নিজস্ব প্রতিবেদক :
ধান কাটার পর ফাঁকা জমিতে খেলাধুলা করত গ্রামের শিশুরা। আবার নতুন করে আবাদ শুরু হলে বন্ধ হয়ে যেত তাদের খেলা। সারা বছর খেলাধুলার সুযোগ তৈরি করতে চাঁদা তুলে মাঠের জন্য জমি কিনেছিলেন টাঙ্গাইলের দেলদুয়ার উপজেলার বাবুপুর গ্রামের বাসিন্দারা। এবার তাঁদের সেই উদ্যোগে সহায়তা দিচ্ছে সরকার। মাঠের বাকি জমি কেনার জন্য প্রায় সাড়ে চার কোটি টাকা বরাদ্দের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
রোববার দুপুরে যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক প্রথম আলোকে এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, বাবুপুরে খেলার মাঠের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নির্দেশ দিয়েছেন। সেই নির্দেশনা অনুযায়ী বাকি জমি কেনার অর্থ দেবে সরকার।
জাতীয় ক্রীড়া পরিষদে বাবুপুর গ্রামের কয়েকজন বাসিন্দা, টাঙ্গাইলের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক এবং দেলদুয়ারের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন প্রতিমন্ত্রী। এ সময় তাঁদের প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা ও সরকারি সহায়তার সিদ্ধান্তের কথা জানান তিনি।
দেলদুয়ার উপজেলার দেউলী ইউনিয়নের বাবুপুর গ্রামে মাঠের জন্য স্থানীয় বাসিন্দারা ইতিমধ্যে ৫৯ শতাংশ জমি কিনেছেন। জমির মালিক আরও ১ শতাংশ জমি দান করেছেন। সব মিলিয়ে বর্তমানে মাঠের জন্য জমি রয়েছে ৬০ শতাংশ। নতুন পরিকল্পনা অনুযায়ী, মাঠটি গড়ে তুলতে মোট ১৮০ শতাংশ জমি প্রয়োজন। বাকি ১২০ শতাংশ জমি কিনতে ব্যয় হবে প্রায় সাড়ে চার কোটি টাকা।
যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, বাকি জমি কেনার জন্য সরকার ৪ কোটি ৪১ লাখ ৪৭ হাজার ৯২৮ টাকা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক বলেন, খেলার মাঠের জন্য প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নিতে প্রধানমন্ত্রী নির্দেশনা দিয়েছেন। তাঁর নির্দেশেই স্থানীয় বাসিন্দা ও প্রশাসনের কর্মকর্তাদের ডেকে সরকারি সহায়তার বিষয়টি জানানো হয়েছে। বাকি জমি কেনার অর্থ সরকার দেবে।
গত ৩০ অক্টোবর বাবুপুরের বাসিন্দাদের এই উদ্যোগ নিয়ে প্রথম আলোতে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। তখন উদ্যোক্তারা জানিয়েছিলেন, মাঠটি বড় করতে তাঁরা আরও জমি কিনতে চান। সরকারি সহায়তার সিদ্ধান্তের ফলে তাঁদের সেই পরিকল্পনা বাস্তবায়নের পথ আরও সহজ হলো।
মাঠ তৈরির অন্যতম উদ্যোক্তা খোরশেদ আলম প্রথম আলোকে বলেন, গ্রামবাসী নিজেদের অর্থে মাঠের জন্য জমি কিনেছেন। এখন সেই জমিসহ মোট ১৮০ শতাংশ জায়গায় সরকার মাঠ তৈরি করে দেবে বলে যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আশ্বাস দিয়েছেন।
তিনি বলেন, তাঁদের উদ্যোগে সরকার এভাবে পাশে দাঁড়াবে এবং এত বড় মাঠ তৈরির পরিকল্পনা করবে, তা তাঁরা কখনো ভাবেননি। এ সিদ্ধান্তে পুরো গ্রামের মানুষ আনন্দিত এবং সরকারের প্রতি কৃতজ্ঞ।











