয়ে মামলা করেন। মামলায় পিকআপচালক আজমতকে আসামি করা হয়। শুক্রবার তাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
তবে বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদ্ঘাটন না করে চালকের বিরুদ্ধে মামলা দেওয়ার মাধ্যমে সরকারি ওষুধ কেলেঙ্কারির মূল ঘটনা আড়াল করার চেষ্টা করা হচ্ছে। তারা দ্রুত তদন্ত করে প্রকৃত দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান। অন্যথায় আরও কঠোর কর্মসূচির হুঁশিয়ারি দেন আন্দোলনকারীরা।











