খবরবাংলা ডেস্ক :
এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় প্রথম ফলাফলে ফেল করলেও খাতা পুনর্নিরীক্ষণের পর ৪ হাজার ৫৮৫ শিক্ষার্থী পাস করেছে। এসব শিক্ষার্থীর উত্তরপত্র মূল্যায়নে অবহেলা হয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখে সংশ্লিষ্ট শিক্ষকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী এএনএম এহসানুল হক মিলন।
সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে ‘বিশ্ব শিক্ষক দিবস-২০২৬’ উদযাপন উপলক্ষে জাতীয় স্টিয়ারিং কমিটির সভা শেষে সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, খাতা পুনর্নিরীক্ষণের মাধ্যমে মূল্যায়ন প্রক্রিয়ার দুর্বলতাগুলো চিহ্নিত করা হচ্ছে। তার মতে, কিছু ক্ষেত্রে খাতা দেখায় অবহেলার কারণে ফলাফলে পরিবর্তন হয়ে থাকতে পারে। যোগ্য শিক্ষার্থীকে ফেল করানোর সঙ্গে যেসব শিক্ষক জড়িত ছিলেন, তাদের চিহ্নিত করে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।
২৭ হাজারের বেশি শিক্ষার্থীর ফল পরিবর্তন আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার পুনর্নিরীক্ষণে ২৭ হাজার ৮৩৬ শিক্ষার্থীর ফল বা গ্রেডে পরিবর্তন এসেছে। মোট ৫৬ হাজার ২৫৯ শিক্ষার্থীর নম্বরে পরিবর্তন হয়েছে।
পুনর্নিরীক্ষণের পর নতুন করে ৪ হাজার ৫৮৫ জন ফেল থেকে পাস করেছে। পাশাপাশি ৩ হাজার ৭৯ জন শিক্ষার্থী নতুন করে জিপিএ-৫ পেয়েছে।
এবার দেশের ১১টি শিক্ষা বোর্ডে ৪ লাখের বেশি পরীক্ষার্থী পুনর্নিরীক্ষণের জন্য আবেদন করেছিল। তাদের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে উত্তরপত্রগুলো পুনরায় যাচাই করা হয়।
পুনর্নিরীক্ষণের ফল প্রকাশের আগে এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় মোট পাসের হার ছিল ৬২ দশমিক ২৫ শতাংশ। সংশোধিত ফলে নতুন করে শিক্ষার্থী পাস করায় সামগ্রিক পাসের হার কিছুটা বেড়েছে।
শিক্ষকদের প্রশিক্ষণের উদ্যোগ খাতা মূল্যায়নের মান উন্নয়নে শিক্ষকদের প্রশিক্ষণসহ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী।
তিনি বলেন, উত্তরপত্র মূল্যায়নের ক্ষেত্রে শিক্ষকদের আরও সতর্কতা ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কাজ করতে হবে। পুনর্নিরীক্ষণের ফলাফল বিশ্লেষণ করে মূল্যায়ন ব্যবস্থার দুর্বল দিকগুলো চিহ্নিত করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
অনলাইনে শিক্ষক বদলির উদ্যোগ শিক্ষকদের বদলি নিয়ে প্রশ্নের জবাবে শিক্ষামন্ত্রী জানান, বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষ (এনটিআরসিএ)–এর মাধ্যমেও অনলাইনে বদলি ব্যবস্থা চালুর কাজ চলছে।
তবে যেসব শিক্ষককে প্রতিস্থাপন করতে হবে এবং যারা সংযুক্তিতে (অ্যাটাচমেন্ট) রয়েছেন, তাদের বিষয়গুলোও নিষ্পত্তি করতে হবে। এ বিষয়ে এনটিআরসিএ কাজ করছে এবং শিগগিরই প্রক্রিয়াটি শুরু করা সম্ভব হবে বলে জানান তিনি।
১০০ শিক্ষককে গুণী শিক্ষক সম্মাননা সভায় প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষাবিষয়ক উপদেষ্টা মাহদী আমিন জানান, দীর্ঘদিন ধরে জাতীয় পর্যায়ে ১২ জন শিক্ষককে গুণী শিক্ষক হিসেবে সম্মাননা দেওয়া হতো। এবার প্রথমবারের মতো এ সংখ্যা বাড়িয়ে ১০০ জন করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, প্রাথমিক থেকে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায় পর্যন্ত বিভিন্ন স্তরের শিক্ষকদের এ সম্মাননার আওতায় আনা হবে।
তথ্য সূত্র : কালের কণ্ঠ











