খবরবাংলা ডেস্ক :
রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগের পর দেশের পরবর্তী সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদে কে বসছেন—তা নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে জোর চর্চা শুরু হয়েছে। সরকার ও ক্ষমতাসীন দল বিএনপির উচ্চপর্যায় এক নির্ভরযোগ্য ও গ্রহণযোগ্য ব্যক্তিত্বকে এই পদে বেছে নিতে চায়। তবে সিদ্ধান্ত মূলত নির্ভর করছে প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যানের ওপর।
আলোচনায় বিএনপির চার জ্যেষ্ঠ নেতা বিএনপির দলীয় সূত্রে জানা গেছে, পরবর্তী রাষ্ট্রপতি পদে দলটি থেকে চারজন জ্যেষ্ঠ নেতার নাম বেশ জোরেশোরে আলোচনায় রয়েছে:
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর: দীর্ঘ এক দশকের বেশি সময় ধরে বিএনপির মহাসচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। বর্তমানে তিনি স্থানীয় সরকার মন্ত্রী হিসেবেও দায়িত্বে আছেন। দল ও দলের বাইরে তাকেই সবচেয়ে আকাঙ্ক্ষিত মনে করা হচ্ছে।
ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন: বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক অধ্যাপক। তবে তিনি বর্তমানে শারীরিকভাবে অসুস্থ।
ড. আব্দুল মঈন খান: স্থায়ী কমিটির জ্যেষ্ঠ সদস্য ও পরিচ্ছন্ন রাজনীতিবিদ হিসেবে পরিচিত। তিনিও বার্ধক্যজনিত নানাবিধ সমস্যায় ভুগছেন।
নজরুল ইসলাম খান: বিএনপির স্থায়ী কমিটির বর্ষীয়ান ও প্রভাবশালী নেতা, পরিচ্ছন্ন রাজনীতিবিদ হিসেবে বেশ খ্যাতি রয়েছে তার।
সাবেক প্রধান বিচারপতি ও আমলার নামও আলোচনায় দলীয় নেতাদের বাইরে রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে থাকা একজন অবসরপ্রাপ্ত উচ্চপদস্থ আমলার নাম শুরু থেকেই গুঞ্জনে ছিল। পাশাপাশি নতুন করে যুক্ত হয়েছে অবসরে যাওয়া সাবেক এক প্রধান বিচারপতির নামও।
বিশেষজ্ঞ মতামত: রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক অধ্যাপক দিলারা চৌধুরী বলেন, “রাজনীতিবিদরা দলের জন্য স্যাক্রিফিস করেন এবং তারা রাজনীতি বোঝেন, তাই সেখান থেকেই রাষ্ট্রপতি আসা উচিত। তবে সংসদে বিএনপি সংখ্যাগরিষ্ঠ হওয়ায় মূল সিদ্ধান্ত নির্ভর করবে বিএনপি চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ওপর।”
সংবিধান ও পরবর্তী পদক্ষেপ শারীরিক অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে মো. সাহাবুদ্দিন পদত্যাগ করায় সংবিধান অনুযায়ী বর্তমানে স্পিকার সাময়িকভাবে রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করবেন। সেপ্টেম্বরে জাতীয় সংসদের পরবর্তী অধিবেশন বসলে সংসদ সদস্যদের ভোটে নির্বাচিত হবেন নতুন রাষ্ট্রপতি। যেহেতু আগামী জাতীয় নির্বাচনের সময় নতুন রাষ্ট্রপতি দায়িত্বে থাকবেন, তাই এই মনোনয়ন ক্ষমতাসীন দলের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
তথ্য সূত্র : সমকাল











