খবরবাংলা ডেস্ক :
ডেঙ্গুর বিস্তার রোধে এডিস মশার বংশবিস্তার নিয়ন্ত্রণ, মশার কামড় থেকে সুরক্ষা এবং জ্বর হলে ঘরে বসে না থেকে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন জনস্বাস্থ্যবিদ ও বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা। তাদের মতে, ডেঙ্গু প্রতিরোধে সচেতনতার কোনো বিকল্প নেই।
বিশেষজ্ঞরা জানান, ডেঙ্গুর বিরুদ্ধে এখনো শতভাগ কার্যকর কোনো ভ্যাকসিন বা নির্দিষ্ট ওষুধ নেই। তাই রোগ প্রতিরোধের সবচেয়ে কার্যকর উপায় হলো এডিস মশার প্রজননস্থল ধ্বংস করা এবং মশার কামড় এড়িয়ে চলা।
তাদের ভাষ্য, বাড়ির ছাদ, বারান্দা, আঙিনা, ফুলের টব, ড্রাম, বালতি, এয়ার কন্ডিশনার ও রেফ্রিজারেটরের নিচের পানির পাত্রসহ যেকোনো স্থানে পাঁচ দিনের বেশি পানি জমে থাকতে দেওয়া যাবে না। পাশাপাশি অপ্রয়োজনীয় পানি জমে থাকা পাত্র অপসারণ এবং আশপাশ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার আহ্বান জানান তারা।
ডেঙ্গুর সর্বশেষ পরিস্থিতি সরকারি তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের ২৮ জুলাই পর্যন্ত ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে ৪৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে ১৪ হাজার ১৫৬ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হয়েছেন ১৭ হাজার ৯ জন।
অন্যদিকে, ২০২৫ সালে দেশে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়েছিল ১ লাখ ২ হাজার ৮৬১ জন, আর মৃত্যুর সংখ্যা ছিল ৪১৩ জন।
যা বলছেন বিশেষজ্ঞরা জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ড. মুশতাক হোসেন বলেন, ডেঙ্গুর বিরুদ্ধে লড়াই শুধু হাসপাতালে সীমাবদ্ধ থাকলে হবে না। বরং প্রতিরোধ কার্যক্রম শুরু করতে হবে বাড়ি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, কর্মস্থল ও স্থানীয় সম্প্রদায় থেকে।
তার মতে, রোগী দ্রুত শনাক্ত করা, ঝুঁকিপূর্ণ ব্যক্তিদের সুরক্ষা নিশ্চিত করা, দরিদ্র রোগীদের সহায়তা দেওয়া এবং মশার প্রজননস্থল ধ্বংসে সমন্বিত উদ্যোগ নিলে ডেঙ্গুজনিত মৃত্যু ও ভোগান্তি উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো সম্ভব।
তিনি আরও বলেন, বৃষ্টির পরপরই যদি প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা জোরদার করা যায়, তাহলে প্রতি বছরের ডেঙ্গু সংকট অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব।
ডেঙ্গু হলে কী করবেন ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. হাসান হাফিজুর রহমান বলেন, ডেঙ্গু হলে শরীরের তাপমাত্রা ১০২ থেকে ১০৫ ডিগ্রি ফারেনহাইট পর্যন্ত উঠতে পারে। এ সময়—
মাথায় পানি দিতে হবে এবং শরীর ভেজা কাপড়ে মুছে দিতে হবে। চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী প্যারাসিটামল সেবন করা যেতে পারে।পর্যাপ্ত পানি পান করতে হবে। ওরস্যালাইন, ডাবের পানি, ফলের রস, স্যুপ ও অন্যান্য তরল খাবার বেশি করে গ্রহণ করতে হবে। জ্বর বা অন্যান্য উপসর্গ দেখা দিলে ঘরে বসে না থেকে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।
তিনি আরও বলেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধের মূলমন্ত্র হলো এডিস মশার বিস্তার রোধ এবং মশার কামড় থেকে নিজেকে সুরক্ষিত রাখা। এজন্য বাড়ির আশপাশের ঝোপঝাড়, জলাবদ্ধতা ও সম্ভাব্য প্রজননস্থল নিয়মিত পরিষ্কার রাখতে হবে।
তথ্য সূত্র : কালের কণ্ঠ











