জীবনযাপন ডেস্ক:
মাথাব্যথা, শরীরব্যথা কিংবা সাময়িক অস্বস্তি দূর করতে অনেকেই চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়াই ফার্মেসি থেকে পেইনকিলার কিনে সেবন করেন। আবার সাধারণ জ্বর, সর্দি-কাশি কিংবা ভাইরাসজনিত অসুস্থতায়ও অনেকে অ্যান্টিবায়োটিক খেয়ে থাকেন। সাময়িকভাবে উপসর্গ কমলেও, ভুলভাবে বা দীর্ঘদিন এসব ওষুধ ব্যবহারে শরীরে গুরুতর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা দিতে পারে। বিশেষ করে কিছু পেইনকিলার ও অ্যান্টিবায়োটিক কিডনির কার্যকারিতায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
পেইনকিলারে হতে পারে পেটের সমস্যা
কিছু ধরনের পেইনকিলার, বিশেষ করে নন-স্টেরয়ডাল অ্যান্টি-ইনফ্ল্যামেটরি ড্রাগস (এনএসএআইডি), দীর্ঘদিন বা অতিরিক্ত মাত্রায় সেবন করলে পাকস্থলীতে জ্বালাপোড়া, বদহজম ও পেটের অস্বস্তি হতে পারে। কিছু ক্ষেত্রে পাকস্থলীতে আলসার কিংবা রক্তক্ষরণের ঝুঁকিও বাড়ে।
তাই ব্যথা কমানোর ওষুধ প্রয়োজন হলেই নিজের সিদ্ধান্তে বারবার সেবন না করে ওষুধের ধরন, মাত্রা ও ব্যবহারের সময়সীমা সম্পর্কে চিকিৎসক বা ফার্মাসিস্টের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।
নীরবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে কিডনি
পেইনকিলারের অন্যতম ঝুঁকি হলো, কিছু ওষুধ কিডনিতে রক্তপ্রবাহ কমিয়ে এর স্বাভাবিক কার্যকারিতা ব্যাহত করতে পারে। বিশেষ করে পানিশূন্যতা, আগে থেকে কিডনির সমস্যা কিংবা নির্দিষ্ট কিছু দীর্ঘমেয়াদি রোগ থাকলে ঝুঁকি বাড়তে পারে।
কিডনির কার্যকারিতা কমে গেলেও শুরুতে সব সময় স্পষ্ট উপসর্গ দেখা যায় না। ফলে কেউ নিজেকে সুস্থ মনে করলেও রক্ত বা প্রস্রাব পরীক্ষায় কিডনির সমস্যার ইঙ্গিত পাওয়া যেতে পারে। কিছু ক্ষেত্রে দ্রুত চিকিৎসা নিলে ক্ষতি কমানো সম্ভব হলেও, দীর্ঘস্থায়ী ক্ষতি সব সময় পুরোপুরি সারানো যায় না।
কত ঘন ঘন পেইনকিলার খেলে ঝুঁকি বাড়ে?
ঝুঁকি নির্ভর করে কোন ওষুধ খাওয়া হচ্ছে, কী মাত্রায় এবং কত দিন ধরে খাওয়া হচ্ছে, পাশাপাশি ব্যক্তির শারীরিক অবস্থার ওপর। এক বা দুই দিন ওষুধ খেলেই সবার ঝুঁকি কম—এমন নিশ্চয়তা দেওয়া যায় না। আবার চিকিৎসকের পরামর্শে প্রয়োজন অনুযায়ী ওষুধ গ্রহণ করাও অনেক ক্ষেত্রে নিরাপদ হতে পারে।
বিশেষ করে বারবার ব্যথা হলে বা কয়েক সপ্তাহ ধরে পেইনকিলার প্রয়োজন হলে ব্যথার কারণ নির্ণয় করা জরুরি। নিজের সিদ্ধান্তে নিয়মিত ওষুধ খাওয়া এড়িয়ে চলুন।
অপ্রয়োজনে অ্যান্টিবায়োটিক সেবনের বিপদ
সাধারণ সর্দি-কাশি ও অধিকাংশ ভাইরাসজনিত সংক্রমণে অ্যান্টিবায়োটিক কার্যকর নয়। কারণ, অ্যান্টিবায়োটিক ব্যাকটেরিয়ার বিরুদ্ধে কাজ করে, ভাইরাসের বিরুদ্ধে নয়।
অপ্রয়োজনে অ্যান্টিবায়োটিক সেবন করলে শরীরে অ্যান্টিবায়োটিক প্রতিরোধক্ষমতা বা অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল রেজিস্ট্যান্স বাড়তে পারে। ফলে ভবিষ্যতে ব্যাকটেরিয়াজনিত সংক্রমণের চিকিৎসা কঠিন হয়ে উঠতে পারে।
কিছু অ্যান্টিবায়োটিক নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে কিডনির ক্ষতি করতে পারে। তাই চিকিৎসকের নির্দেশ ছাড়া অ্যান্টিবায়োটিক শুরু করা, মাত্রা পরিবর্তন করা কিংবা অন্যের ব্যবস্থাপত্র অনুসরণ করে ওষুধ খাওয়া উচিত নয়।
যাঁদের ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার ঝুঁকি বেশি
কিছু মানুষের ক্ষেত্রে পেইনকিলার বা নির্দিষ্ট ওষুধের কারণে কিডনির সমস্যা হওয়ার আশঙ্কা তুলনামূলক বেশি। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন—
– আগে থেকেই কিডনির রোগে আক্রান্ত ব্যক্তি।
– ডায়াবেটিসে আক্রান্ত ব্যক্তি।
– বয়স্ক মানুষ।
– পানিশূন্যতায় ভোগা ব্যক্তি।
– হার্ট ফেইলিউর বা লিভারের রোগে আক্রান্ত ব্যক্তি।
– শিশু ও গর্ভবতী নারী, যাঁদের ক্ষেত্রে ওষুধ ব্যবহারে বিশেষ সতর্কতা প্রয়োজন।
এসব ক্ষেত্রে ওষুধ ব্যবহারের আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ।
ওষুধ সেবনে কী সতর্কতা প্রয়োজন?
যেকোনো ব্যথায় শুধু উপসর্গ কমানোর চেষ্টা না করে এর মূল কারণ খুঁজে বের করা জরুরি। চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া দীর্ঘদিন পেইনকিলার বা অ্যান্টিবায়োটিক সেবন করবেন না। পর্যাপ্ত পানি পান করুন, তবে কিডনি বা হৃদ্রোগের কারণে চিকিৎসক পানি সীমিত রাখতে বললে তাঁর নির্দেশনা অনুসরণ করুন।
ওষুধ খাওয়ার পর প্রস্রাবের পরিমাণ কমে যাওয়া, শরীর ফুলে যাওয়া, শ্বাসকষ্ট বা অস্বাভাবিক দুর্বলতার মতো লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসা নিন।
মনে রাখবেন: সব পেইনকিলার বা অ্যান্টিবায়োটিক সমান ঝুঁকিপূর্ণ নয়। সঠিক ওষুধ, সঠিক মাত্রা এবং চিকিৎসকের নির্দেশনা মেনে চলাই ওষুধজনিত জটিলতার ঝুঁকি কমানোর গুরুত্বপূর্ণ উপায়।











