সরকারের ঘোষিত ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির আওতায় দেশব্যাপী অপরাধ দমন, মাদক ও অবৈধ অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ এবং জননিরাপত্তা জোরদারে সমন্বিত অভিযান আরও জোরালো করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারি, কঠোর আইন প্রয়োগ এবং বিভিন্ন সংস্থার সমন্বিত কার্যক্রমের মাধ্যমে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নে কাজ চলছে।
পুলিশের অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশনস) খন্দকার রফিকুল ইসলাম বলেন, অপরাধ ও মাদক পাচার প্রতিরোধে নিয়মিত টহল, বিশেষ অভিযান এবং তাৎক্ষণিক আইনগত ব্যবস্থা অব্যাহত রয়েছে। সরকারের জিরো টলারেন্স নীতির অংশ হিসেবে সারা দেশে অপরাধীদের বিরুদ্ধে কঠোর অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।
৭৩ দিনে গ্রেপ্তার ১ লাখ ১৬ হাজারের বেশি পুলিশ সদর দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের ১ মে থেকে ১২ জুলাই পর্যন্ত নিয়মিত ও বিশেষ অভিযানে ১ লাখ ১৬ হাজার ৭২৫ জন সন্দেহভাজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এর মধ্যে বিশেষ অভিযানে গ্রেপ্তার হয়েছেন ৩২ হাজার ৯০৮ জন এবং বিভিন্ন মামলায় ও নিয়মিত অভিযানে আটক হয়েছেন ৮৩ হাজার ৮১৭ জন।
উদ্ধার বিপুল অস্ত্র ও বিস্ফোরক অভিযানে উদ্ধার করা হয়েছে ২৪৩টি আগ্নেয়াস্ত্র, ২ হাজার ৩১৩ রাউন্ড গুলি, ৮৮টি ম্যাগাজিন, ৪৩টি দেশীয় বিস্ফোরক, ২ কেজি গানপাউডার, ৫০৩টি দেশীয় অস্ত্র এবং ১০ হাজারের বেশি দেশীয় ‘চকোলেট বোমা’।
উদ্ধার হওয়া আগ্নেয়াস্ত্রের মধ্যে রয়েছে পিস্তল, বন্দুক, রিভলভার, শটগান, রাইফেল, সাবমেশিনগান (এসএমজি), পাইপগান ও এয়ারগান।
মাদকবিরোধী অভিযানে বড় সাফল্য একই সময়ে পরিচালিত মাদকবিরোধী অভিযানে প্রায় ৭৬ লাখ ৪০ হাজার ইয়াবা ট্যাবলেট, ৮ হাজার ২৮৪ প্যাকেট হেরোইন, ৩ হাজার ১৮৬ বোতল ফেনসিডিল, ৬ হাজার ৮৩৫ বোতল বিদেশি মদ, ৩৫৪ বোতল দেশীয় মদ এবং ৫ হাজার ৩৩৬ প্যাকেট গাঁজা উদ্ধার করা হয়েছে।
এ সময় মাদক-সংক্রান্ত ১৪ হাজার ১৫৭টি মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং ২০ হাজার ৪৩৯ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
মহাসড়কে এআইভিত্তিক নজরদারি প্রযুক্তিনির্ভর পুলিশিংয়ের অংশ হিসেবে ঢাকা-চট্টগ্রাম ও ঢাকা-মাওয়া মহাসড়ককে সিসিটিভি এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) চালিত ক্যামেরার আওতায় আনা হয়েছে।
হাইওয়ে পুলিশের অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক ফারুক আহমেদ জানান, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের পুরো অংশ এখন সিসিটিভি নজরদারিতে রয়েছে এবং ১৬টি গুরুত্বপূর্ণ স্থানে এআইভিত্তিক ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে। এই প্রযুক্তি ডাকাতি, মাদক পাচার, অপরাধ প্রতিরোধ এবং যান চলাচল ব্যবস্থাপনায় কার্যকর ভূমিকা রাখবে।
সরকারের অবস্থান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেন, আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা এবং জনগণের আস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠায় সরকার কঠোর ও আইনসম্মত পদক্ষেপ নিচ্ছে। তিনি জানান, গত ১ মে থেকে পুলিশ, র্যাব, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর (ডিএনসি) ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর সমন্বয়ে মাদক, অবৈধ অস্ত্র ও চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে দেশব্যাপী যৌথ অভিযান চলছে।
পেশাদার পুলিশিংয়ে গুরুত্ব পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) আলী হোসেন ফকির পুলিশ সদস্যদের অপরাধ দমনে কঠোর থাকার পাশাপাশি জনগণের সঙ্গে মানবিক ও পেশাদার আচরণ বজায় রাখার নির্দেশ দিয়েছেন।
অন্যদিকে, ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) কমিশনার মোসলেহ উদ্দিন আহমেদ কর্মকর্তাদের নিরপেক্ষতা, জবাবদিহি ও নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, অপরাধীর কোনো রাজনৈতিক বা সামাজিক পরিচয় নেই। আইন প্রয়োগে কোনো ধরনের পক্ষপাতিত্ব গ্রহণযোগ্য নয়।
তিনি আরও জানান, রাজধানীতে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ৪০০ জন অপরাধ-সংশ্লিষ্ট সন্দেহভাজনকে গ্রেপ্তার করা হচ্ছে এবং অপরাধ দমনে নিয়মিত অভিযান অব্যাহত থাকবে।
তথ্য সূত্র : কালের কণ্ঠ











