টাঙ্গাইল সদর সংবাদ দাতা
টাঙ্গাইলে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের মাধ্যমে অবৈধ দখল থেকে বাড়িসহ নিজের জমি ফিরে পেয়েছেন মো. আতিকুর রহমান রুবেল। সোমবার টাঙ্গাইল সদর থানা পুলিশের সহযোগিতায় শহরের সাবালিয়া মৌজায় তাকে জমির দখল বুঝিয়ে দেওয়া হয়।
আদালত সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে নিজ মালিকানাধীন জমিতে নির্মিত বাড়ি থেকে অবৈধভাবে দখলচ্যুত ছিলেন রুবেল। বিভিন্নভাবে চেষ্টা করেও জমির দখল ফিরে না পেয়ে তিনি অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে আবেদন করেন।
ভূমি অপরাধ প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইন, ২০২৩-এর ৮ ধারা অনুযায়ী দখল পুনরুদ্ধারের আবেদনটি করা হয়। আইনের নির্ধারিত প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-১ (টাঙ্গাইল দক্ষিণ) বিচারকের আদেশে রুবেলের জমি তার কাছে হস্তান্তরের জন্য টাঙ্গাইল সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে নির্দেশ দেওয়া হয়।
পাশাপাশি উচ্ছেদ কার্যক্রমের সময় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে একজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগের জন্য জেলা ম্যাজিস্ট্রেটকে নির্দেশ দেওয়া হয়। পরে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. রাফিউল ইসলামের উপস্থিতিতে পুলিশি সহায়তায় রুবেলকে তার জমির দখল বুঝিয়ে দেওয়া হয়।
জমি ফিরে পাওয়ার পর আতিকুর রহমান রুবেল বলেন, আদালতের মাধ্যমে জমি উদ্ধারে অনেক সময় বছরের পর বছর লেগে যায়। দীর্ঘদিন আইনজীবীর খরচ বহন করতে গিয়ে তিনি অনেকটা নিঃস্ব হয়ে পড়েছিলেন। পরে আইনজীবীর পরামর্শে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে দখল পুনরুদ্ধারের আবেদন করেন।
তিনি বলেন, এত দ্রুত নিজের জমি ও বাড়ি ফিরে পাবেন, তা তিনি কল্পনাও করেননি। এজন্য অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. মাহবুব হাসানসহ সংশ্লিষ্টদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান তিনি।
অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. মাহবুব হাসান বলেন, কোনো ব্যক্তির জমিতে বৈধ স্বত্ব থাকলেও তাকে আইনানুগ প্রক্রিয়া ছাড়া অবৈধভাবে উচ্ছেদ করা হলে ভূমি অপরাধ প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইন, ২০২৩-এর ৮ ধারায় মামলা করে দ্রুত জমির দখল ফিরে পাওয়ার সুযোগ রয়েছে।
জেলা প্রশাসক শরীফা হক বলেন, বেদখল হওয়া জমি উদ্ধারে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-১ ও আদালত-২-এ ভূমি অপরাধ প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইনের আওতায় মামলার কার্যক্রম চলছে। জনগণ যাতে দ্রুত প্রতিকার পায়, সেজন্য মামলার সংখ্যা বাড়লে প্রয়োজন অনুযায়ী আদালতের সংখ্যাও বাড়ানো হবে।










