টাঙ্গাইল সদর সংবাদ দাতা
দেশের উন্নয়ন ও সমৃদ্ধির ধারা এগিয়ে নিতে সমগ্র জাতিকে ঐক্যবদ্ধভাবে প্রধানমন্ত্রীর পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ও টাঙ্গাইল সদর আসনের সংসদ সদস্য সুলতান সালাউদ্দিন টুকু। তিনি বলেন, সুখী-সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়তে প্রধানমন্ত্রীর পাশে থাকা এই মুহূর্তে সবার সবচেয়ে বড় দায়িত্ব।
মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) দুপুরে টাঙ্গাইল শহীদ মারুফ স্টেডিয়ামে কৃষক কার্ড বিতরণ কার্যক্রমের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
প্রতিমন্ত্রী টুকু বলেন, আজকের দিনটি কৃষকদের জন্য আশার ও সম্ভাবনার দিন। কৃষক কার্ডের মাধ্যমে তারা নতুন করে ঘুরে দাঁড়ানোর সুযোগ পাবে। সারাদেশে একযোগে কার্যক্রম শুরু হলেও টাঙ্গাইলকে উদ্বোধনের জন্য বেছে নেওয়ায় জেলার মানুষ গর্বিত ও আনন্দিত বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, কৃষক কার্ড শুধু একটি পরিচয়পত্র নয়, বরং কৃষকের অধিকার, মর্যাদা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার একটি কার্যকর মাধ্যম। এর মাধ্যমে কৃষকরা সরকারি বিভিন্ন সুবিধা সহজে ভোগ করতে পারবে এবং তৃণমূল পর্যায়ে তাদের অবস্থান আরও শক্তিশালী হবে।
বক্তব্যে তিনি শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার অবদানের কথা স্মরণ করেন এবং তাদের কৃষিবান্ধব উদ্যোগ দেশের কৃষি খাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে বলে উল্লেখ করেন।
মাওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানীর প্রসঙ্গ তুলে ধরে তিনি বলেন, টাঙ্গাইল ঐতিহ্যবাহী সংগ্রামের মাটি। এই মাটি থেকেই কৃষকদের অধিকার আদায়ে আন্দোলনের সূচনা হয়েছিল, আর সেই ঐতিহাসিক স্থানেই আজ কৃষক কার্ডের উদ্বোধন নতুন আশার দুয়ার খুলে দিয়েছে।
তিনি টাঙ্গাইলের কৃষি সম্ভাবনার কথা তুলে ধরে বলেন, জেলার উর্বর জমি, বনাঞ্চল ও চরাঞ্চল কৃষি উৎপাদনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। পাশাপাশি যমুনা নদীকেন্দ্রিক মৎস্য সম্পদ স্থানীয় মানুষের জীবিকার বড় উৎস।
প্রধানমন্ত্রীকে উদ্দেশ্য করে টুকু বলেন, যমুনা নদীর ভাঙন এ অঞ্চলের কৃষকদের বড় সমস্যা। স্থায়ী বাঁধ নির্মাণ করা গেলে কৃষকরা আরও নিরাপদে চাষাবাদ করতে পারবেন।
তিনি দাবি করেন, বর্তমান সরকার নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে কাজ করে যাচ্ছে। ইতোমধ্যে ফ্যামিলি কার্ড চালু, কৃষকদের ঋণ মওকুফ এবং ইমাম-মুয়াজ্জিনদের ভাতা নিশ্চিতসহ বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এছাড়া খাল খনন কর্মসূচি কৃষি খাতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলেও জানান তিনি।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী এবং বিশ্ব খাদ্য ও কৃষি সংস্থার বাংলাদেশ প্রতিনিধি জিয়াকুন সি। এ সময় কৃষক কবির হোসেন ও কৃষাণী জুলেখা বেগমও বক্তব্য দেন।
অনুষ্ঠান শেষে প্রধানমন্ত্রী টাঙ্গাইল পৌর উদ্যানে কৃষিমেলার উদ্বোধন করেন।











